Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিজুর রঙে রঙিন পাহাড়

পাহাড়ের বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পার্বত্য জনপদের সবাই

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০১:৪৬ এএম

উৎসবের নানা রঙে পাহাড়ে চলছে বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু এবং বিহু’র বর্ণিল আয়োজন। পাহাড়ের বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পার্বত্য জনপদের সবাই।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি’র ধর্মীয় আচার। পাহাড়জুড়ে তাই এখন চলছে উৎসবের আমেজ।

দিনের শুরুতে পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বেদনা ভুলে ভবিষ্যতের প্রত্যয়ের কথা জানালেন পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ।

ফুল ভাসাতে আসা তরুন-তরুণীরা বলেন, “বিগত দুটি বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বৈসাবি উৎসব পালন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার মহা ধুমধামে পালন করা হবে।”

পাহাড়ে চলছে তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব। মঙ্গলবার ছিল ‘ফুল বিজু’। এদিন ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা হয় ঢাকা ট্রিবিউন

মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজিয়েছেন রাঙ্গামাটির চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ। ঘর সাজানো শেষে পানিতে ফুলের সঙ্গে পুরোনো বছরের দুঃখ-বেদনাকে ভাসিয়ে দিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার আলো জ্বালেন তারা।

সকাল থেকেই রাঙ্গামাটি শহরের রাজবন বিহার ঘাটে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসাতে আসা চাকমা তরুণী নবনীতা বলেন, “বিজু মানে আনন্দ, বিজু মানে ভালোবাসা, বিজু মানে উৎসব-উল্লাসে মেতে ওঠা। আজকে হচ্ছে পবিত্র ফুল বিজু। পবিত্র এই দিনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ও যেন পবিত্র হয় ভগবানের কাছে সে প্রার্থনাই করছি আমরা।”

রাজবন বিহার ঘাটে “বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু, বিহু উদযাপন কমিটি”র আয়োজনে নদীতে ফুল ভাসানো অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “গত দুই বছর মহামারির কারণে পাহাড়ে কোনো উৎসব হয়নি। তাই, মানুষের এতো উচ্ছাস ও এতো রং আমাদের অন্তর ছুঁয়ে গেছে।”

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরও বলেন, “রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সকলেই এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি। এই উৎসব আমাদের সবাইকে এক করেছে। বাংলাদেশের এই সৌন্দর্য ও বৈচিত্রকে আমরা ধারণ করবো, অন্তর থেকে চর্চা করব। সকলের মঙ্গল হোক।”

শহরের ত্রিপুরা পল্লী হিসেবে খ্যাত গর্জনতলীতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীও কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে বৈসুক উৎসবের শুভ সূচনা করেন। পানিতে ফুল ভাসাতে আসা শিয়াই ত্রিপুরা বলেন, “চৈত্র সংক্রান্তিকে বিদায় দিয়ে গঙ্গা মাকে পূজা করি এবং নতুন বছর যেন সবার ভালো কাটে সেই প্রার্থনা করলাম।”

পাহাড়ে চলছে তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব। মঙ্গলবার ছিল ‘ফুল বিজু’। এদিন ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা হয় ঢাকা ট্রিবিউন

ডোজী ত্রিপুরা বলেন, “হারি বৈসুকের দিনে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি পুরনো সব কষ্ট, গ্লানি ধুয়ে-মুছে চলে যাক।”

খইমই ত্রিপুরা নামে আরেক তরুণী জানান, আজকের দিনে গঙ্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা ছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমন কিছু যাতে আর না হয়।”

পানিতে ফুল ভাসানোর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও খেলাখুলা। এ সময় ঐতিহ্যবাহী বলিখেলা দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারো মানুষ।

বুধবার উৎসবের প্রধান দিন, যা “মূল বিজু” নামেই পরিচিত। এদিন দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি বেড়াবে ছেলে-বুড়ো সবাই। পাঁচন আর দোচোয়ানির স্বাদে মুগ্ধ হয়ে আর পাহাড়ি গানের সুরে মন্ত্রমুগ্ধ পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আনন্দ।

About

Popular Links