Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুখ দিবসে জেনে নিন সহজে সুখী হওয়ার উপায়

আন্তর্জাতিক সুখ দিবস আজ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩, ১১:৫৫ এএম

“সবাই তো সুখী হতে চায় তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয়না। জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা. .  .।“ লোকে যাই বলুক না কে, সবাই যে সুখী হতে চায় সেটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।  

সুখী হতে আমরা সবাই চাই। কিন্তু আদতে সুখ বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি আর কীভাবেই বা সুখী হওয়া যায় সেটা অনেকের কাছেই অজানা।

সুখ বা মানসিক প্রশান্তির অর্থ একেকজনের কাছে একেকরকম। কিছু মানুষের কাছে দৈনন্দিন জীবনে ভালো কিছু অভিজ্ঞতাই তার কাছে সুখের অনুভূতি। আবার অনেকের কাছে নিজের মনের চাহিদা গুলো পূরণ হওয়াই তাদের কাছে সুখ।

মনের ও জীবনের এই চাওয়া পাওয়ার দোলাচলে অনেকের কাছে জীবনের লক্ষ্য সাধনে সফল হওয়া এবং গভীর ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতিগুলোর পূর্ণতার সংমিশ্রণই সুখের সংজ্ঞা। 

সবমিলিয়ে সাধারণভাবে বলা যায়, যে কাজে বা যে অবস্থায় মানসিক শান্তি পাওয়া যায় সেটিই সুখের অনুভূতি প্রদান করে। অবস্থা বা কাজে ভিন্নতা থাকলেও মানসিক প্রশান্তিই সুখের মূল। আর মানসিক প্রশান্তি থাকলেই সেই ব্যক্তি নিজেকে সুখী মনে করতে পারেন।

অনেকেই পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা বিভিন্ন ঘটনাকে সুখের মূল কারণ হিসেবে মনে করেন। কিন্তু মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, সুখ বা সুখের অনুভূতি প্রকৃতপক্ষে আমাদের মস্তিষ্কপ্রসূত একটি বিষয়। তাই পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা ঘটনার পরিবর্তন না করেও একজন মানুষ যদি তার মাঝে ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে এবং নিজেকে সুখী মনে করতে পারে তাহলে তার মস্তিষ্ক বা মন তাকে সুখের অনুভূতিই দেবে। 

আমাদের মনোভাবই আমাদেরকে যেকোনো পরিস্থিতি বা বিষয়কে সহজ বা জটিল, সুখকর বা দুঃখজনক অনুভব করায়। আমরা যদি বিপদে ভেঙে পড়ি তাহলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে। আর যদি আমরা বিপদে ঘুরে দাঁড়াবার মানসিক শক্তি লালন করতে পারি তাহলে দুঃসময় সুসময়ে পরিবর্তিত হতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়না। তাই, নিজেকে সুখী ভাবতে পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। যা প্রয়োজন সেটি হলো নিজের মনের ভাবনাগুলোর পরিবর্তন, নিজের মাঝে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো।

কিছু সহজ কাজের মাধ্যমে আপনি নিজেকে সুখী মানুষ হিসেবে দেখতে পারবেন। এগুলোর মধ্যে প্রথম হলো- যেকোনো অবস্থায় নিজের মধ্যেকার ইতিবাচক মানসিকতা যেমন আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, সাহস ইত্যাদি না হারানো। দ্বিতীয়ত, নিজেকে সব সময় প্রাণোচ্ছল রাখার চেষ্টা করা, জীবনের সব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করে বাঁচা। সামাজিক সম্পর্কগুলোকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা। নেতিবাচক বা প্রতিকূল বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী না হওয়া।

আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সবসময়, সব অবস্থায় নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করা। এটিই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যা আপনাকে সব অবস্থায় ইতিবাচক মানসিকতা ধারণ করতে এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে বা নিজেকে সুখী ভাবতে সহায়তা করবে।

আজ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসে নিজেকে সুখী করতে ইতিবাচক এই মানসিকতা চর্চার প্রতিশ্রুতিটা তাই করেই নিতে পারেন। হ্যাঁ, আজ ২০ মার্চ, আন্তর্জাতিক সুখ দিবস।

২০১২ সালের ২৮ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনে জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিরা দিবসটিকে স্বীকৃতি দেন। এর পর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের একাধিক দেশ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে আসছে।

সুখ দিবস পালন বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রস্তাবে বলা হয়, মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য সুখে থাকা। ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিতে দিবসটি পালন করা হবে। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ওপর পূর্ণ এক বছর জরিপ পরিচালনা করে এই দিবসে সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করে থাকে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের উপদেষ্টা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা অর্থনীতিবিদদের প্রতিনিধি জেম এলিয়েন দিবসটির প্রতিষ্ঠাতা। তবে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস প্রচলনের প্রচারটি শুরু হয় মূলত আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভুটানের হাত ধরে। দেশটিতে ইতোমধ্যে সুখ-সূচকের ভিত্তিতে জাতীয় সমৃদ্ধির পরিমাপের প্রচলন করা হয়েছে। তারা জাতিসংঘের কাছে বছরের একটি দিন সুখ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানায়। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে “আন্তর্জাতিক সুখ দিবস” পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

About

Popular Links