Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফুলনগরীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আসন্ন দুই দিবসে কোটি টাকার ফুল বিক্রি করার ইচ্ছা চাষিদের

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:৪৫ পিএম

ভালোবাসা প্রকাশের মহা মূল্যবান প্রতীক ফুল। প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে আপন করে নেওয়া ছাড়াও প্রতিবছর বসন্ত বরণ, ভালোবাসা দিবস, বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন, স্বাধীনতা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কিংবা বিজয় দিবসের মতো দিনগুলোতে ফুলের শুভ্রতা দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানো বাঙালীর যুগ-যুগান্তরের প্রথা। তাই এসব দিবসে ফুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। ফুলের এই অতিরিক্ত চাহিদার সিংহভাগ যোগান দিয়ে থাকেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো মানুষ যেন বিশেষ দিনের সকালটি ফুলের সৌরভ দিয়ে শুরু করতে পারেন সে জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের ফুল চাষিরা।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম দিকে ফুলচাষে ধস নামলেও আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন তারা।

কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর গ্রামের অন্যতম সফল ফুলচাষি এস এম টিপু সুলতান। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে গোলাপ, জারবেরা, চন্দ্র মল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুলের চাষ করছেন তিনি। আসছে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তিনি একাই ৫ লাখ টাকার গোলাপ ফুল বিক্রি করেছেন।

মাঠের পর মাঠ জুড়ে লাল গোলাপের দৃষ্টিনন্দন বাগান ঢাকা ট্রিবিউন

টিপু জানান, তিনি ২৭ বছর ধরে ফুলের সঙ্গে জড়িত। ঝিনাইদহ ছাড়া ঢাকাতেও তার ফুলের দোকান আছে। প্রথমে গ্লাডিওলাস দিয়ে ফুলের বাগান শুরু করলেও আস্তে আস্তে জারবেরা, গোলাপের চাষ শুরু করেন। 

তিনি জানান, যশোরের গদখালীর পর ফুলের আরেকটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। 

তিনি বলেন, “এবার গোলাপ ফুলের বাজার খুব চড়া যাচ্ছে। এক চালানে একটি গোলাপ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে।”

কথা বলে জানা গেল, কর্মীদের বেতন, ফুলের পরিচর্যা, সেচ, সার, ওষুধ, পরিবহন খরচসহ প্রতিবছর টিপুর ২৪-২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে, বছরে তিনি অর্ধ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেন।

বাগানের যত্ন নিচ্ছেন এক চাষি ঢাকা ট্রিবিউন

উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ডুমুরতলা গ্রামের ফুল চাষি মিজানুর রহমান জানান, এ বছর ৫ কাঠা জমিতে তিনি গাঁদা ফুলের চাষ করেছেন। আশা করছেন আসন্ন দুই দিবসে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী জানান, জেলার প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু মহামারি শুরু হওয়ার পর ফুলের আবাদ কমেছে। চলতি বছর মাত্র ২১৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুলের আবাদ হয়েছে।

জেলায় আবাদকৃত মোট ফুলের মধ্যে ৭০%-ই গাঁদা। এছাড়াও গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্র মল্লিকা, জারবেরাসহ নানা জাতের দৃষ্টিনন্দন ফুল চাষ করা হয়।

সরেজমিনে বালিয়াডাঙ্গা বাজার ও কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, ফুল চাষিরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। দুপুর থেকে শত শত কৃষক তাদের ফুল ভ্যান, স্কুটার ও ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন পরিবহনে করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। সেখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরের ফুলের আড়তে পৌঁছে যাবে এসব ফুল।

চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঢাকা ট্রিবিউন

এ সকল স্থানের আড়তদারেরা বিক্রির পর তাদের কমিশন রেখে বাকি টাকা পাঠিয়ে দেন। ফলে ফুল চাষিদের টাকা খরচ করে ফুল বিক্রির জন্য কোথাও যেতেও হয় না। 

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, জেলার মধ্যে কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর গ্রামে সবচেয়ে বেশি ফুলের চাষ হয়। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।

ত্রিলোচনপুর ইউপি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা বলেন, “এই এলাকার মাটি খুবই উর্বর। ফুল চাষ করে এলাকার দুস্থ নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে এলাকার উন্নয়ন ঘটছে। বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকার সুনামও বাড়ছে।”

About

Popular Links