Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শরীরের চিরস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসায় ‘নতুন কৌশল’

এ সময় ক্রনিক পেইন কমানোর বিশেষ এক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন গুডরুন। এই পদ্ধতিতে ত্বকের নিচে এক নিউরোমাস্কুলার স্টিমুলেটর ইমপ্লান্ট করা হয়

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ০৯:২০ পিএম

শরীরে প্রচণ্ড ব্যথার যারা ভুক্তভোগী তারা জানেন এটি একদম দিশেহারা করে তোলে। তারা ফিজিওথেরাপি, রিহ্যাব, মাল্টি মোড পেন থেরাপি ইত্যাদি অনেক কিছুই করে থাকেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। চিকিৎসকেরাও বলেন, সারা জীবন ওষুধ খাওয়া ছাড়া অন্যকোনো উপায় নাই।

তেমনি একজন রোগী বা ভুক্তভোগী জার্মানির গুড্রুন গেয়ারমার-ক্রিংস। তিনি ছয় বছর আগে হালকা ডিস্ক প্রল্যাপসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেরে উঠলেও পিঠের ব্যথা থেকেই গিয়েছিঠল। মেডিকেল পরীক্ষায় তার পেশির দুর্বলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন, ছোট পেশিতে বেশি চর্বি জমেছে৷

এর পর তিনি অন্য অনেকের মতো ফিজিওথেরাপি, রিহ্যাব, মাল্টি মোড পেন থেরাপি ইত্যাদি করে দেখেছেন। কিন্তু উপকার সেভাবে পাননি। বিশেষ করে রাতে তার ব্যথা চরম পর্যায়েই থাকত। 

স্মৃতিচারণ করে গুডরুন বলেন, ‘‘আমি পেইন থেরাপিস্টের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বস্ত করতে পারেননি। চিকিৎসক বলেছিলেন, ‘সারা জীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হবে।’ শুধু পেন কিলার নয়, অ্যান্টি এপিলেপটিকামও খেতে হয়েছে, যার তীব্র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে।”

কড়া ওষুধ সত্ত্বেও ব্যথা দূর হয়নি। ফলে তিনি তার মতো করেই সমাধান খুঁজে চলছিলেন। এ সময় কাকতালীয়ভাবে ক্রনিক পেইন কমানোর বিশেষ এক চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। এই পদ্ধতিতে ত্বকের নিচে এক নিউরোমাস্কুলার স্টিমুলেটর ইমপ্লান্ট করা হয়। নতুন এই যন্ত্রের মধ্যে ছোট ইম্পেটাস ও একটা প্রোব আছে। 

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ড. ইয়ান শিলিং বাছাই করা কয়েকজন রোগীর ওপর সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে নিউরোমাসকুলার পদ্ধতিতে পেশির গভীর অংশকে উদ্দীপিত ও সক্রিয় করতে ‘পুনরুদ্ধার ও সহায়তামূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এভাবে রোগীরা সক্রিয়ভাবে ব্যায়াম করতে পারেন।”

প্রক্রিয়াটি এমন,  পিঠের ত্বক ছোট করে চিরে দিয়ে পিঠের পেশির গভীরের স্নায়ু পর্যন্ত সিমুলেশন প্রোব ঠেলে ঢোকানো হয়। নিতম্বের প্রধান এক্সটেন্সর পেশিতে ছোট ইম্পেটাস বসানো হয়।

রিমোট কনট্রোলের সাহায্যে সিমুলেশন চালু করা যায়। যন্ত্র তখন স্নায়ুতে বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাঠায় পেশি তখন সংকুচিত হয়। এর ফলে স্নায়ু ও পেশি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার কথা।

গুডরুন শরীরে এমন এক সিমুলেটর বসিয়েছেন। দিনে দুই বার ৩০ মিনিট করে তিনি সেই যন্ত্র চালান। তাকে সাধারণত তখন পাশ ফিরে শুতে হয়। সোজা হয়ে শুতে গেলে ঘাড়ে ব্যথা হয়। সিমুলেশনের সময় তিনি ফোন দিয়ে নিজের পিঠের ভিডিও তুলেছিলেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, পেশি কীভাবে হালকা মাত্রায় সংকুচিত হচ্ছে।

জার্মানির প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার শরীরে এই যন্ত্র ইমপ্লান্ট করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিক এই পদ্ধতি প্রয়োগ করছে। এই সিমুলেশনের প্রভাব আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

ব্যথা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. ইয়ান স্টর্ক বলেন, ‘‘এই পদ্ধতি নতুন হওয়ায় খুব কম তথ্য-পরিসংখ্যান রয়েছে। তবে এমন কয়েকজন রোগী আছেন, যাদের ক্ষেত্রে সিমুলেটরের মাধ্যমে পিঠের পেশি সক্রিয় করে ব্যথা কমানো যায়।”

গুড্রুনের ক্ষেত্রে এই সিমুলেশন থেরাপি কাজে লেগেছে। তিনি বলেন, ‘‘বেশ দ্রুত কাজ হয়েছে। দুই সপ্তাহ পরেই প্রাথমিক সাফল্য টের পেয়েছি। ব্যথা সত্যি কিছুটা কমেছে। ফলে আমি ধীরে ধীরে কড়া ট্যাবলেট ছাড়তে পেরেছি।”

ইতোমধ্যে তিনি আর কোনো ট্যাবলেট খাচ্ছেন না। এবার তিনি তার “কোর মাসলস” আবার সক্রিয় করতে অনুশীলন করতে পারছেন। ফলে ব্যথা প্রায় দূর হয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনে তিনি আরও কর্মক্ষম হয়ে উঠেছেন।

About

Popular Links