Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এই কাঠফাটা গরমে কী করবেন, কী করবেন না

নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়- স্বজনের খোঁজ নিন। তাদেরও সচেতন করুন

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১১:২২ এএম

বিশ্বজুড়ে চলছে এল-নিনোর তাণ্ডব। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রভাব অনেক বেশি। বাংলাদেশেও পড়েছে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া। সারাদেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া কোথাও নেই বৃষ্টির আভাস। 

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে বিগত ৫২ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, হিটস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বেশ কিছু মানুষের।

এই বিরূপ আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে আমাদের শরীর ও মনকে। তাই অসুস্থ হয়ে পড়া খুবই সহজ ও সাধারণ ঘটনা। এই তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দ্বিগুণ করতে না চাইলে মেনে চলুন সাধারণ কিছু নিয়ম-

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে নয়: যেহেতু এই প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকের প্রবণতা অনেক বেশি, সুতরাং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া কোনোক্রমেই উচিত নয়। বিশেষ করে দুপুরের সময়টাতে বাসায় থাকলে বাসায়, অফিসে থাকলে অফিসে, অথবা যেকোনো ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করা উচিত। যদি খোলা স্থানে বা সরাসরি সূর্যালোকে অবস্থান করতেই হয় তবে সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, ক্যাপ, ছাতা ইত্যাদি রাখতে ভুলবেন না।

পান করুন পর্যাপ্ত পানি: পানিশূন্যতা এই সময়ের স্বাভাবিক ঘটনা। সুতরাং, শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচাতে এবং যথাযথ খনিজের যোগান দিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। তৃষ্ণার্ত অবস্থায় একেবারে প্রচুর পানি পান করবেন না এবং ঠান্ডা পানি পরিহার করুন। অনেকে প্রচুর স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করে থাকেন যা স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর হতে পারে। এছাড়াও যথাসম্ভব অন্যান্য কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। ডাবের পানি কিংবা লেবু পানি আপনাকে এই গরমে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

গুরুপাক খাবার পরিহার করুন: এই গরমে যথাসম্ভব হালকা এবং কম মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ভারি এবং অধিক মসলাযুক্ত খাবার এই গরমে আপনার অসুস্থতার কারণ হতে পারে। রাস্তার পাশের খোলা খাবার এবং লোভনীয় পানীয় সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন। বেশি করে পানিসমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সঠিক পোশাক বাছাই ও পরিচ্ছন্নতা: শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত গোসল করুন। চুল, হাত-পায়ের নখ এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক যত্ন নিন। ঘরে-বাইরে সবসময় হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক পরুন। হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন, কারণ গাঢ় রঙ অধিক তাপ শোষণ করে। এছাড়াও ঘামের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। ঘর্মাক্ত অবস্থায় গোসল করবেন না এবং গোসলে অধিক ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না।

প্রয়োজন পরিমিত ঘুম ও মানসিক শান্তি: শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিন। পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও অতীব জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমের ঘাটতি যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, একইভাবে অধিক ঘুম স্বাস্থ্যের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তাই পরিমিত ঘুমান এবং নিজেকে সব ধরনের মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখুন। উত্তেজিত হওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং ঠান্ডা মাথায় সবকিছু পরিচালনা করুন।

সর্বোপরি নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়- স্বজনের খোঁজ নিন। তাদেরও সচেতন করুন। এছাড়া, মানুষ সচেতনভাবে নিজেদের যত্ন নিতে পারলেও পশু-পাখিরা সেটা পারে না। তাদের প্রতিও সদয় হন। বাড়িতে পোষা প্রাণী ও বাগানের গাছপালার এই গরমে সঠিক পরিচর্যা করুন।

About

Popular Links