Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যে গর্ভবতী মায়ের খাদ্যাভাসের প্রভাব

মায়ের খাদ্যাভ্যাস গর্ভকালীন সময়ে সন্তানের শারীরিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও বিশেষ ভূমিকা রাখে

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৪২ পিএম

সন্তানের সুষ্ঠ বিকাশ ও বেড়ে ওঠার পেছেন গর্ভাবস্থায় মায়ের সুস্থতার বিষয়টি কমবেশি সবারই জানা। তবে নতুন কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন সময়ে মায়ের খাদ্যাভ্যাস তার অনাগত সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

আমরা যা কিছু খাই তার প্রভাব আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে, এই বিষয়টি আমরা সকলেই জানি। খাদ্যাভ্যাস আমাদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় খাদ্যাভ্যাস রোগ-ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। আর সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বলা হয় না। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উভয়ই যদি ভালো থাকে তাহলেই পরিপূর্ণ সুস্থ বলা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায়, একজন গর্ভবতী মা এবং তার অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের ওপরও খাদ্যাভ্যাসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা বলছে, মায়ের সঙ্গে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এই খাদ্যাভ্যাস প্রভাব বিস্তার করে।

গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান করা বা মদ্যপানের মতো বিষয়গুলো শিশুর বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ ধরনেরর স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নির্দেশনা সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। তাছাড়া, ভিটামিনের অভাব যে সন্তানের মানসিক গঠনকে বাধাগ্রস্ত করে এটিও বেশ আলোচিত বিষয়। কিন্তু মায়ের সার্বিক খাদ্যাভ্যাস সন্তানের মানসিক বিকাশে ভূমিকা পালনের বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা। বর্তমানে এই বিষয়টি বেশ আলোচিত এবং এটি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে। 

গবেষণায় দেখে গেছে, মায়ের খাদ্যাভ্যাস গর্ভকালীন সময়ে সন্তানের শারীরিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর এই প্রভাব সন্তান জন্মের পরেও সারাজীবন থেকে যায় কারণ মাতৃগর্ভেই সন্তানের শরীর ও মন গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অনুকূল খাদ্য গ্রহণ করেন তাদের সন্তানেরাও শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিয়ে জন্ম নেয়। 

এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, মা যেসব খাদ্য গ্রহণ করছেন সেটি শুধু মায়ের শরীরের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সন্তানও গর্ভকালীন সময়ে এই খাদ্যের ওপর নির্ভর করেই বেড়ে উঠছে এবং তারা শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও এর ওপরই নির্ভর করছে। তাছাড়া, মায়ের মানসিক অবস্থা অনাগত সন্তানের মনস্তত্ত্বে সরাসরি প্রভাব ফেলার কারণেও খাদ্যাভ্যাস শিশুর মনস্তত্ত্বেও প্রভাব বিস্তার করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যিনি গর্ভকালীন সময়ে যিনি পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করেন তার সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য যিনি সুষম খাদ্য গ্রহণ করছেন না তার সন্তানের তুলনায় ভালো থাকে। সুষ্ঠু খাদ্যাভ্যাস বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি মানসিক সমস্যা থেকে মাকেও দূরে রাখে। আর যারা অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করে তাদের মধ্যে এ ধরনের মানসিক সমস্যা অনেক বেশি হয়। ফলে, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট সাইকোলজি টুডে’তে এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ের যত্ন মানেই শিশুর যত্ন। তাই মায়ের মানসিক ও শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারলে সেটি সন্তানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও ভূমিকা পালন করবে।গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভাসের প্রতি জোর বাড়াতে তাই সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

About

Popular Links