Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডায়েট নিয়ে হতাশ?

অনেকেই মাঝপথে ডায়েট বন্ধ করে নিজেকে দোষারোপ করেন তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন মাঝপথে ডায়েট বন্ধ হয়ে গেলে দোষ নিজের নয় বরং ডায়েটের

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ০৪:১১ পিএম

ডায়েট। বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই শব্দটির ব্যবহারিক প্রয়োগও দিন দিন বাড়ছে। তবে ডায়েট ঠিক মতো করতে না পারলে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি। অনেকেই ডায়েট শুরু করেও মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝপথে ডায়েট বন্ধ হয়ে গেলে দোষ নিজের নয় বরং ডায়েটেরই। অদ্ভুত শোনালেও এর পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

সাইকোলজি টুডে’র এক প্রতিবেদনে অধ্যাপক মারিয়ানা হ্যারিস বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অনাহারে মানুষের খাবার গ্রহণের আচরণ এবং শরীরের ওজন নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়।”

আরও পরিষ্কার করে বললে, যখন কেউ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের শরীর পরিবর্তন করতে ডায়েট করবেন।  তখন প্রথম যে কাজগুলো সবাই করেন তা হলো- সবচেয়ে নতুন ধরনের ডায়েট নিয়ে গবেষণা করা, ব্যায়াম পরিকল্পনা লিখে ফেলা এবং খাদ্য তালিকা থেকে নিজের পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া। 

এরপর ডায়েট শুরু করলে প্রথম কয়েকদিন খুব ভালো লাগে, নতুন শক্তি উৎপন্ন হচ্ছে মনে হয় এবং এতে নিজেকে আরও অনুপ্রাণিত করা যায়। কিন্তু দুই বা তিন সপ্তাহ পরেই এই ছবি পুরো বদলে যায়। তখন নিজেকে প্রচণ্ড অলস মনে হয়, ক্ষুধার্ত মনে হয় এবং শরীরে আর এক ফোঁটাও শক্তি অবশিষ্ট নেই মনে হয়। আর এক সময় ডায়েট ভেঙে পছন্দের খাবারের স্বাদ নিতে শুরু করে দেয় সবাই। 

আর এরপর নিজের ইচ্ছাশক্তির অভাব, খাবারের প্রতি দুর্বলতা অথবা কোনো পরিকল্পনায় অটল থাকতে না পারায় নিজেকেই দোষারোপ করতে থাকে।

তবে অধ্যাপক মারিয়ানা হ্যারিসের মতে, নিজের সমালোচনা না করে ডায়েটের সমালোচনা করা উচিত। কারণ এখানে দোষ আপনার না বরং ডায়েটের। 

হ্যারিস জানান, সবাই ডায়েটের সময় নিজের সাথে যুদ্ধ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যান্সেল কিজ নামে একজন গবেষক শরীরে অনাহারের প্রভাব নির্ধারণের জন্য একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় ৩৬ জন সুস্থ, সবল পুরুষ সৈনিকের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ সীমিত করে দেন। তাদের শরীরের ওজন ২৫% কমিয়ে আনার জন্য, প্রতিদিনের খাবার কমিয়ে মাত্র দুই বেলায় আনা হয় যা ১৫০০ ক্যালরির সমান।

পরবর্তীতে গবেষকরা দেখেন, ডায়েটের ফলে খাবার লুকানো, খাবার ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়া এবং খাবারের পরিমাপ করার মতো কিছু নতুন খাবার গ্রহণ আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত খাবার খাওয়া বা খাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিমাণ বেশি দেখা গেছে।

এমনকি কিছু সৈনিক শরীরের ওজন এবং আকৃতি সম্পর্কেও উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেন। আবার সময়ের সাথে সাথে, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য গ্রহণ সীমিত করে দিয়েছে।

যখন আমরা ক্যালোরি গ্রহণ সীমাবদ্ধ করি বা কিছু খাবার বাদ দেই, আমাদের শরীর একটি অভ্যন্তরীণ হুমকির সম্মুখীন হয়। আর যখন শরীর হুমকির মুখে পড়ে তখন খাবারের আকাঙ্ক্ষা বাড়তে শুরু করে। এবং নিষিদ্ধ খাবারগুলো সামনে আসলেই আমাদের শরীর সেগুকো যতটা সম্ভব খেয়ে পূর্ণ সুবিধা নেয়।

তাহলে ডায়েটিং করার জন্য স্বাস্থ্যকর পন্থা কী?

অধ্যাপক হ্যারিস এর উত্তর দিয়ে বলেন, “যখন আমরা মনে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার আর কোনদিন খাবো না তখন সেই খাবারের প্রতি আরও আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। এজন্যই মিষ্টিবিহীন ডায়েট শুরু করলে, একসময় আইসক্রিম মাথায় ঘুরতে থাকে। এবং সামনে আইসক্রিম দেখলে আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। খাবারের মোহ কাটিয়ে উঠার মূল চাবিকাঠি ডায়েট নয় বরং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া যা মেটাবোলিজম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। তাই ভালো পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ডায়েট শুরু করা উচিত নয়।”

About

Popular Links