Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বান্দরবানে ‘পাখির নীড়ে’ এক রাত

সকালে পাহাড়ি পাখির কিচির-মিচিরে ঘুম ভাঙলেই জানালা দিয়ে দেখা যাবে মেঘের হাতছানি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫০ পিএম

আঁকাবাকা রাস্তা দিয়ে চলতে থাকলে দেখা মেলে গাছের গায়ে পাখির বাসা। পাখির মতো মানুষও যদি গাছে বাসা বাঁধতে পারত, তবে কেমন হতো!

পার্বত্য জেলা বান্দরবানকে বলা হয় পাহাড়কণ্যা। শরতের শেষে শীত যখন তার আগমনী বার্তার জানান দেয়, মেঘের রাজধানী বান্দরবান তখন যেন ছেয়ে থাকে সুবিশাল মেঘের চাদরে। 

পাখির মতো নীড়ে থাকার যে আকাঙ্খা পূরণ করতে বান্দরবানে রয়েছে তিনটি মাত্র ট্রি-হাউজ। ট্রি-হাউজগুলো গাছের ওপর কাঠ ও বিভিন্ন বোর্ড দিয়ে তৈরি করা। 

এগুলোর ভেতরে রয়েছে আনুষঙ্গিক সব সুবিধা। সকালে পাহাড়ি পাখির কিচির-মিচিরে ঘুম ভাঙলেই জানালা দিয়ে দেখা যাবে মেঘের হাতছানি। এখানে যেমন আপনি পাহাড় দেখতে পাবেন তেমনি পাবেন ছোট ছোট বেয়ে চলা ঝিরির মৃদু শব্দ। আপনি যদি একইসঙ্গে পাহাড় ও প্রকৃতিপ্রেমী হন তাহলে দুইয়ে মিলে এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে আপনার জন্য। 

বান্দরবান শহর থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে এই ট্রি-হাউজগুলো। এর অবস্থান বান্দরবান গ্রীনপিক রিসোর্টে। 

২০১২ সালে রিসোর্টটির যাত্রা শুরু। তবে ট্রি-হাউজগুলো বানানো হয় ২০১৯ সালে। দেশের সিলেট ও চট্রগ্রামে ট্রি-হাউজ থাকলেও সেগুলোতে রাত্রিযাপনের সুযোগ নেই। বান্দরবানের গ্রীনপিক রিসোর্টে রয়েছে সেই সুযোগ।  

দুটি কাপল ও একটি ট্রিপল রুম রয়েছে এই ট্রি-হাউজে। মৌসুম ও ছুটির দিন ভেদে প্রতি রাতে ভাড়া গুনতে হবে ৬-৮ হাজার থাকা। 

ঢাকা থেকে সস্ত্রীক বেড়াতে আসা রাসেল খান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করলেও এবারই প্রথম তিনি কোনো রিসোর্টে  ট্রি-হাউজের দেখা পেয়েছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি গাছের বাড়িতে থাকতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।

গ্রীনপিক রিসোর্টের কর্ণধার সানজানা সামরোজ বলেন, “ট্রি-হাউস গ্রিন পিকের প্রধান আকর্ষণ। আমাদের এখানে আরও দুটি ট্রি-হাউস তৈরির কাজ চলছে। আমাদের দক্ষ কর্মীরা অতিথিদের সেরা আতিথেয়তা প্রদানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। অনন্য স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যগত আতিথেয়তাই আমাদের লক্ষ্য। ছোটবেলায় আমরা  ট্রি-হাউসে থাকার যে স্বপ্ন দেখতাম এখানে সেটাই বাস্তব রুপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

ছবি: /আলীমুজ্জামান সাফওয়ান

ট্রি-হাউজে রাত্রি যাপনের কথা এলেই সঙ্গে চলে আসে নিরাপত্তার বিষয়টি।  ট্রি হাউজ তৈরিতে কাজ করছেন একঝাঁক তরুণ প্রকৌশলী। তাদের চৌকস বুদ্ধিতে গাছের সঙ্গে অবিচল সেঁটে আছে ট্রি-হাউজগুলো। 

রিসোর্টটির প্রকৌশলী দিপ্ত মাহমুদ বলেন, “আমরা সবসময়ই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছি। আমাদের স্ট্রাকচার এতটা সহজ ছিল না, প্রতিটি হাউজ পাহাড়ের খাদে মাটি থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে নির্মাণ করেছি। বিশেষ করে গাছগুলো প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে, এজন্য আমরা এমন এক ধরনের স্টিল স্ট্রাকচার ব্যবহার করেছি যেখানে গাছের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাউজগুলো উপরের দিকে উঠবে পাশাপাশি ঝড় বা বাতাসের সময় বিশেষ স্প্রিং ট্রি হাউজের নিয়ন্ত্রণ নেবে।”

তাছাড়াও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের রয়েছে নিজস্ব চাঁদের গাড়ি। প্রতিদিনই চাহিদা অনুযায়ী তারা বিভিন্ন প্যাকেজে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সেবা দিয়ে থাকে। 

এছাড়াও বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো হলো- শুভ্র নীলা, জীবন নগর পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট ও জাদুঘর, বাকলাই জলপ্রপাত, রিজুক জলপ্রপাত, চিংড়ি ঝিরি জলপ্রপাত, জিংসিয়াম সাইতার জলপ্রপাত, পাতাং জারি জলপ্রপাত, ফাইপি জলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, কেওক্রাডাং পাহাড়, তাজিনডং পাহাড় প্রভৃতি। 

বান্দরবান যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবানের বাস রয়েছে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে যেতে চাইলে বাসে কিংবা ট্রেনে চট্টগ্রামে নেমে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে এসি/ননএসি বাসে চড়ে সোজা বান্দরবান। প্রতি ৩০ মিনিটে একটি করে বাস ছাড়ে বহদ্দারহাট থেকে। ঢাকা থেকে বান্দরবান সরাসরি বাস ভাড়া নন এসি ৮০০-৯০০ টাকা এবং এসি ১৫০০-১৮০০ টাকার মধ্যে।

About

Popular Links