Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পোশাক শিল্পের হাত ধরেই দেশে নারী ক্ষমতায়নে বিপ্লবের সূচনা

২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো রপ্তানি থেকে ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক খাত থেকে ৪২.৬১ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে; যা মোট রপ্তানির ৮১.৮১%

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০৭ পিএম

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিরূপ অবস্থার মধ্যেও টিকে থাকার জন্য যে দুটি খাতকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় তার একটি হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। রপ্তানি বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখা এই শিল্প কেবল দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডের ভূমিকাই রাখছে না, নারীর ক্ষমতায়নেও বিপ্লবের সূচনা করেছে।

২০২১-২২ অর্থ বছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো রপ্তানি থেকে ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে। এর মধ্যে কেবল তৈরি পোশাক খাত থেকে ৪২.৬১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৮১.৮১%। এটি রপ্তানি ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯.৭৩%।

বিপুল অংকের এই রপ্তানির পেছনে রয়েছেন গ্রাম থেকে উঠে আসা লাখ লাখ নারী। কর্মক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণের হিসাব রাখা হয় লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন বা এলএফপি পরিমাপকে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এলএফপিতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৪%। বিশ্বব্যাংকের ডেটা বলছে, ২০১৯ সালে এটা পৌঁছেছে ৩৬% এ। পরে কোভিডের কারণে সেটি অবশ্য ১% কমেছে।

২০১৬ সালে প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের পেছনে রয়েছে শ্রম বাজারে নারীর অংশগ্রহণ। এর বড় অংশই ঘটেছে দেশের ফ্ল্যাগশিপ রপ্তানিমুখী শিল্প তৈরি পোশাক খাতে।

মাতৃমৃত্যুর হার, জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রেও নারীর কর্মসংস্থানের ভূমিকার কথা উঠে আসে বারবার। এই খাত থেকে প্রায় ৪০ লাখ নারীর উপার্জন বিনিয়োগ হয়েছে নিম্নবিত্ত এসব মানুষের পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ২০১৮ সালে এক লেখায় উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সালে এলএফপিতে নারীর অংশগ্রহণ ৪% থাকলেও সেটা ২০১৬ সালে এসে দাঁড়ায় ৩৫.৬% এ। একই সময়ে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৮০.৪% থেকে বেড়ে ৮১.৯% হয়েছে।

গার্মেন্টসে যেভাবে নারীর ক্ষমতায়ন

ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুলগ্না সেন শর্মা “উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট ইন বাংলাদেশ: আন্ডারস্ট্যান্ডিং থ্রু দ্য কেস অব রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টর” শিরোনামে একটি গবেষণা করেছেন।

গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় খাত হয়ে ওঠার পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্প নারীদের কর্মসংস্থানের জায়গা হয়ে উঠেছে, যা তাদের আয়ের মূল মাধ্যম। এই আয় কেবল সেই নারীদের ক্রয়ক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, বরং নিজের ব্যক্তিত্বকে চেনাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাকে যুক্ত করছে, যা থেকে বড় পরিসরে তার পরিবার এবং সমাজও উপকৃত হচ্ছে।”

ধর্মীয় মৌলবাদ এবং রক্ষণশীল শক্তিসমূহ বিদ্যমান থাকার পরও এই খাতে নারীর অংশগ্রহণকে বাধা দিতে পারেনি বলেও উল্লেখ করা হয় সেই গবেষণায়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদের মতে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত নিঃসন্দেহে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অনেক ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে “অল্প শিক্ষিত” নারীদের আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে এই খাত।

এই অর্থনীতিবিদের মতে, নারীর এই ক্ষমতায়ন থেকে কেবল নারী নিজে উপকৃত হয়েছেন- ব্যাপারটি তা নয়, বরং এই উপার্জনের টাকা ব্যয় হয়েছে পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়া ও পুষ্টিতেও।

সত্তরের দশকে শুরু হওয়া তৈরি পোশাক খাত ব্যাপক আকারে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে অন্যখাতের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মত তার। তিনি বলছেন, এর প্রভাব রয়েছে মানুষের মানসিকতায়ও।

তিনি বলছেন, “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন যখন একটা সেক্টরে হয়, তখন অন্য নারী যারা শ্রমবাজারে নেই, তাদের মধ্যেও একটা উৎসাহ-আগ্রহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। যে নারী গার্মেন্টসে কাজ করে আয় করেছেন, তার সন্তানও মাকে দেখে বড় হচ্ছে যে, নিজের জন্য আয় করা যায়, নিজের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটানো যায়৷ বিশেষ করে শিল্পখাতে যে নারীরা এভাবে কাজ করতে পারে, সেই উদাহরণ সৃষ্টিতে গার্মেন্টস সেক্টর অবশ্যই ভূমিকা রেখেছে।’’

এই খাতে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ নারী

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মঞ্জুর হোসেনের মতে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলকভাবে অনেক কম হওয়া স্বত্ত্বেও নারীদের একটা ডিগনিটির জায়গা তৈরি হয়েছে। কিছুটা হলেও তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নের যে ইন্ডিকেটরের কথা আমরা বলি, ডিশিয়ন মেকিং পাওয়ার বেড়েছে। ফলে তারা সমজ ও অর্থনীতিতে একটা ভালো অবদান রাখছে।”

তিনি বলেন, আশির দশকে গার্মেন্টস যখন শুরু হয়, তখন সেবাখাত বলেন, শিল্প খাত বলেন, নারীদের তখন কোথাও যাওয়ার তেমন সুযোগ ছিল না। এটা তৈরি হয়েছে গার্মেন্টস খাতের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে। প্রায় ৪০ লাখ নারী এই খাতে কর্মরত আছেন। এটা জব মার্কেট হিসাবে বিশাল খাত৷ ফলে অনেক নারী যেমন বাসা বাড়িতে যারা কাজ করতো, তাদের অনেকেও গার্মেন্টসে চলে গিয়েছে। তারা এটাকে একটা প্রেস্টিজিয়াস জব মনে করে যে, কারখানায় কাজ করছে। আমাদের জানা মতে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছে, সন্তানদের শিক্ষা দিতে পারছে। বিভিন্নভাবে তারা উপকৃত হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নাই যে, গার্মেন্টস খাত বিশাল একটা সুযোগ তৈরি করেছে।’’

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারের মতে, “কিছু ক্ষেত্র ছাড়া আগে আমাদের নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারতো না। এখন কেবল গার্মেন্টস সেক্টরেই নয়। শ্রমজীবী নারীরা অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে সামনে চলে এসেছে। এক্ষেত্রে গার্মেন্টস সেক্টরের নারীরা সবচেয়ে অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করেছে। ঘর থেকে বের হওয়ার পর তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ভূমিকা রাখছে। তারা কেবল নিজেদের বেতনের দাবিতে মাঠে নামে না। আরো নানা ইস্যুতে তাদের মাঠে পাওয়া যায়। আমাদের মধ্যবিত্ত নারীরা যে সংগ্রাম করতে পারতো না। সেটা তারা করতে পারছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘যেমন, তারা রাস্তার হ্যারাসমেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছে৷ তারা যেকোনো সময়, রাত দুইটা বলেন তিনটা বলেন, সংঘবদ্ধভাবে বের হয়ে আবার ঘরে ফিরছেন। নারীদের বের হওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা বিরাট অবদান রাখছে।’’

যেতে হবে বহুদূর…

জলি তালুকদারের মতে, তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের মজুরিই সবচেয়ে কম। দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে তিনি নেপালের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ নেপালেও আমাদের চেয়ে মজুরি বেশি।

এখনকার নিম্নতম মজুরি দিয়ে ঢাকা, গাজীপুরের মত জায়গায় স্বামী-সন্তানদের নিয়ে থাকা যায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “২০১৮ সালে সর্বশেষ মজুরি বেড়েছিল। এখন সবকিছুর দামই বেশি। আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে সব এলাকায় থাকেন, সেখানে থেকে সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষা খরচ দিয়ে পরেরদিন কাজ করার মত যে ক্যালরিটা নেওয়া দরকার, সেটা তারা পাচ্ছে না।”

বাসা ভাড়া প্রসঙ্গে জলি তালকদার বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে এই শ্রমিকদেরকেই সবচেয়ে বেশি ভাড়া দিতে হয়। এক্ষেত্রে তিনি একটি রিপোর্টের প্রসঙ্গ টানেন, যেখানে দেখানো হয়েছিল ঢাকার অনেক এলাকার ফ্ল্যাটবাড়ির থেকে বস্তির ঘরে স্কয়ার ফিট অনুপাতে বেশি ভাড়া দিতে হয়।

শ্রমিকদের এ সব সমস্যা সমাধানে নূন্যতম বেসিক বেতন ২০ হাজার টাকা করার দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে পাট শ্রমিকদের মত এই খাতেও শ্রমিকদের পরিবারের জন্য রেশন, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষার ব্যবস্থার দাবি করেন তিনি।

শ্রমিকদের বাসস্থানের সংকট নিরসনে ডর্মেটরি নির্মাণে সরকার স্বল্প সুদে মালিকদের ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

সেই প্রসঙ্গ টেনে জলি তালুকদার বলেন, সেই ঋণ অনেক মালিক নিলেও ডর্মেটরি এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, “ডে কেয়ার, কেমিক্যাল জনিত ক্ষতির কথা বলতে গেলে খুবই কষ্ট হয়৷ দুই একটা কারখানায় ডে কেয়ার সেন্টার থাকতে পারে। ৫ হাজার কারখানার অধিকাংশতেই নাই। আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বাচ্চা হওয়ার এক দেড় বছরের মধ্যে বাচ্চাদের গ্রামে রেখে আসে।

সরকার ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির কথা বলেছে। গার্মেন্টসের মত শ্রমসাধ্য কাজে এটা আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জলি।

তিনি বলেন, কিন্তু কারখানাগুলো মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয় চার মাস৷ সেখানেও অনেকে বেতন দিতে চায় না। অনেকে আবার ছুটির আগে শ্রমিককে ছাঁটাই করে দেয়।

দুনিয়াকে নাড়া দেওয়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানার পরিবেশ অনেক উন্নত হলেও তাকে এখনো যথেষ্ট মনে করছেন না জলি।

তার মতে, কারখানার নিরাপত্তা বড় ইস্যু। বিল্ডিং কোডসহ যেভাবে নিয়ম মেনে কারখানা হওয়া দরকার ছিল, সেভাবে হয় নাই।

তিনি বলেন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী যে নীতিমালা হাইকোর্ট দিয়েছেন, সেটা প্রত্যেকটা কারখানায় কার্যকর করা। এটা করলে নারী শ্রমিকরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে৷ যদিও এই টিমগুলোও অনেক সময় খারাপ লোকদের দিয়ে করা হয়।

অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদের মতে, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে আমরা যে রকম গার্মেন্টস দেখেছি, সেটা কিন্তু এখন নাই। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রয়োজনেই আমরা এখন অনেক কম্প্লায়েন্ট।

তিনি বলেন, ‘‘এরপরও আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। গার্মেন্টসে যারা কাজ করেন, তারা সাধারণ ইয়াং বয়সেই কাজ করেন, সেই বয়সেই তারা মা হন। সেই বয়সে তাদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যে অবশ্যই আরও উন্নয়নের সুযোগ আছে।’’

তিনি বলেন, কারখানার কাজের পর মেয়েদের ঘরের প্রত্যেকটা কাজও করতে হচ্ছে। ফলে এই খাতে নারী শ্রমিকের শারিরীক ধকল অনেক বেশি৷ ফলে তিনি দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিতে পারেন না৷ এখন তার বাসস্থানটা যদি ভালো হয়, যদি ভালো যানবাহন থাকে, তাহলেও তার একটু স্বস্তি হয়৷ এখানে কর্মপরিবেশে ফ্যাক্টরির ভেতরে যেমন নানা বিষয় আছে৷ তেমনি কারখানার বাইরেও নানা বিষয় আছে৷ সব মিলিয়েই তৈরি পোশাক খাতে নারীর অবস্থার উন্নয়নের অনেক সুযোগ আছে৷

অর্থনীতিবিদ মঞ্জুর হোসেনের মতে, একটা ট্রেন্ড ইদানিং দেখা যাচ্ছে যে, নারী শ্রমিকরা আস্তে আস্তে এই খাত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তাদের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে আসছে। যারা বের হয়ে যাচ্ছে, তাদের কেউ কেউ সাক্ষাৎকারে বলেছে, তারা এই খাতে আর ফিরে আসতে চায় না৷ তার বিভিন্ন কারণ আছে৷

তিনি বলেন, ‘‘আগেই বলা হয়েছে এটা একটা লো স্কিলড জব। যারা বাসা বাড়িতে কাজ করতো বা কিছুই করতো না৷ তারা এখানে এসেছে৷ তাই এখানে শোষণও হয়েছে৷ তবে এখন যখন দ্বিতীয় প্রজন্ম, তৃতীয় প্রজন্ম এখানে আসবে৷ তখন আর শোষণ আর ওইভাবে করতে পারবে না৷ নারীরা যখন আরো দক্ষ হবে, তখন তারা বিকল্প চাকরি খুঁজে নেবে। আমাদের দেশে যে নিম্ন মজুরিতে পোশাক শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে৷ তার ফলে গার্মেন্টস মালিকরা কম দামে বিদেশে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারছে৷ অনেক প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে, তাদের আয়ও বাড়ছে৷ এতে কোন সন্দেহ নেই৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু তার অর্থ এই না যে, শ্রমিকদেরকে সব সময় কম মজুরি দিয়ে রাখতে পারবে। একটা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হচ্ছে, সেটা সব সময় পালিত হয়নি এটা ঠিক৷ আমরা এখনো দেখি, বোনাসের দাবিতে বিভিন্ন শ্রমিকরা রাস্তায় নামতে হয়৷ বর্তমানের যে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সেই হারে কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি৷ এভাতে তাদেরকে ঠকিয়ে খুব বেশি দিন গার্মেন্টস সেক্টর কন্টিনিউ করতে পারবে না। কারণ সময় বদলাচ্ছে, নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে৷ ফলে মজুরি একটা স্ট্যান্ডার্ড লেভেলে না নিয়ে গেলে হয়ত শ্রমিকই খুঁজে পাবে না৷’’

গবেষক সুলগ্না সেন শর্মা তার গবেষণায় বলেন, অতিরিক্ত কিছু টাকা আসবে বলে পরিবারের পুরুষরাও এতে বাধা দেয়নি। তবে নারীর সত্যিকারের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে গৃহস্থালী কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

About

Popular Links