Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সম্পর্ক সুন্দর করে

ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকলে সে সম্পর্ক যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকে এবং জীবনযাপন অনেকটাই সহজ হয়ে যায়

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০২:২৯ পিএম

প্রতিটি সম্পর্কই সুন্দর হয় দুজন সঙ্গীর উভয়ের সহযোগিতা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে। সম্পর্ক কখনোই একজনের চেষ্টায় সফলতা পায় না। হোক সেটা প্রেমের সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য সম্পর্ক। সবক্ষেত্রেই দুজনের পক্ষ থেকেই চাই ইতিবাচক এবং আন্তরিক মনোভাব।

আর এই সহযোগিতা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক ও মানসিকতা তখনই গড়ে ওঠে যখন দুজনের মধ্যে একে অপরকে বোঝা এবং যেকোনো বিষয়ে ভাগ নেওয়ার অভ্যাস থাকে। একে অপরের সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলে দুজনের মধ্যেই মানসিক প্রশান্তি বিরাজ করে।এই ধরনের অভ্যাস দুজনকেই একে অপরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার সুযোগ করে দেয়।

ফলে সম্পর্কটা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, যার পরিপূর্ণতায় যেকোনো যুগল নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করতে পারে। এ ধরণের সম্পর্ক যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকে এবং তাদের কাছে জীবনযাপন অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

সম্পর্কের রসায়নে কোন কিছুই একদম মেপে মেপে করা সম্ভব নয়। সংসার পরিচালনায় দায়িত্ব, কর্তব্য ও সিদ্ধান্ত দুজন মিলে নেওয়া মানে এটা নয় যে দুইয়ে দুইয়ে চার করে নেওয়া। কখনো কখনো ঘরের পুরুষ সঙ্গীটি বেশি কাজ করে আবার কখনো অপর জন।

আবার কোনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা বিধানের পরিবর্তে অনেক সময়ই আবেগ ও ভালোবাসার গুরুত্ব বেশি থাকে। এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া  নির্ভর করে পরিবেশ পরিস্থিতি, আবেগ, প্রয়োজন এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার ওপর। 

দাম্পত্য সম্পর্ক সুন্দর সঙ্গীর ওপর আধিপত্য বা পরিচালনার সব নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র নিজের কাছে রাখার বা অন্যের মতের গুরুত্ব না দেওয়া কোনো সুযোগ নেই। আর যদি সেটি না হয়, তখন সেই সম্পর্কে দুজনের মধ্যে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব, অভাব দেখা দেয় মানসিক বোঝাপড়ার।

ফলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং সঙ্গীরা একে অপরের পরিপূরক হওয়ার পরিবর্তে এক অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

মনস্তত্ত্ববিদের মতেন, তারাই সুখী দম্পতি যারা সম্পর্ক ও সংসার পরিচালনায় একে অপরকে ছাড় দিয়ে চলার মানসিকতা লালন করে। একটি সম্পর্কে দুজন সঙ্গীর কেউই নিজেকে অবহেলিত, ক্ষমতাহীন, নিয়ন্ত্রণের অধিকার শূন্য এবং অযাচিত ভাবতে চাইবে না।

এ ধরনের ভাবনা কখনোই দাম্পত্য জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে পারেনা। কিন্তু সম্পর্কে যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নীতি নির্ধারণে উভয়েই নিজেদের মতামতকে একে অপরের কাছে সম্মানিত, গুরুত্ববহ ও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে দেখে তখন তাদের মাঝে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন তৈরি হয়। যা তাদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

এটাও ঠিক যে, সম্পর্কে এভাবে একে অপরকে সবসময় সহজসাধ্য হয়ে ওঠে না। অনেক সময়ই দেখা যায় একই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যেই দুই ধরনের গভীর আবেগ কাজ করছে। তখন সময় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেসব বিষয় সুরাহা করতে হবে।

সব বিষয়ে এক মত পোষণ করাও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক সময় ঘরের অনেক ছোট খাটো বিষয় নিয়েও মতভেদের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, বিবাদ কিংবা মনোমালিন্যও দাম্পত্য জীবনেরই অংশ।

এসব ক্ষেত্রে অধিক সিরিয়াস না হয়ে বরং ছোট খাটো সমস্যায় ছাড় দিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া সবকিছু ধরে না রেখে ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দেওয়াই একজন উপযুক্ত সঙ্গীর দায়িত্ব।

সবারই নিজস্ব মত এবং দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। একে অপরের মত ও চিন্তা ভাবনাকে গুরুত্ব দিলে বা কিছু সময় অপরের মতকেই বেশী প্রাধান্য দিলে সম্পর্কে নিজে ছোট হয়ে যাওয়ার কোনো বিষয় তৈরি হয়না। এতে করে বরং দুজনের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ে। 

তাই বলাই যায়, বিবাদ বা মতভেদকে গুরুত্ব না দিয়ে, কিছু সময় একে অপরকে ছাড় দিয়ে চলার মাঝেই প্রকৃত দাম্পত্য সুখ এবং সন্তুষ্টি লুকিয়ে থাকে। কারণ, এতে উভয়ের কাছেই মনে হয় যে তারা দুজনেই জয়ী হয়েছেন।

About

Popular Links