Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কী করবেন প্যানিক অ্যাটাকে

প্যানিক অ্যাটাক মূলত মানসিক সমস্যা। তবে এর শারীরিক প্রভাব হতে পারে মারাত্মক

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ০৪:৪৮ পিএম

হঠাৎ করেই বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রচণ্ড ঘামতে থাকা- এই উপসর্গগুলোকে আমরা সাধারণভাবে “হার্ট অ্যাটাকের” লক্ষণ হিসেবে ধরে নিই। কিন্তু সবক্ষেত্রেই কি বিষয়টা এমন? 

উত্তরটি হচ্ছে - “না”। 

হঠাৎ করেই তীব্র বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, চলাফেরা করতে না পারা, হুট করে বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দন- এসব হতে পারে প্যানিক অ্যাটাকেরও নির্দেশক। প্যানিক অ্যাটাক মূলত মানসিক সমস্যা। তবে এর শারীরিক প্রভাব হতে পারে মারাত্মক।

ভুক্তভোগীরা বেশ বুঝতে পারেন এর ভয়ংকর রূপ। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানিক অ্যাটাক মূলত প্রচণ্ড ভয়, উদ্বেগ আর মানসিক চাপের এক বহিঃপ্রকাশ। এটি যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতে আঘাত হানতে পারে। সাধারণত দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা, একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদে ভোগা ব্যক্তিরা এর শিকার হয়ে থাকেন বেশি। 

তাই অনায়াসেই বলা যায়- বিষণ্নতা, ট্রমা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ যেকোনো সময় রূপ নিতে পারে প্যানিক অ্যাটাকে।

প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে এক ধরনের প্রচণ্ড ভীতিকর অনুভূতি গ্রাস করে মানুষকে। উল্লিখিত উপসর্গগুলোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির মনে হতে থাকে, তিনি মারা যাচ্ছেন এবং সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কথা হলো, এমন তীব্র যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে পড়লে করণীয় কী?

প্যানিক অ্যাটাক প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। চলুন জেনে নেই প্যানিক অ্যাটাকের মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে ও প্রিয়জনকে সহায়তা করতে পারেন আপনি- 

মেনে নিন

প্যানিক অ্যাটাক একটি সাময়িক কষ্টদায়ক অনুভূতি। এর স্থায়িত্ব সাধারণত খুব লম্বা হয় না। প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে, বুঝতে পারলে আপনি বিষয়টি মেনে নিন এবং প্রবোধ দিতে থাকুন এটি খুব দ্রুতই চলে যাবে। বিশেষ করে যারা প্রায়ই এর শিকার হন, তারা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারবেন। 

কর্মস্থলে কিংবা অনেক ভিড়ের মধ্যে থাকলে চেষ্টা করুন তুলনামূলক নিরিবিলি জায়গায় সরে যেতে। মনে রাখবেন, যেকোনো অপ্রীতিকর অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ হলো বিষয়টিকে মেনে নেওয়া এবং বিশ্বাস করা- এই মুহূর্তে কষ্ট হলেও এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। 

শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন

দ্বিতীয় ধাপে আপনি নিজেকে সহায়তা করতে পারেন একটু হিসেব করে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে। চার সেকেন্ড ধরে লম্বা নিশ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। একইভাবে দ্বিতীয়বার ৬ সেকেন্ড এবং তৃতীয়বার ৮ সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। 

দেখবেন হালকা প্রশান্তি কাজ করছে। এই অনুশীলন কয়েকবার করুন। প্যানিক অ্যাটাকের সময় যেকোনো ধরণের শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন অনেক বেশি কার্যকর। এটি আপনার উত্তেজিত মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ফেলে।

প্রতীকী ছবি /পেক্সেলস

সঙ্গে কেউ থাকলে অথবা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে তার সহায়তায় যেকোনো একটি ফুরফুরে মেডিটেশন বা মাসল রিলাক্সেশন মেডিটেশন করুন। ইউটিউবে এই ধরনের অসংখ্য গাইডেড মেডিটেশন রয়েছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মনোবিদ প্যানিক অ্যাটাক নিরাময়ে বিভিন্ন ধরনের মাসল রিলাক্সেশন পদ্ধতি শিখিয়ে থাকেন। 

কল্পনা হোক সুখস্মৃতির 

শরীর ও মস্তিষ্ক কিছুটা শান্ত হয়ে এলে এবার ধীরে ধীরে জীবনের কোনো একটি আনন্দময় মুহূর্ত মনে আনার চেষ্টা করুন। সেই দিনটি কেমন ছিল, কী কারণে আপনি এত খুশি ছিলেন, কী কী করেছিলেন- সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য চোখ বুঁজে কল্পনা করতে থাকুন। শরীরে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আসার আগ পর্যন্ত আনন্দের দিনটি কল্পনা করুন।

অভিনন্দন, আপনি পেরেছেন! 

শরীরের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আসার পর নিজেকে অভিনন্দন জানান। প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণগুলো ক্ষীণ হয়ে এলেও মনে রাখা জরুরি, এর প্রভাব আপনার থাকতে পারে লম্বা সময় জুড়ে। তাই নিজেকে সময় দিন। সম্ভব হলে মানসিক চাপ বা আপনাকে মানসিকভাবে উত্তেজিত করতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন একটা দিন। 

প্যানিক অ্যাটাক পরবর্তী সময়ে বেশি করে পানি পান করুন, হালকা কিছু ব্যায়াম করুন এবং পছন্দের কোনো কাজ করুন। হতে পারে সেটা কোন প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা, গান শোনা কিংবা স্নায়ু শান্ত করার মতো যেকোনো কাজ। 

মনে রাখবেন, অনেক বড় একটা ধকল পার করেছেন আপনি, নিজের জন্য খানিকটা সময় এবং বিশ্রাম আপনার প্রাপ্য। 

প্যানিক অ্যাটাকের সময় মানুষ ভীষণ অসহায় হয়ে পড়েন। তাই এসব পরামর্শ মেনে চললে আপনি একটু হলেও শরীর ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হবেন। 

তবে মনে রাখতে হবে, এর কোনোটিই প্যানিক অ্যাটাক রোধের স্থায়ী সমাধান নয়। এক কিংবা একাধিকবার প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে দ্রুত মনোবিদের কাছে যাওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ না পেলে সাময়িক প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক সমস্যার কারণ।


তথ্যসূত্র:

- ইউনিসেফ বাংলাদেশ, বিবিসি, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস স্কটল্যান্ড, হেলথলাইন, দ্য গার্ডিয়ান



About

Popular Links