Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রেমের কার্যকারণ

প্রেমের অনুভূতি মানুষকে এতটাই উৎফুল্ল করে যে, এককথায় আপনার মনে হতে থাকবে আপনি মেঘের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছেন। তাই ‘প্রেমে পড়েছি’ না বলে যদি বলা হয় ‘প্রেমে ভেসে বেড়াচ্ছি’ সেটি হয়তো উপযুক্ত হতো

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩৫ পিএম

আমরা জীবনের খুব বড় একটি অংশ কাটিয়ে দেই “ভালোবাসা” নিয়ে কথা বলতে বলতে, একে বুঝতে আর খুঁজতে খুঁজতে। প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসা মুখে প্রকাশের নয়, এটি অনুভূতির ব্যাপার। ভালোবাসা কী বুঝতে হলে আপনাকে তা অনুভব করতে হবে মনের ভেতর থেকে। 

আর এটি না বললেই নয় যে, ভালোবাসা অথবা প্রেম ব্যাপারটি অবশ্যই অত্যন্ত রহস্যময়, আকর্ষণীয় এবং জটিল। যদিও অনেক কবি-সাহিত্যিক তাদের সৃষ্টিতে ভালোবাসা-আবেগ-প্রেমকে শব্দের আকৃতি দিতে সর্বদাই পরিশ্রম করে গেছেন। আর বিজ্ঞানীরা খুঁজে বেড়িয়েছেন এই রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ভালোবাসা নিয়ে মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। তা নিয়ে অনেক মতবিরোধও রয়েছে। 

তবে এটি প্রায় সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যে, আপনি যখন প্রেমে পড়েন তখন আপনার মস্তিষ্কে বেশ কিছু পরিবর্তন হয় যা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের।

প্রেমের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমি যতই বুঝতে চেয়েছি, আমার কাছে মনে হয়েছে “প্রেমে পড়েছি”  এই শব্দচয়নই ভুল। কেননা প্রেমের অনুভূতি মানুষকে এতটাই উৎফুল্ল করে যে, এককথায় আপনার মনে হতে থাকবে আপনি মেঘের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছেন। তাই “প্রেমে পড়েছি” না বলে যদি বলা হয় “প্রেমে ভেসে বেড়াচ্ছি” সেটি হয়তো উপযুক্ত হতো!

গবেষকরা বলেন, প্রেমের অনুভূতির প্রথম ধাপ হলো আকর্ষণ। এটি এমন একটি শক্তিশালী অনুভূতি যা আপনার শরীরের প্রায় সবগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন ধরুন, আপনি যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে যান তখন আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, আপনার হাত ঘামতে থাকে, হাল্কা মাথা ঘোরার অনুভূতি হতে পারে, উত্তেজনায় আপনার হাত-পা কিছুটা কাঁপতে পারে সেই সঙ্গে আমরা প্রচণ্ড পরিমাণে চনমনে ও চাঙ্গা অনুভব করতে পারি। 

এগুলো সবই ইতিবাচক অনুভূতি বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এই অনুভূতিগুলোর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো ওই মুহূর্তে আপনার শরীরে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ হয়। সেগুলো হলো- অক্সিটোসিন, ডোপামিন, সেরোটোনিন, ফেনিথিলামিন, এন্ডরফিন, নোরেপিনেফ্রিনসহ আরও বেশ কিছু পদার্থ।

মনোবিজ্ঞানী ড. রিচেলের মতে, অক্সিটসিন,ডোপামিন, ফিনিথিলামিন এই রাসায়নিক পদার্থগুলো মানুষের আচরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যা প্রেমের সঙ্গেও জড়িত। এগুলো এম্ফিটামিনের মতোও কাজ করে। সে কারণে প্রেম বা ভালবাসা আমাদের প্রচণ্ড আনন্দের অনুভূতি দেয়। একই সঙ্গে আমাদের চনমনে অনুভব হয়, আমাদের চিন্তাভাবনা সরু হয়ে যায়, আমাদের সহনশীল করে ফেলে। 

তখন ভালোলাগার মানুষ যা-ই করে আমাদের তা সবই ভালো লাগতে শুরু করে।

বিবাহ ও পারিবারিক থেরাপিস্ট কেইন বলেন, “প্রেমে পড়া একজন ব্যক্তি সমস্ত বিশ্বকে ভালোবাসার চশমা দিয়ে দেখতে থাকেন। তার কাছে সবকিছুই সহনীয় লাগে। সঙ্গীর সব আচরণই তার কাছে আকর্ষণীয় লাগতে শুরু করে।”

প্রেমের তিনটি উপাদান রয়েছে- অন্তরঙ্গতা, আবেগ ও প্রতিশ্রুতি। এখানে অন্তরঙ্গতা মানে ঘনিষ্ঠতা, আবেগ মানসিক ও শারীরিক আকর্ষণ উভয়ের সঙ্গেই জড়িত। প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রেম অসম্পূর্ণ। প্রেমে পড়ার একটি বিশেষ উপাদান পরবর্তীতে প্রতিটি সময় একসঙ্গে দুইজন থাকার এক অদম্য প্রতিশ্রুতি।

মনোবিজ্ঞানীরা ভালোবাসা বা প্রেমের ব্যাখ্যা জানার প্রয়োজন বোধ করেছেন। কারণ এটি জানা থাকলে একজন হৃদয়ভাঙা মানুষকে সহায়তা করা সহজতর হয়। 

প্রেমে পড়ার সমস্ত উপাদান, এ কারণে একজন মানুষের মনের অনুভূতি এবং কার্যকরণ একজন থেরাপিস্টের জানা থাকা জরুরি। যাতে সম্পর্কের অপ্রত্যাশিত বা আকস্মিক মৃত্যু হলে তিনি একজন মানুষকে সহায়তা করতে পারেন। তাহলেই তিনি ভেঙে যাওয়া হৃদয়ের মানুষটিকে পরবর্তী আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন এবং সহনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারবেন।


ডা. ফাতেমা জোহরা জ্যোতি,

সহকারী সার্জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল।

রেসিডেন্ট (চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি), বিএসএমএমইউ।



About

Popular Links