Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিজেকে ভাগ্যবান ভাবলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে

গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ যদি নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারে তাহলে তার মধ্যে মানসিক শক্তি তথা মনোবল বাড়ে, যা তাকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায়ও আশাবাদী করে তোলে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:০৫ পিএম

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেকেই ভাগ্যে বিশ্বাস বা ভাগ্যের ওপর ভরসা করি। তবে ভাগ্যে বিশ্বাস বা ভরসা করা আর নিজেকে ভাগ্যবান মনে করার বিষয়টি কিছুটা আলাদাই। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিজেকে ভাগ্যবান ভাবলে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির মতো আত্ম উৎকর্ষতামূলক গুণাবলির বিকাশ ঘটে।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে ভাগ্য বলতে যা ভাবি এবং মনস্তত্ত্বে ভাগ্যের যে পরিভাষা এই দুটির মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই ভাগ্যকে একটি আলাদা স্বত্বা হিসেবে দেখে, যা আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।

গবেষণায় ভাগ্য নিয়ে সব থেকে অভিনব যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো- ভাগ্যকে বিশ্বাস করলে একজন মানুষের জীবনযাপন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলাফলই বদলে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজের সক্ষমতা বা সামর্থ্যের থেকে প্রাকৃতিক বিভিন্ন শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখে তারাই ভাগ্যকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে। এই ধরনের মানুষ সাধারণত বিভিন্ন মানসিক সমস্যা যেমন বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, হতাশার মতো বিষয়গুলোকেও বিশ্বাস প্রসূত ফলাফল হিসেবে দেখে।

তাদের সঙ্গে যা কিছুই ঘটুক তারা মনে করে, সেগুলো কোনো না কোনো বাহ্যিক শক্তির কারণেই ঘটছে। এ ধরণের চিন্তা ভাবনা বা মানসিকতাকে বিচার করলে সাধারণভাবে এটিকে ইতিবাচক কোনো মানসিকতা বা চিন্তাভাবনা হিসেবে অভিহিত করা যায় না। কারণ, এটি মানুষকে নিজের ওপর থেকে আস্থা, নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বাস হারিয়ে ফেলার জন্য বাধ্য করে।

তবে ভাগ্যের ওপর ভরসা না করে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারলে তা বরং ইতিবাচক হয়ে ওঠে বলেই মনস্তত্ববিদরা জানিয়েছেন।

তাদের মতে, একজন মানুষ যদি নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারে তাহলে তার মধ্যে মানসিক শক্তি তথা মনোবল বাড়ে, যা তাকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায়ও আশাবাদী করে তোলে। তাদের গবেষণাগুলোতে সৌভাগ্য, আশাবাদ এবং ইতিবাচক মানসিকতার মধ্যে বেশ গভীর একটি সূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, যে ব্যক্তির মধ্যে নিজেকে ভাগ্যবান হিসেবে ভাবার মানসিকতা যত প্রবল, সে ততো বেশী আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী। তাদের মাঝে যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিপদ মোকাবিলার মনোবল থাকে।

তাদের মাঝে এই আত্মবিশ্বাস থাকে যে, তারা যেকোনোভাবে সফল হবেই। আর এই আত্মবিশ্বাসকেই মনস্তত্ত্ব বিজ্ঞানে সফলতার মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একইভাবে যারা নিজেদের দুর্ভাগ্যের অধিকারী হিসেবে মনে করে, তাদের মাঝে সব সময়ই সবকিছু নিয়ে একটি নেতিবাচক মানসিকতা কাজ করে। তাদের মনে হয়, কোনো কাজই তাদের দ্বারা সম্ভব নয় বা তারা কোনো কাজেই সফল হতে পারবে না।

অর্থাৎ নিজেকে দুর্ভাগ্যের অধিকারী ভাবলে স্বভাবতই তাদের মনোবল কমে যায়। তারা কোনো বিপদে পড়লে অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়ে এবং সেই বিপদ থেকে মুক্তির কোনো উপায়ই খুঁজে পায় না। ফলে, এ ধরণের মানুষ সফলতা থেকে বেশ দূরেই থাকে।

নিজেকে দুর্ভাগ্যের অধিকারী ভাবার মানসিকতা শুধু হতাশা বা বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে না বরং এটি তার মনোবল কমিয়ে দেয়।

তাই বলা যায়, নিজেকে ভাগ্যবান ভাবা বা সৌভাগ্যের অধিকারী মনে করা কোনো খারাপ কাজ নয়। নিজেকে সব সময় ইতিবাচক শক্তির আওতাধীন ভাবলে জীবন ইতিবাচক দিকেই ধাবিত হবে এবং ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

About

Popular Links