Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উসাইন বোল্টের চেয়েও ক্ষিপ্র বিড়াল!

সেখানে চিতাবাঘ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী, অতএব চিতাবাঘের ধারের কাছেও নেই তিনি!

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫১ পিএম

টোকিও অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণ জিতে নিয়েছেন ইতালীয় দৌড়বিদ মার্সেল জ্যাকবস। এতে তার সময় লেগেছে মাত্র ৯.৮০ সেকেন্ড। জামাইকান নারী দৌড়বিদ ইলেইন থম্পসন-হেরাহ ১০০মিটার দৌড়ে স্বর্ণ জিতেছেন এবং সময় নিয়েছেন ১০.৬১ সেকেন্ড।

অন্যদিকে কিংবদন্তি জামাইকান দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের রেকর্ডের ধারের কাছেও ছিলেন না তারা। অলিম্পিকের আটবার স্বর্ণপদক জেতা এ দৌড়বিদের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনও ভাঙতে পারেনি কেউ। 

দ্য ওয়্যায়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উসাইন বোল্টের ঘণ্টাপ্রতি ২৭ মাইল দৌড়ানোর এ গতি নাকি হার মানবে বিড়ালের কাছেও! সেখানে চিতাবাঘ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী। তবে, চিতাবাঘের ধারের কাছেও নেই তিনি।

একটি প্রাণী কত দ্রুততম হবে সেটা নির্ভর করে পেশির আকারের উপর। পেশি যত বড় হবে, সামর্থ্য হবে তত বেশি, গতিও তত বেশি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি মোটেই ঠিক নয়, একটি হাতি কিন্তু কখনোই একটি হরিণের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারবে না। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, বহুপদী প্রাণীদের জৈবিক বিবর্তন তাদের হাঁটার ধরণের উপর নির্ভর করে। 

এ বিষয়ে সর্বশেষ গবেষণাটি করেছিলেন একজন জার্মান বিজ্ঞানী মায়রিয়াম হার্ট। তার এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীর মেটাবলিজম বা বিপাকের ওপরই নির্ভর করে গতির সক্ষমতা। বিপাকের মাধ্যমে প্রাণীদেহ খাবার থেকে শক্তি উৎপাদন করে, যেই শক্তির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যায় শরীরের পেশিগুলোয়। সেই শক্তিকে ব্যবহার করেই দৌড়ানোর ক্ষমতা প্রায় প্রাণীদেহ। 

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ছোট প্রাণীদের তুলনায় বড় প্রাণীদের শক্তি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কেননা ভারী দেহকে নড়াতে বেশি শক্তি ক্ষয় করতে হয় তাদের।

যদিও বিজ্ঞানী গুন্টার এবং তার দল, এ গবেষণার বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। সেখানে শরীরের ধরণ, দৌড়ানোর জ্যামিতি ও শরীরে ভিন্নধর্মী শক্তিদের ভারসাম্য রাখা সংক্রান্ত ৪০টিরও বেশি পরিমিতি নিয়ে একটি বায়োমেকানিকাল মডেল তৈরি করেছেন তারা।

গড়ে মানুষ দৌড়াতে পারে ঘণ্টাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৪ মাইল। গতির জন্য শরীরের আকারই একমাত্র নির্ণায়ক নয়। গতি পায়ের দৈর্ঘ্যের উপরও নির্ভর করে। যেসব প্রাণীর পা লম্বা তারা তাদের শরীরকে দ্রুত সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

চারপায়ী প্রাণীরা কেন মানুষের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারে এ বিষয়ে গুন্টার বলেন, "মানুষের পা  দুইটি, এজন্য জোড়ে দৌড়াতে পারেনা বিষয়টি সেরকম না। মানুষের শরীর মাটির সাথে লম্বালম্বি অবস্থানে থাকে, যে কারণে মধ্যাকর্ষণের পূর্ণ বলই আমাদেরকে নিচের দিকে টানে। যে কারণে মধ্যাকর্ষণের পূর্ণ বল আমাদের নিচের দিকে টানে। দ্বিপদ প্রাণীরা বিবর্তিত হয়ে শক্ত মেরুদণ্ডের অধিকারী হয়েছে। এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা গতির থেকে স্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।"

যেসব প্রাণীর শরীর মাটির সাথে সমান্তরালে থাকে তাদের মেরুদণ্ড আরও নমনীয় হয়। 

তাত্ত্বিকভাবে এই গবেষণা বেশ সাড়া ফেলে দিলেও এখনও প্রাণীদের নিয়ে গবেষণাগারে পরীক্ষা চালাতে পারেনি তারা। গুন্টার ও রকারফেলার দুইজনই এ ব্যাপারে একমত যে, এ গবেষণার উপসংহার টানতে হলে তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। 

উসাইন বোল্টের রেকর্ড কি আদৌ কেউ কখনো ভাঙতে পারবে? হয়তো পারবে, হয়তো পারবে না। এমনকি বোল্টের রেকর্ড যদি কেউ ভাঙেও তবে তার সেই রেকর্ড শুধু মানবসমাজের জন্যই থাকবে।

About

Popular Links