Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারীর পোশাকে সূঁচের সূক্ষ্ম নকশার প্রচলন করেছিলেন এক মুঘল সম্রাজ্ঞী

আধুনিক সময়ে তো এই বিষয়ে পড়াশোনাও করা যায়। ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে এমন পোশাক পছন্দের শীর্ষে। আর এই প্রসারের জন্য মুঘল সম্রাজ্ঞীর দুরদর্শী চিন্তার কথা তো স্মরণ করাই যেতে পারে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩, ০৭:১০ পিএম

একেবারে সাদামাটা পোশাকের চেয়ে নারীদের কাছে বাড়তি কদর পায় সুঁই-সুতোর কাজ করা পোশাক। এতে ফুটে ওঠে আভিজাত্যও। যুগ যুগ ধরে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গেও এর রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু কীভাবে প্রচলন হলো এই পোশাকের? ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ঠিক একক কারো নাম পাওয়া মুশকিল। তবে এই শিল্পের প্রচার-প্রসারে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় তিনি সাধারণ কেউ ছিলেন না। ছিলেন মুঘল সম্রাজ্ঞী। তার নাম নুরজাহান। 

ইতিহাসের এমনই আড়ালের এক গল্প তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

১৫৭৭ সালে পারস্যে জন্মের পর তার নাম রাখা হয় মেহর-উন-নিসা। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিয়ের পর তার নাম হয় নুরজাহান। ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা ও দুরদর্শিতার কারণে মুঘল দরবারেও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি।

ধারণা করা হয়, সুঁইয়ের কাজসহ চারুকলা, কারুশিল্পসহ শিল্পের নানা মাধ্যমকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন নুরজাহান। তার সময়, মুঘল দরবার হয়ে ওঠে শিল্প-সমঝদার ও সংস্কৃতি বিনিময়ের এক প্রাণকেন্দ্র। যেখানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা এসে ব্যতিক্রমী সব শিল্প গড়ে তোলেন। 

কাপড়ের ওপর সূক্ষ্মভাবে সুতার নানা নকশাসহ পুঁতি ও বিভিন্ন ডিজাইন সুঁইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় এই শিল্পে। এতে কাপড় দেখতে হয়ে ওঠে অনন্য। 

সম্রাজ্ঞী নুরজাহান সবসময় এমন সূক্ষ্ম সুঁইয়ের কাজ করা পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন। যা ধীরে ধীরে রাজকীয় পোশাক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে। এটি অভিজাত শ্রেণির বিলাসিতার প্রতীকও হয়ে ওঠে।

পরবর্তী দশকগুলোতে জ্যামিতিক হারে নারীদের মধ্যে এটি আরও প্রসার লাভ করে। দীক্ষা নেন প্রচুর কারিগর। আধুনিক সময়ে তো এই বিষয়ে পড়াশোনাও করা যায়। ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে এমন পোশাক পছন্দের শীর্ষে। আর এই প্রসারের জন্য মুঘল সম্রাজ্ঞীর দুরদর্শী চিন্তার কথা তো স্মরণ করাই যেতে পারে!

About

Popular Links