Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্যারিস থেকে দোহা, জার্সি উন্মাদনায় ভাসছে বাংলাদেশও

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পছন্দের দলের জার্সি তো চাই ই চাই

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০৪:২৭ পিএম

ক্যালেন্ডারের পাতায় কেটে গেছে চারটি বছর। রাশিয়ায় দম নেওয়া আনন্দের ফোয়ারা পুনরায় ছুটতে শুরু করেছে কাতারের আল বাইতে এসে।

মেসি, রোনালদো ও নেইমারদের শেষ বিশ্বকাপ তাই  আসর  যতোই রঙিন হোক না কেনো, ফুটবল ভক্তদের মনের কোণে বয়ে বেড়াচ্ছে হতাশার ছাপ। এই যখন অবস্থা তখন প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের জার্সি যোগ করেছে বিশ্বকাপে নতুন মাত্রা।

বাঙালি ক্রিকেট পাগল জাতি হলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কেবিনেট পর্যন্ত যেনো চলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ। সেই দ্বৈরথে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পছন্দের দলের জার্সি তো চাই ই চাই!

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি জার্সি বিক্রির মার্কেট গুলিস্তান। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা।

এ বছর গুলিস্তানের বড় মার্কেট থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই দেখা মিললো জার্সি বেচা-কেনা। গত কয়েকদিন একটু ঝিমিয়ে চললেও বর্তমানে চলছে জার্সি বিক্রির হিড়িক। ছোট থেকে বড় সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ পছন্দের দলের জার্সি কিনছেন। 

গুলিস্তান কাঠের মার্কেটের দোতলায় এক যুগ ধরে জার্সি ব্যবসা করে আসছেন মো. রাহেল মিয়া। 

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানালেন, বিশ্বকাপ এলে তাদের ব্যবসা রমরমা হয়। এছাড়া সারা বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও ক্লাব ফুটবলের জার্সি বিক্রি করেই তাদের চলতে হয়। তবে বিশ্বকাপে বদলে যায় সে চিত্র। 

“প্রতিদিনই পাইকারি ও খুচরা মূল্যে কয়েক হাজার জার্সি আমার এখান থেকে বিক্রি হয়।” 

ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার জার্সি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সির গ্রাহকও কম-বেশি আছে।

তবে ফুটবল বিশ্বকাপের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি ফুটবল ক্লাবের জার্সি বিক্রি কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাপক এই চাহিদার সুযোগ নিয়েছে বেশ কিছু জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। 

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী শ্রাবণ আহমেদ বলেন, “গত এক মাস থেকেই জার্সির অনেক চাহিদা। কিন্তু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দেখা যায় সবসময় সাইজ মিলিয়ে জার্সি দিতে পারি না। মার্কেটে চাহিদা থাকায় কারখানাগুলো জার্সির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে নতুন করে জার্সিও আনতে পারছি না।”

মার্কেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে ফুটপাতে এলেও জার্সির শত শত ভাসমান দোকান। তাদের কেউই সারা বছর ফুটপাতে জার্সি বিক্রি করেন না!! তবে বিশ্বকাপ উন্মাদনা যখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তখন তারাও নাম লেখান মৌসুমি জার্সি বিক্রেতা হিসেবে। 

আর জার্সির অনেক বড় একটি অংশের যোগান দেন এই অস্থায়ী জার্সি বিক্রেতারা।  

সারা বছর জার্সি বিক্রি করেন কি-না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাসমান দোকানি জানালেন, “৬-৭ বছর এখানে দোকান করি। আমার মালের কোনো ঠিক নাই, কখনো শার্ট-প্যান্ট বিক্রি করি, আবার কখনো মেয়েদের জামা কাপড়ও থাকে। এখন বিশ্বকাপের জন্য জার্সি উঠাইছি।”

“আপনাদের দোয়ায় টুকটাক কিছু বেচা-কেনা হয়। এ দিয়েই সন্তানদের লেখাপড়া করাই, সংসার চালাই।”

গুলিস্তানে জার্সির মান ও দোকানভেদে রয়েছে দামের পার্থক্য।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সিই চাহিদার শীর্ষে আলীমুজ্জামান সাফওয়ান/ঢাকা ট্রিবিউন

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা জার্সিগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি। তাছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ কারখানায় তৈরি হয় জার্সি। এসব জার্সির বেশিরভাগ চলে যায় গুলিস্তানসহ ঢাকার বেশ কিছু পাইকারি ও খুচরা মার্কেটে। 

গুলিস্তানে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। কেউ কেউ আবার এক দাম ৫০০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। তবে একটু ভালো মানের জার্সি কিনতে হলে যেতে হবে স্পোর্টস শো-রুমগুলোতে। সেখানে আপনার পছন্দের জার্সি পেয়ে যাবেন ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে। আর রেপ্লিকা কিনতে হলে গুনতে হবে ১,০০০-১,২০০  টাকা পর্যন্ত। 

গুলিস্তানের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জার্সির চাহিদা অনুপাতে সরবারাহ নেই। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন চলমান ডলার ইস্যু ও এলসি সমস্যার কথা। সে কারণে অতিরিক্ত দামের পাশাপাশি সময়মতো পণ্যও বুঝে পাচ্ছেন না তারা।

এতসব ছাপিয়ে বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত মানুষ জার্সি কিনছে ভিড় করে। অনেকে আবার জার্সির পেছনে লিখিয়ে নিচ্ছেন নিজের নাম। এতে খরচ পড়ছে ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত। 

গুলিস্তানে জার্সি কিনতে আসা মো. মকবুল বলেন, “আমার পছন্দের দল ব্রাজিল। ব্রাজিলের জার্সি কেনার জন্য গুলিস্তানে এসেছি, পছন্দের দলের জার্সি সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি আশা করছি ব্রাজিল অবশ্যই এবার বিশ্বকাপ জিতবে।”

এছাড়া অনলাইনেও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে জার্সির। এতে ক্রেতাদের সাড়াও মিলছে বেশ। অনালাইনে জার্সি বিক্রির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম “জার্সি ফ্রিক বিডি“ ও “জার্সি ভার্স” নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।

যারা ভিড় ঠেলে দামাদামি করে জার্সি কিনতে চান না, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জার্সি অর্ডার করছেন। 

এই বিশ্বকাপ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের সীমা নেই। কারণ গত দশকের বেশ কয়েকজন সেরা খেলোয়াড়ের এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। 

তাই ভক্তদের চাওয়া মেসি, রোনালদো বা নেইমার যেই হোক, বিশ্বকাপ জয়ের পূর্ণতা নিয়ে মাঠ ছাড়ুক যোগ্য দল, জয় হোক ফুটবলের।

About

Popular Links