Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকরী যোগাযোগ কৌশল

কোথায়, কখন কতটুকু বলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে; না জানার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি জীবনের অনেক ক্ষেত্রে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৬:৫৪ পিএম

অফিস থেকে ঘরে ফিরে দেখলাম এক সবুজ তরুলতা জানালা দিয়ে আমার ঘরের ভেতর উঁকি দিয়ে আছে। কাছে গিয়ে পর্দা সরিয়ে দেখলাম, সে একা নয়, ডিসের তার পেঁচিয়ে সে তার বিশাল পরিবার নিয়ে আমার ৪ তলার রুমে চলে এসেছে। কোথায় যেন শুনেছিলাম, বেলা পরে গেলে আর গাছের ফুল, পাতা ছিঁড়তে নেই। একটু রাগ নিয়ে ওদের শুনিয়ে বললাম, "এদিক দিয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছে? এটা কি যাবার পথ?" মনে মনে ভাবলাম সকালেই এদেরকে ঝেঁড়ে বিদায় করতে হবে।

ওমা! ঘুম ভেঙে দেখি অবাক কাণ্ড! তিনি নিজেই মাথা ঘুরিয়ে বাইরে রওনা দিয়েছেন। মনে মনে এবার হাসলাম! একটা লতা গাছও বুঝি মানুষের কথা বুঝে আর মানুষকে বুঝিয়ে বললেও কাজ হয় না। ওর আর কী দোষ, আমার রুমের দেয়াল সবুজ, পর্দাও সবুজ। পথ ভুল করে সবুজ লতার ঢুকে পরাটা ছিল যেন এক আশীর্বাদ।

এবার একটু খেয়াল করে দেখি তো, আমরা কোথাও অনধিকার চর্চা করে ঢুকে পরছি না তো! প্রশ্ন করা হচ্ছে একজনকে আর স্মার্টনেস দেখাতে উত্তর দিচ্ছি আমি, নিজের অতিরিক্ত তথ্য অন্যের সঙ্গে শেয়ার করে বিরক্তি উদ্রেক করছি, বন্ধু-মহলে কথা বলায় পটু বলে কারণে-অকারণে বেশি কথা বলে অযাচিত মনোযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি না তো? 

তাহলে কার্যকরী যোগাযোগ কীভাবে করতে পারি?

ধরুন, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বহুল প্রচলিত কচ্ছপ ও খরগোশের গল্প বলতে লাগলো, যে গল্পে কচ্ছপ ধীরগতি নিয়েও জিতেছিল। আপনি নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে মাঝপথে বলে উঠলেন," আরে থামেন, এই গল্প সবাই জানে।"। এভাবে একজনকে ছোট করে আপনি নিজেকে কখনোই জ্ঞানী প্রমাণ করতে পারেন না।


আরও পড়ুন: কৈশোরের প্রেম এতো তীব্রতা নিয়ে আসে কেন?


আমরা প্রতিটি মানুষ আলাদা, আমরা যখন কথা বলি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব ধরণ থেকে বলি। তাই মনোযোগী শ্রোতা হলে আপনি বক্তার অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞতা, মূল্যবোধ থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে উপস্থিত অন্যদের প্রতিক্রিয়া থেকেও নতুন কিছু শিখতে পারবেন। মনোযোগী শ্রোতা হলে আপনার প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করবে আপনি অন্যের সঙ্গে কতটুকু সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পেরেছেন।

সেল্ফ ইন্ট্রোডাকশন: সেল্ফ ব্র‍্যান্ডিং এখন এক জনপ্রিয় শব্দ। তবে আগে সেল্ফ ইন্ট্রোডাকশন শিখুন। প্রথম পরিচয়েই আপনাকে ছক্কা হাঁকাতে হবে এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসুন। ইনবক্সে যোগাযোগ করতে প্রতিদিন হাই, হ্যালো লিখে বিরক্ত না করে সত্যিকার কোনো কাজের কথা থাকলে তা গুছিয়ে লিখুন।


আরও পড়ুন: কাজের ফাঁকে মেডিটেশন বাড়াবে আপনার কর্মদক্ষতা


পরিচয়ের ধাপ সমূহ: প্রথমে শুভেচছা বিনিময় যেমন, সালাম, শুভ সকাল, হাই, হ্যালো করুন। নিজের নাম এবং এই মুহুর্তে কোথায় পড়ছেন কিম্বা কাজ করছেন জানান। যাকে নক করেছেন, তাকে কীভাবে চেনেন, তার সম্পর্কে জানেন এমন দু এক কথার রেফারেন্স দিয়ে হালকা প্রশংসা করতে পারেন। যে উদ্দেশ্যে নক করেছেন সেটা গুছিয়ে জানাতে পারেন। পরিশেষে শুভ কামনা এবং পরিচিত হয়ে ভাল লেগেছে জানাতে ভুলবেন না। 

নন ভার্বাল কমিউনিকেশন: কথা না বলেও যে যোগাযোগ জোরদার করা যায় তা সম্পর্কে জানুন। হাসি মুখ, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, দাঁড়ানো কিংবা বসার পজিশন ঠিক রাখা ইত্যাদি খেয়াল রাখুন। যেমন, বড় সোফা হলে এক সাইডে বসুন, একদম মুখোমুখি কিংবা পাশাপাশি না বসে কোনাকোনি বসার চেষ্টা করুন। কথার ফাঁকে ফাঁকে মাথা নেড়ে ইতিবাচক সংযোগ তৈরি করতে পারেন। 

মিটিং শিডিউল: "আপনি ফ্রি হলে আমাকে জানাবেন" এ রকম না বলে, যার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন তার কাছ থেকে একটি মিটিং শিডিউল নিয়ে সময়মত যোগাযোগ করুন। বিশ্বাস করুন এ জগতে কেউ আপনার জন্য ফ্রি হয়ে বসে নেই। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আপনিই যোগাযোগ করুন।


আরও পড়ুন: সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে! 


সাজ-পোশাক: আহামরি সাজসজ্জা এড়িয়ে আরামদায়ক, পরিস্কার, হালকা রঙের পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবহার করলে অপরপক্ষের প্রত্যক্ষণের জন্য তা আরামদায়ক হতে পারে। যেকোনো রঙ কিংবা নকশার পোশাক পরতেই পারেন, সে স্বাধীনতা আপনার আছে। তবে পোশাকে আপনার অভিব্যক্তি এবং রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা পারস্পরিক যোগাযোগে প্রভাব ফেলে।

যা করবেন না:

১। স্টোরি টেলিং স্টাইলে যোগাযোগ কৌশল নতুন শিখেছেন বলে নিজের ঢোল অতিরিক্ত পেটানো।

২। অতিরিক্ত হাস্যরসাত্মক ভাব নিয়ে সব কিছুতেই কৌতুক করে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভাবা থেকে বিরত থাকুন।

৩। নিজেকে প্রভাবশালী বোঝাতে নিজের সম্পর্কে অতিরঞ্জিত প্রসংশা করা, উপদেশ দেওয়া এবং ঘুরে ফিরে অন্যের সমালোচনা এবং নারী, শাড়ি-গয়নার আলাপে আটকে থাকবেন না। 

৪। বারবার ফোনে কল দিয়েই যাওয়া, না ধরলে মূল বিষয় না জানিয়ে, কথা বলতে চাই লিখে বারবার মেসেজ দিবেন না।

৫। অতিরিক্ত হাত-পা নাড়ানো, নখ খোটানো, একটু পরপর মোবাইলের দিকে তাকানো, প্যান্ট এডজাস্ট করা, জামা-ওড়না একটু পরপর ঠিক করা, কথা বলতে গিয়ে থুতু, কফ ফেলা ইত্যাদি করবেন না।

আপনার ব্যাক্তিগত দক্ষতার জোরে মাত্র ৫ সেকেন্ডেই একটি ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন যেমন সম্ভব আবার প্রকৃত নির্দেশনার অভাবে আপনি হয়ত সারাজীবনই ভুল দরজায় কড়া নেরে যাচ্ছেন। তাই সময় থাকতে নিজেকে শুধরে নিন। 


ফারজানা ফাতেমা, মনোবিজ্ঞানী 


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।



About

Popular Links