Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ধকল সামলাতে যত্ন নিন মানসিক স্বাস্থ্যের

এই কঠিন সময়টি সবচেয়ে ক্ষতি করে মানসিক স্বাস্থ্যের

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম

যেকোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রচণ্ড পরিমাণে মানসিক ধাক্কা সামলাতে হয় আমাদের। সঙ্গীর সঙ্গে মধুময় স্মৃতি, প্রতিশ্রুতি ভুলে আবেগকে জয় করে বাস্তবতা মোকাবিলা সহজ কথা নয়। আর এই কঠিন সময়টি সবচেয়ে ক্ষতি করে মানসিক স্বাস্থ্যের।

ভালোবাসার সম্পর্কে যখন বন্ধনগুলো আলগা হয়ে যায়, তখন বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে। সেটা যেমন দীর্ঘমেয়াদি ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়, তেমনি হয় বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। দুজনের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব, শ্রদ্ধাবোধের অভাব, স্বচ্ছতার অভাব, অহংবোধ, অতিরিক্ত রাগ, মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি, ভিন্ন মানসিকতা, বোঝাপড়ার অভাব দুটো মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ভাঙার পেছনে ভূমিকা রাখে।

যেকোনো সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অত্যন্ত কষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুঃখ, আঘাত, কঠিন আবেগের মধ্যে ডুবে থাকা কিংবা চাপা আবেগ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলে। এই প্রভাবগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে টের না পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে তা ভয়বাহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ভরাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরুবা কবির হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “প্রতিটি সম্পর্ক একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা নিয়ে শুরু হয়, প্রাথমিক দিনগুলো প্রেম এবং সুখে পূর্ণ হয় তবে কখনো কখনো তা স্বল্পস্থায়ী হয়৷ সঙ্গীর থেকে আলাদা হওয়ার ধাক্কা অনেকে সহজে সামলাতে পারলেও অনেক জন্য তা কঠিনই। যাইহোক, আপনি যদি বিচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত মানসিক চাপ এবং অপ্রীতিকর অনুভূতিগুলোকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে না পারেন তবে সেটি আপনার ওপর আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।”

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ধকল সামলে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ:

আপনার মানসিক চাহিদার প্রতি মনোযোগ দিন

আপনার আবেগ প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন সময় যখন একজন বিশ্বস্ত বন্ধু আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিচ্ছেদ একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, এই কষ্ট নিজের মধ্যে চেপে না রেখে বিশ্বস্তজনের সঙ্গে শেয়ার করলে সেটি নিজেকে হালকা হতে সাহায্য করে। এজন্য এ সময় বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় বেশি কাটান। ইতিবাচক আলোচনা করুন, নিজের বলতে ইচ্ছে করা কথাগুলো অকপটে বলে ফেলুন। বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ক অনেকে গ্রুপ আছে, প্রয়োজনে সেখানে যোগ দিতে পারেন কিংবা একজন থেরাপিস্টের সাথে কথা বলতে পারেন।

এমন কাজ করুন যা আপনাকে খুশি রাখে

নিজেকে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত যা আপনার মনকে শিথিল রাখে এবং প্রশান্তি দেয়। এই সময়টাকে মোকাবিলার জন্য নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন এবং এমন লোকদের সঙ্গে দেখা করুন যাদের উপস্থিতি আপনাকে খুশি রাখে। এই ধরনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আপনার হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফেরাতে সহায়তা করবে।

আবেগ লুকাবেন না

আবেগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, একদিন ভালো বোধ করলেন তো পরের দিন কান্না পেতেই পারে। খারাপ লাগা বন্ধ করার কোনো টাইমলাইন নেই। আপনার এ ধরেনর আবেগ লুকাবেন না, সেগুলোকে প্রকাশ পেতে দিন।

নেতিবাচক আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন

বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে আবেগ লুকিয়ে রাখতে না করলেও নেতিবাচক আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছেন আরুবা কবির।তিনি বলছেন, যে পরিস্থিতিতে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তা চিহ্নিত করুন। নেতিবাচক চিন্তাগুলো নেতিবাচক আবেগের জন্ম দেয়। তাই নিজের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে চিহ্নিত করে তা ইতিবাচকে রূপান্তরিত করুন। নিজেকে বলুন, সম্পর্কটা আপনার জন্য সঠিক ছিল না। যা হয়েছে, তা আপাতত আপনার জন্য কষ্টকর হলেও এটাই আপনার জন্য সঠিক। 

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে কথা বলতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করুন। অন্যের কথায় নিজেকে হীনমন্য না ভেবে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। নিজের ভালো দিকগুলো ও সফলতাগুলো দেখার চেষ্টা করুন।

About

Popular Links