Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোন বয়সে ছেলে শিশুদের খতনা করা সবচেয়ে ভালো?

  • ধর্মীয় কারণে মুসলমান ও ইহুদিরা এই রীতি পালন করেন
  • চিকিৎসাগত কারণেও অনেকেই ছেলেদের খতনা করান
  • বিশ্বে ১৫ বছর বয়সের বেশি ৩৩% পুরুষের খতনা করা
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫১ পিএম

বাংলাদেশের মুসলিম ছেলে শিশুদের খতনা করা হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে  কেউ কেউ এটিকে “মুসলমানি” বলে থাকেন।

একটা দীর্ঘসময় ধরে এই কাজ বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে হাজামরা (যিনি খতনা করেন) করে এসেছেন। তবে এখন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সার্জারির মাধ্যমে খতনা করার প্রচলন বেড়েছে।

ছেলেদের যৌনাঙ্গের সামনের চামড়া কেটে অপসারণ করাকে খতনা বলে। ধর্মীয় কারণে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদিরাও এই রীতি পালন করে থাকে। ধর্মীয় কারণ ছাড়াও চিকিৎসাগত কারণেও অন্য অনেক সম্প্রদায়ের মানুষও ছেলে শিশুদের খতনা করে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা সংস্থা ইউএসএইডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৫ বছর বয়সের বেশি ৩৩% পুরুষের খতনা করা। খতনা করা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬.৩ জন মুসলিম, এবং একজনের কম ইহুদি।

কোন বয়সে খতনা করানো ভালো?

পশ্চিমা দেশে সাধারণত জন্মের পরপরই এটি করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণত দেখা যায় যে, বাচ্চারা একটু বড় হলে তারপর তাদের খতনা করা হয়ে থাকে।

এটি বিশ্বের প্রাচীনতম অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং ধারণা করা হয় প্রায় ১৫,০০০ বছর আগে মিশরে এই প্রথা উদ্ভূত হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

পৃথিবীর অনেক দেশে ছেলে শিশুর পাশাপাশি মেয়েশিশুরও খতনা করানো হয়। তবে, অনেক দেশ আবার আইন করে সে প্রথা বন্ধও করেছে।

বাংলাদেশে শুধুমাত্র ছেলে শিশুদেরই খতনা করানো হয়। কিন্তু ঠিক কোন সময়টা খতনা করার জন্য উপযুক্ত? এর কোনো নির্দিষ্ট বয়স আছে কি? তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই।

এ বিষয়ে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এর ফিক্সড কোনো সময় নেই যে এই সময় করলে ভালো আর এই সময় করলে খারাপ। যেকোনো বয়সে এটা করা যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হল বাচ্চারা ক্লাস ওয়ান-টুতে ওঠার পর বাবা-মা তাদের নিয়ে আসে। তবে আমি বলবে এটা আরেকটু আগে করে ফেলাই ভালো। স্কুলে যাবার আগেই করতে পারে।”

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো নির্দিষ্ট বয়স না থাকলেও, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় তিন বা চার বছর বয়স খতনার উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

তবে, অনেকে আরেকটু পরে করতে পছন্দ করেন, যেখানে ঘরোয়াভাবে খৎনত ঘিরে একটা উৎসব আয়োজন করা হয় এবং লক্ষ্য থাকে এটার একটা স্মৃতি যেন থেকে যায় শিশুটির কাছে।

তবে এটার একটা নেতিবাচক দিক আছে উল্লেখ করে ডা. হাসান বলেন, “সবার কিন্তু একটা বডি ইমেজ তৈরি হয়, অর্থাৎ নিজের নিজেকে দেখার চোখ। ছোটবেলায় সেই বডি ইমেজ ওভাবে ব্রেনে কাজ করে না, ফলে তখন অপারেশন করাটা সহজ। কিন্তু বাচ্চা বড় হলে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে।”

তার পরামর্শ একটু বোঝার বয়স হলেই খতনা করে ফেলা ভালো।

এছাড়া স্কুল শুরু হলে বাচ্চার ব্যস্ততাও বেড়ে যায়, স্কুল ছুটির সঙ্গে বাবা-মা’র সময় মিলিয়ে নিতে হয়। আবার বাচ্চার সামাজিক গন্ডিও বড় হয়, যেটা তার মননেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোতে তো জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই খতনা করে ফেলা হয়, বাংলাদেশে সেটি হয় না কেন?

ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল জানান, বাংলাদেশেও এখন সেটি হচ্ছে, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম।

তিনি বলেন,“আসলে বাচ্চার জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একটা অপারেশন, সেটা এখনো আমরা সামাজিক ও মানসিকভাবে গ্রহণ করতে পারি না।”

স্বাস্থ্যগত সুবিধা

ডা. হাসান বলেন, “অনেকে কিন্তু ৪০ বছর বয়সেও করে, কারো হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে তখন মেডিকেল কারণে খতনা করা লাগতে পারে।”

চিকিৎসাগত দিক থেকে খৎনার বেশ কিছু সুবিধা আছে, যে কারণে পশ্চিমা অনেক দেশও এই রীতি গ্রহণ করেছে।

একদিকে এটা যেমন অনেক সময় চিকিৎসা হিসেবে কাজে লাগে আবার তেমনি রোগ প্রতিরোধেও উপকারী।

এই সার্জারি বিশেষজ্ঞ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কতোগুলো মেডিকেল বেনিফিট আছে। যে অংশটা কেটে ফেলে দেওয়া হয় সেখানে বেলানাইটিস বা ইনফেকশন হতে পারে। আবার যাদের কাটা হয় না তাদের এসটিডির ঝুঁকি বেশি থাকে,”

হাজাম নাকি ডাক্তার?

ডা. হাসান জোর দিয়ে বলেন “অবশ্যই, অবশ্যই ডাক্তার এবং এনেসথিশিয়া দিয়ে এটি করতে হবে। যেকোনো ভাবেই হয়তো এটা করা যায়, হাজামরা যেভাবে করে তাতে হয়তো কোনো অসুবিধাও হচ্ছে না, কারণ মানব শরীর এমন কেটে ফেললে তা জোড়া লাগবেই। কিন্তু যদি ইনফেকশন হয়?”

কিন্তু বাংলাদেশে তো বছরের পর বছর হাজামরা কাজটা করে এসেছেন, এখনো হাজার হাজার খতনা এভাবে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন,“দেখুন একসময় তো অ্যানেসথিশিয়া ছাড়াই অপারেশন হতো, কিন্তু এখন কি আমরা সেটা কল্পনা করতে পারি?”

তিনি বলেন,“আগে ইনফেকশন হলেও অনেক সময় আমরা বুঝতে পারতাম না, এছাড়া টাইট করে বেঁধে দিলে তা ফুলে যেত, ফলে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে।”

এসব সমস্যা ঠেকাতে ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত পদ্ধতিতে খতনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

About

Popular Links