Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কেন প্রিয় দলের নামে ‘কেউ কিছু বললেই’ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি আমরা

খেলা নিয়ে কেন এই প্রাণহানির ঘটনা? উগ্রতা, হিংস্রতার কারণ কী? এ থেকে উত্তরণের উপায়-ই বা কী

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪২ পিএম

কাতারে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা। এই খেলার উন্মাদনায় বাংলাদেশে প্রাণ গেছে ১২ জনের। ফুটবল নিয়ে তর্ক, পতাকা টানাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এমনকি উত্তেজনার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের বেশিরভাগই বয়সে কিশোর ও তরুণ। এসব ঘটনায় আহতও হয়েছেন অনেকে।

কিন্তু খেলা নিয়ে কেন এই প্রাণহানির ঘটনা? উগ্রতা, হিংস্রতার কারণটাই বা কী? এ থেকে উত্তরণেরই বা উপায় কী?

ফুটবল নিয়ে প্রাণহানির ঘটনাকে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারাকেই দায়ী মনে করছেন দেশের প্রখ্যাত মনোবিদ অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম।

তার মতে, আবেগের কারণে সৃষ্ট অসচেতনতার কারণে ব্রেনের মধ্যে অতিরিক্ত চিন্তা কাজ করে। নানা প্রশ্ন উঠে আসে। এটা কেন হলো? কীভাবে হলো? না হলেও পারত! এমন ভাবনা হয়। কোনো ব্যক্তি যদি খারাপ আচরণ করে সেক্ষেত্রেও এমন ভাবনা তৈরি হতে পারে। এসব কারণেই মানুষের মধ্যে ইতিবাচক কিছু ঘটলে খুশিতে উল্লাস করতে ইচ্ছে করে। নেতিবাচক কিছু ঘটলে কষ্টের অনুভূতি কাজ করে। এর ফলাফলেই আচরণ নির্ধারিত হয়ে থাকে।

এক দলের সমর্থকের হাতে আরেক দলের সমর্থক মৃত্যুর ঘটনার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “বাঙালি জাতি হিসেবে চিন্তা করলে আমরা ব-দ্বীপের অধিবাসী। ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক যুগের দিকে তাকালে দেখা যাবে প্রকৃতির সঙ্গে, নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের টিকে থাকতে হয়েছে। এ কারণে সাধারণভাবে একটু হিংস্রতা আমাদের মধ্যে আছে। এমনকি চর দখল নিয়েও একজন আরেকজনকে হত্যা করে ফেলে। বেশিরভাগ মানুষই দুইটি দলকে সমর্থন করেন। এটার পেছনে কাজ করে আবেগ। সেখান থেকেই হিংস্রতার জন্ম।”

এছাড়া আমাদের লেখাপড়ার পদ্ধতিতেও ঘাটতি রয়েছে বলেও মত অধ্যাপক ড. মেহতাব খানমের। তিনি বলেন, “শিক্ষিত বলতে শুধু স্নাতক হওয়া মনে করাটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি। শিক্ষার্থীরা পাশ করছে। কিন্তু জীবন চালনায় যে দক্ষতা প্রয়োজন সেটি নেই। এমনকি নানা সংকটে নিজেকে বানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাও গড়ে ওঠেনি।”

এই মনোবিদ বলেন, “স্কুলে এখন বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্থা নেই। শিশুদের মনন গড়ে উঠতে খেলা একটি বড় মাধ্যম। আমরা যদি শিশুদের খেলার ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম তাহলে তারা পরাজয়কে মানতে শিখত। পরাজয় মেনে আবার জয়ী হওয়ার জন্য যে প্রস্তুতি সেটা তারা খেলার মাধ্যমেই শিখতে পারত। ছোটবেলা থেকেই আমাদের ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়ে যেতো। কিন্তু আমরা সেখানে ব্যর্থ।”

অনেক পরিবারের বাবা-মায়ের মধ্যে মারামারি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সু-সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষাটাও অনেক সময় বাবা মায়ের থাকে না। ফলে পারিবারিক ভাবেও আমাদের মানসিকতা গড়ে ওঠার পরিবেশ নেই।”

যদিও খেলা নিয়ে উন্মাদনা নেতিবাচকভাবে দেখেন না এই মনোবিদ। তার মতে, “উন্মাদনা ঠিক আছে। যতক্ষণ সেটা হিংস্রতা বা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির মধ্যে না যায়।”

অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, “খেলা নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করছি। প্রাণহানির যে ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। দ্রুত এসব বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

About

Popular Links