Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারীর একাকী ভ্রমণের নিরাপদ ১০ শহর

অবাধে প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের জন্য বহু ভ্রমণপিপাসু নারী প্রতি বছর পারি জমাতে চান দেশের বাইরে। উপরোল্লিখিত ১০টি শহর নারীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য হতে পারে দারুণ সুযোগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ১২:৪৩ পিএম

নানান ধরনের সামাজিক টানাপোড়েন ও সমাজে নারীদের অবস্থান, এগুলোকে উপেক্ষা করে নারীরা আজকে বিস্ময়করভাবে শত শত দেশ জয়ের রেকর্ড গড়ছেন। একজন বিচক্ষণ নারী পর্যটক সব সময় বিশ্ব ভ্রমণে যাওয়ার আগে গন্তব্যের নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে ভালোভাবে অবগত হয়ে নেন। এই লেখাটিতে নারীদের একাকী ভ্রমণের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ১০টি শহর নিয়ে আলোচনা করা হবে।

যে ১০টি শহর নারীদের একাকী ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ




ভ্যানকুভার, কানাডা

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উপকূল পর্বতমালা এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই শহরটি তার উপকূলীয় সৌন্দর্যের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। স্ট্যানলি পার্কে হাটাহাটি করার সময় পশ্চিম কানাডার এই বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকাটিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যাবে। ওয়েস্ট এন্ড এলাকার কফিতে চুমুক দেওয়ার সময় টের পাওয়া যাবে কানাডিয়ানদের আতিথেয়তা এবং বন্ধুত্বটা।

ভ্যানকুভার আর্ট গ্যালারি, লুকআউট টাওয়ার বা ভ্যানকুভার অ্যাকোয়ারিয়ামে মগ্ন থাকার সময় অন্য শহরের সঙ্গে এর তুলনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। সেখানে একা ভ্রমণের কথা মনেই থাকবে না। তাছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য কোলাহলপূর্ণ জায়গা থেকে সবাই পালিয়ে এই ভ্যানকুভারেই আসতে চায়।

আরও পড়ুন- মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে জেনে নিন দেশটির দর্শনীয় স্থান ও খরচ সম্পর্কে



বার্গেন, নরওয়ে

সাতটি পর্বত এবং উত্তর সাগরের উপকূলের পার্শ্ববর্তী নরওয়ের সবচেয়ে সুন্দর এই শহরটি যেন প্রকৃতির এক টুকরো আশীর্বাদ। এর রাস্তা ধরে হাটার সময় মৃদুমন্দ হাওয়া শীষ দিয়ে জানান দেবে যে, ঠাণ্ডা ফিওর্ড পথচারীকে আরও আপন করে নিতে চাইছে। ভেগান বন্দর দিয়ে ব্রিগেন বরাবর সঙ্গ দেবে পুরনো স্থাপত্য এবং ইতিহাস।

ফ্লোয়েনের তাজা খাবারগুলো স্বাদ দিবে অমৃতের। ছোট মাছের বাজার পরিদর্শন শেষে শহরের সীমান্ত আলিঙ্গন করলেও ভ্রমণ পিপাসাটা রয়েই যাবে। তখন সবেমাত্র নতুন আসা পর্যটক ঘুরে আবার ফিরে চলেন অন্তরঙ্গ বার্গেনের উদ্দেশ্যে। এ যেন খেয়াল-খুশিমতো অবাধে বিচরণের এক অপূর্ব নগরী, যার অধিবাসীরা নবাগতকে অভিভূত করতে অভ্যস্ত।

আরও পড়ুন- দেশ-বিদেশ ভ্রমণ আপনার জীবনে যেসব পরিবর্তন আনতে পারে


ভেনিস, ইতালি

স্বপ্নময় ভেনিস শুধুমাত্র নব দম্পতিদের মধুচন্দ্রিমার জন্য নয়। ৬০০ বছর পুরনো এই নগরী একাকী ভ্রমণকারিনীদের জন্যও একটি নস্টালজিক জায়গা। এর ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলো ঘুরে দেখার সময় অবলীলায় মনে হতে পারে, যে ঠিক এরকমই একটা জায়গা হয়ত বহুদিন ধরে স্বপ্নে লালন করে আসছেন।

শিল্পকলায় ভরা দ্য ডোজ প্যালেস এবং সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা ঘুরে দেখার সময় টের পাওয়া যায় যে, ভেনিস তার মানুষকে কাঙ্ক্ষিত প্রাইভেসিটি দিতে পারে। তাই এখানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আর সূর্য অস্ত যাওয়ার লগ্নটি উপভোগের জন্য একটি বারের জন্য হলেও এ সময়টি একা কাটানো উচিত।

আরও পড়ুন- রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণের জন্য ৫টি সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র



আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস

কিছুক্ষণ পরপর লেক দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, কেন আমস্টারডামকে উত্তরের ভেনিস নাম দেওয়া হয়েছে। শহরটি প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ ভ্রমণকারীর পাদচারণায় ধূলিধূসরিত হয়। এত মানুষের ভিড়ে নিঃসঙ্গতা নিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না। কারণ প্রায় ১,৫০০ টিরও বেশি সেতু দেখে শেষ করতে হবে। ভেনিসের মতোই এই শহরটি মন্ত্রমুগ্ধতা সৃষ্টি করবে, কিন্তু তাতে নিরাপত্তাহীনতার ভয় নেই। বরং আছে আদিম ও অকৃত্রিম প্লেটোনিক ভালবাসার রোমান্টিক অনুভূতি।

আমস্টারডাম বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে একটি। ওল্ড সেন্টারের লেক, কেনাকাটা এবং কফিশপ এবং প্লান্টেজের যাদুঘর শহরে যে কোনো নতুন মুখের সান্নিধ্য পেতে সদা প্রস্তুত।

আরও পড়ুন- বিদেশ ভ্রমণ বাড়ায় কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন বেড়েছে ২৩৩%


কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক

একা একা কোথাও হারিয়ে যাবার জন্য এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলটি সেরা হতে পারে। ছোট শহরটি জুড়ে নর্ডিক মিথের গা ছমছমে আবহ নবাগতদের অবাক হওয়ার খোরাক যোগায়। কিন্তু এই চমকে যাওয়াটা নেতিবাচক নয়; বরং এর জন্যই কোপেনহেগেনে বেড়াতে আসেন পর্যটকরা।

নাইহ্যাভেনের লেক আর ভেস্টারব্রোতে কেনাকাটার জন্য হাল্কা পদব্রজে ভ্রমণই যথেষ্ট। তবে ক্লান্ত হয়ে গেলেও ভয় নেই। বড় বড় শহরের জমকালো আলো না থাকলেও নিঝুম সড়ণীয় আড্ডাপ্রিয় প্রতিবেশীরা অকুন্ঠচিত্ত্বে বুঝিয়ে দেবে যে, পথচারিণী নিরাপদ আশ্রয়েই আছেন।

আরও পড়ুন- বর্ষাকালে বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য ১০টি আকর্ষণীয় জায়গা



ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া

শ্বাসরুদ্ধকর স্থাপত্য এবং ইউরোপের অন্যতম সেরা ঐতিহাসিক কেন্দ্রে পরিপূর্ণ ভিয়েনা নগরী। বারোক দুর্গ এবং ইম্পেরিয়াল প্রাসাদের মধ্যে আসা ভ্রমণ গ্রুপগুলো দর্শনীয় স্থান গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের প্রাচীন এই রাজধানী ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় রয়েছে।

এখানকার গথিক গীর্জা এবং স্মারক ভাস্কর্যগুলো দেখার সময় পরিচয় হবে প্রায় শখানেক নিঃস্বঙ্গ পর্যটকদের সঙ্গে। কারও হয়ত ক্যামেরার শাটারে আঙ্গুল, কারো বা চোখে সৌন্দর্য্যের নেশায় মোহগ্রস্ত দৃষ্টি। কিন্তু পর্যটকদের স্রোতের অনুকূলে অবচেতনেই একই সঙ্গে বয়ে চলছে গন্তব্যের দিকে।

এই নিরাপদ নগরীর সংস্কৃতির স্বাদ পেতে হলে হাজার পুলকিত দৃষ্টির সঙ্গে এক হয়ে চোখ রাখতে হবে স্টেট অপেরায়। যোগ দিতে হবে ফিলহারমোনিকের কনসার্টে।

আরও পড়ুন- ঈদের ছুটিতে যেসব দেশ ভ্রমণে যেতে পারেন



সিঙ্গাপুর সিটি

এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বের এই দ্বীপ নগরীটি জীবন্ত সাক্ষী হয়ে আছে ১৮১৯ সালের ব্রিটিশ বাণিজ্য উপনিবেশের। বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্রে থাকা অত্যাধুনিক হয়ে ওঠা শহরটি প্রায় ৫৫ লাখ লোকের আবাসস্থল। এই কোলাহলপূর্ণ শহর জুড়ে অনেক বছর ধরেই নিজেদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করছেন হাজারো নারী পর্যটক। ঘনবসতিপূর্ণ হলেও এর ৫০-এরও বেশি সবুজ উদ্যান একে রীতিমত উদ্যানের শহর বানিয়ে ফেলেছে।

এমনকি এগুলোতে ঘুরতে পায়ের চাপে পিষ্ঠ হওয়ার ভয় নেই। বরং এখানকার বাহারি খাবারে এশিয়ান ফিউশন এবং আমেরিকান খাবারের মিশ্রণ বহু জাতির মেলবন্ধনের সংকেত দেবে। এখানকার মরিচ কাঁকড়া খাওয়ার সময় অপরিচিতরা বৈঠকি ভঙ্গিতে নিজেদের মধ্যে এর অদ্ভূত স্বাদের অনুভূতি শেয়ার করতে পারেন।

আরও পড়ুন- ‘মাত্র' ১ কোটি টাকায় ১২টি ডিজনি পার্ক ভ্রমণের সুযোগ!


লিসবন, পর্তুগাল

লিসবন আটলান্টিক মহাসাগরের ধারে অবস্থিত এটি ইউরোপীয় শহরটি সগর্বে প্রকাশ করে এর সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে। সাতটি পাহাড়ের উপর গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটিতে স্বভাবতই পাহাড় বেয়ে উঠতে আসেন হাজারো হাইকার। খাড়া ঢাল বেয়ে একা একা ওপরে ওঠার সময় সবাই সতর্ক থাকেন রহস্যময় পাথরযুক্ত রাস্তাগুলোর ব্যাপারে।

অ্যালফামা, কিয়াডো এবং বাইরো অ্যাল্টোর আশেপাশের এলাকাগুলোর প্রাণবন্ত দৃশ্য মন কেড়ে নেওয়ার মত। আর সেখানের কোনো খাবারের দোকানে খেতে যেয়ে দোকানীদের অপূর্ব ব্যবহার সেই ভূবন ভোলানো দৃশ্যকে যেন আরও ন্যায্যতা দেয়। এই জায়গাতে মুলত সবাই নতুন খাবারের স্বাদ পরখ করতে যেতে চায়।

আরও পড়ুন- পুরুষ স্বজন ছাড়া আফগানিস্তানে বেশি দূরত্বে নারীর ভ্রমণ নিষিদ্ধ করলো তালেবান


হংকং, হংকং

তিয়ান তান বুদ্ধের শহর হংকং নারীদের ভ্রমণের জন্য পৃথিবীর নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর অবিশ্বাস্য শান্ত পরিবেশের সঙ্গে আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের মিথস্ক্রিয়া এক পরম প্রাপ্তি। পো লিন মনাস্ট্রি পর্যন্ত ২৬৮টি ধাপ পেরনোর সময় হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায় বুদ্ধে প্রতি তীর্থযাত্রীদের টানটা।

উন্নত অর্থনীতির শহর হওয়ায় এখানে অপরাধের হার খুবই কম। এমনকি প্রতি বছর তা আরও কমের দিকে যাচ্ছে। তবে ১% অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হলেও পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর রাত পর্যন্ত সক্রিয় থাকায় রাত ১২টার পর আলোকসজ্জাটা এখানে অদ্ভূত কোনো ব্যাপার নয়। সে অনুসারে স্থানীয়রা অনায়াসেই রাতে চলাফেরা করতে পারেন। পরিবহন ব্যবস্থাও অনেক রাত পর্যন্ত চালু থাকে।

আরও পড়ুন- বিদেশভ্রমণে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ভারত-সৌদি আরব


লন্ডন, ইংল্যান্ড

লন্ডনের সদা বিকশিত এবং বহুজাতিক সংস্কৃতির বিপজ্জনক গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয়দের মনযোগ নিজেদের জীবন নিয়েই। তাই অল্প কিছু সময়ের জন্য হলেও পারস্পরিক বাক বিনিময় ও সৌজন্যতার ক্ষেত্রে এরা বেশ ভদ্র এবং সহানুভূতিশীল প্রকৃতির হয়ে থাকে।

তবে এর গতিশীল লোকালয়ে একা ভ্রমণকারি নারী প্রায় সময় স্বাগত বোধ নাও করতে পারেন। তবে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাধীন ভ্রমণকারির জন্য লন্ডন দারুণ একটি জায়গা। শোরেডিচ, ব্রিক লেন বা ক্যামডেন টাউনের বাজারে একা একাই ঘুরে বেড়িয়ে লন্ডনের খাবার খ্যাতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে নেওয়া যায়। থিয়েটার আর নাইট লাইফের জন্য হারিয়ে যাওয়া যাওয়া যেতে পারে গুঞ্জনপূর্ণ ওয়েস্ট এন্ডে।

আরও পড়ুন- বাংলাদেশিরাও এখন ওমরাহ ভিসায় পুরো সৌদি আরব ঘুরতে পারবে

শেষ কথা

অবাধে প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের জন্য বহু ভ্রমণপিপাসু নারী প্রতি বছর পারি জমাতে চান দেশের বাইরে। উপরোল্লিখিত ১০টি শহর নারীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য হতে পারে দারুণ সুযোগ। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির এখানে কোনো স্থান নেই। জনজীবন এখানে নিজেদের জীবনধারণ নিয়েই বরং বেশি ব্যস্ত। এমনকি দিকভ্রান্ত কোনো পথিক এখানে সাহায্য চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন না। এ কথা বলাই বাহুল্য যে, নিঃস্বঙ্গ ভ্রমণকারী নির্দ্বিধায় এই জায়গাগুলোতে খুঁজে পাবেন নিজের ঘরের মত আরামদায়ক অনুভূতিটি।

About

Popular Links