Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কবি ফররুখ আহমদের জন্মবার্ষিকী আজ

জীবনের এক পর্যায়ে এসে তিনি হয়ে ওঠেন মুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক। তা স্বীকারোক্তির মতো রচিত তার কাব্যে

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ০৪:১২ পিএম

“লোহুতে পার্থক্য নাই বনি আদমের।
 শিরায় শিরায় আর ধমনীতে দেখি বহমান
 এক রক্তধারা।”

- হাতেম তায়ী

এই কবিতার কবি ফররুখ আহমদ। ১৯১৮ সালের আজকের দিন ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীরামপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তার জন্ম। ১৯৩৭ সালে তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি। তার অনেক খ্যাতিমান সহপাঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায় ও ফতেহ লোহানী। স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজী সাহিত্যে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন ফররুখ আহমদ। পড়া অসমাপ্ত থাকে। তিনি প্রবেশ করেন কর্মজীবনে।

১৯৪৩ সালে তিনি কলকাতা আই.জি. প্রিজন অফিসে যোগ দেন। পরের বছর সিভিল সাপ্লাই অফিসে নিয়োগ। ১৯৪৫ সালে তিনি মোহাম্মদী পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ফররুখ আহমদ ৪৭ - এর দেশভাগের পর ঢাকায় আসেন। রেডিও পাকিস্তান হয় তার নতুন কর্মস্থল।

যৌবনে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ফররুখ আহমদ। তার শিক্ষক ছিলেন ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক বিপ্লবী এম এন রায়। জীবনের পরের সময়ে তিনি অন্য চিন্তায় প্রভাবিত হন। হয়ে ওঠেন মুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক। তা স্বীকারোক্তির মতো রচিত তার কাব্যে।

“যখন শুনেছি আমি মৃত্যু আছে সূর্যেরও, অম্লান
 অগণন জ্যোতিষ্কের ভাগ্যলিপি মৃত্যু দিয়ে ঘেরা,
 তখনি হয়েছে মনে এ আকাশ রহস্যের ডেরা,
 তখনি হয়েছে মনে এ জীবন ক্ষণিকের গান।”

: মুহূর্তের কবিতা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অকুণ্ঠ সমর্থক ছিলেন ফররুখ আহমদ। ধর্মীয় কুসংস্কার ও পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তার কলম । ১৯৬৬ সালে আইয়ুব খান প্রদত্ত “সিতারা-ই ইমতিয়াজ” খেতাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি সংগ্রামের প্রতিও তার সমর্থন ছিল।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম (কাব্যনাট্য), মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী (কাহিনীকাব্য), সিন্দাবাদ, কাফেলা।

ফররুখ আহমদের শিশুদের জন্য লেখাও কম নয়। উল্লেখ করা যায়, পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), চাঁদের আসর (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০) ।

১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে এই সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব ঢাকায় প্রয়াত হন।

About

Popular Links