Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট মস্তিষ্কের ক্ষতি ও প্রতিকার

গুরুতর পর্যায়ে ভাইরাসটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ১০:৫৯ পিএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুধু শারীরিকভাবেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই বিষয়টা ঠিক তেমন নয়।

করোনাভাইরাস থেকে অনেকে মুক্তি পেলেও, আক্রান্তরা পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে না। এই ভাইরাস বিভিন্নভাবে শরীরের ক্ষতি করে যায়, পরবর্তীতে এ সমস্যাগুলো দূর হতে অনেক সময় লেগে যায়। এর সংক্রমণের ফলে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি হয় না, পাশাপাশি মস্তিষ্কেরও ক্ষতি হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তীতে অনেকেই মস্তিষ্কের বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগতে দেখা গেছে।

অনেকের স্মৃতিশক্তি কমে গিয়েছে, মনোযোগ কমেছে কিংবা ক্লান্তি বেড়েছে। এমনকি যাদের আগে থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল তাদের আরও বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও আরও বিভিন্নধরনের লক্ষণ যেমন- মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, বিষণ্ণতা, খিঁচুনি, ফোকাসে অক্ষমতা, স্ট্রোক, আচরণে পরিবর্তন, গন্ধ এবং স্বাদ হ্রাস, চেতনা হ্রাস, ইত্যাদির সম্মুখীন হচ্ছেন আক্রান্তরা।

মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তের কারণ

গবেষণায় এখনও জানা যায়নি, করোনাভাইরাস ঠিক কেন আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রভাবিত করে। তবে, গবেষকরা ধারণা করছেন, গুরুতর পর্যায়ে ভাইরাসটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে যেমন- মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে প্রবেশ করতে পারে এবং এর ফলেও সংক্রমিত হতে পারে।

গবেষণায়, তারা মেরুদণ্ডের তরলে ভাইরাসের জিনগত উপাদান খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলেও জানায় তারা। আরেকটি কারণ হিসেবে তারা বলেন, অতিমাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শরীর যখন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন শারীরিক প্রদাহ হতে পারে যা টিস্যু এবং অন্যান্য অঙ্গের জন্যে ক্ষতিকর।  

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কারণে শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্গ্যান ফেলিওর বা ব্রেন কমপ্লিকেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

আসুন, করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা থেকে মুক্তির কিছু উপায় জেনে নেই-

নিজের ব্রেন চ্যালেঞ্জিং:

মস্তিষ্কের পেশীগুলোকে শক্তিশালী ও সবল রাখার জন্য তাকে কিছু মস্তিষ্ক-উদ্দীপক কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিজেকে ব্রেন চ্যালেঞ্জিং কাজে ব্যস্ত রাখলে মস্তিষ্ক নতুন কোষ গড়ে তুলতে পারে। সেইসঙ্গে আমাদের মনোযোগও বৃদ্ধি পেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া:

যে খাবারগুলো আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে সেই খাবারগুলো বেছে নিতে হবে যেমন: সবুজ শাকসবজি, ফ্যাটি ফিশ, বেরি জাতীয় খাবার। এ ধরনের খাবারগুলো মস্তিষ্কের রক্তনালী ঠিক রাখে এবং সেরিব্রোভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

মেডিটেশন করা:

মেডিটেশন করার অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কের জন্যে খুবই উপকারি। মনকে শান্ত করা এবং একাগ্রতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হলো ধ্যান করা কিংবা মেডিটেশন করা। এতে করে, মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করতে পারে মেডিটেশন।

পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা:

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে অনেকটাই নির্ভর করে ঘুমের ওপর। তাই করোনাভাইরাসের থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর প্রতি রাতে ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। প্রতিদিন রুটিন মেনে ঘুমটা ঠিক করে নিতে হবে। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও একই রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম বিভিন্নভাবে আমাদের শারীরিক ও মানসিক উপকার করে।

About

Popular Links