Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশাল বিশাল মাছের মেলা

এ বছর যমুনা নদী থেকে পাওয়া ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ ছিল মেলার মূল আকর্ষণ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:০৫ পিএম

বগুড়ার গাবতলীর গোলাবাড়ি এলাকায় বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী "পোড়াদহ মেলা" শেষ হয়েছে। পোড়াদহ মেলা মূলত বিশাল আকৃতির মাছের জন্য বিখ্যাত।

প্রতিবছরের মত এবারও মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল নদী থেকে আনা বিশাল আকৃতির সব মাছ। 

এ বছর যমুনা নদী থেকে পাওয়া ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ ছিল মেলার মূল আকর্ষণ। পশ্চিম মহিষাবান গ্রামের শুকুর আলী মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে সর্বমোট ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ ছাড়াও ৪৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রির জন্য আনেন রানীরপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান। 

এছাড়াও মেলার অন্যতম আকর্ষণ বিশাল আকারের মাছ আকৃতির মিষ্টি। হরেক রকম মিষ্টির মধ্যে স্থান পেয়েছে ১০ কেজি ওজনের মাছের আকৃতির মিষ্টি যা প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাঘ মাসের শেষ বুধবার সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রায় ২০০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ মেলা। প্রতি বছরের মত গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ফাঁকা মাঠে মেলা বসেছিল। মেলা উপলক্ষে আশপাশের ২০টি গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় উৎসব। প্রতিবছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের প্রতিটি বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন এসে ভীড় জমায়।

অন্য কোনো উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য  আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ যেন মহিষাবান গ্রামের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলা দু'দিনের জন্য হলেও মেলার আমেজ থেকে যায় সপ্তাহব্যাপী। 

শফিকুল ইসলাম, ঈমান আলী, রাশেদ সরকার, মোজাম্মেল হকসহ কয়েজন মাছ বিক্রেতা জানান, এবার তারা বিভিন্ন আকারের আইড়,গাঙচিতল, চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, হাঙড়,  গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড, কালবাউশ, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এনেছেন। 

এসব মাছ সাধারণত পাঁচ কেজি থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে। প্রতি কেজি গাঙচিতল ও চিতল ৬০০ থেকে হাজার টাকা, বোয়াল ৭৫০ থেকে দেড় হাজার, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, হাঙড়ি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন তারা।

এ ছাড়াও মেলার অন্যতম আকর্ষণ মাছ আকৃতির বিশাল মিষ্টি পাওয়া যায় ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। মাছ-মিষ্টি ছাড়াও মেলায় কাঠ বা স্টীলের আসবাবপত্র, ফার্ণিচার, কুল বরই, কৃষিপণ্য, মাংসসহ বিভিন্ন খাবার জিনিস বিক্রি হয়। মেলায় চিত্ত বিনোদনের জন্য সার্কাস, মোটরসাইকেল খেলা, নৌকা খেলা ও নাগরদোলা পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন ধরে মহিষাবান গ্রামের মণ্ডল পরিবার মেলা পরিচালনা করে আসছেন। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স নেন। যে কারণে মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মেলাটির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি জানান, "প্রশাসনসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন হয়েছে।"

About

Popular Links