Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাইপাস সার্জারির জন্য আসছে কৃত্রিম রক্তনালী

অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই বাইপাস সার্জারির জন্য উপযুক্ত রক্তনালী পাওয়া যায় না

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০১:২১ পিএম

বাইপাস সার্জারির জন্য শরীরের অন্য অংশ থেকে রক্তনালী নেন সার্জনরা। তবে অনেক সময় রোগীর শরীরে উপযুক্ত রক্তনালী পাওয়া যায় না। তাই অনেকদিন ধরেই কৃত্রিম রক্তনালী তৈরির চেষ্টা চলছে।

জার্মানির কিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে এমন রক্তনালী বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ভাস্কুলার সার্জন ডা. রুফেন ব্যার্ন্ট বলেন, ‘‘কৃত্রিম ধমনী দিয়ে অস্ত্রোপচার অনেক পুরোনো এক স্বপ্ন। কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন হিসেবে আপনি অবশ্যই এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হবেন যখন আপনি রোগীকে সুস্থ করতে চাইবেন, কিন্তু হৃদযন্ত্র বা পায়ে বাইপাস সার্জারির জন্য উপযুক্ত উপাদান খুঁজে পাবেন না। তাই অনেকদিন ধরে গবেষণাগারে বায়ো-আর্টিফিশিয়াল ধমনী সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সেটি সম্ভব হলে আমরা যেসব রোগীর শরীরে বাইপাস সার্জারির জন্য উপযুক্ত রক্তনালী নেই তাদেরও সার্জারি করতে পারব।”

একটি প্রিন্টার দিয়ে একই সঙ্গে দুটি তরল থেকে বায়োম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা নমনীয় এক নল তৈরির পরিকল্পনা করছেন গবেষকেরা। 

তরলগুলোর মধ্যে একটি তথাকথিত “বায়োইঙ্ক”। এটি এক ধরনের জৈব কালি, যা মানুষের ভাস্কুলার কোষসমৃদ্ধ। এর ভিত্তি হলো “অ্যালজিনেট”, যেটি বাদামি শ্যাওলা দিয়ে তৈরি হয়। 

হিউম্যান বায়োলজিস্ট মার্টিন আলব্রেশট বলেন, ‘‘অ্যালজিনেটের সমস্যা হলো, কোষগুলো এর সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত হতে পারে না। সে কারণে আমরা পেপটাইড যোগ করি, যেটা এক ধরনের প্রোটিন। কোষগুলো পেপটাইডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া পেপটাইড কোষকে সংকেত পাঠাতে পারে বলে কোষগুলো বেঁচে থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে।'' 

শুরুতে সাধারণ থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করলেও গবেষকরা এখন এ কাজে রোবটের হাত ব্যবহার করছেন, যার সঙ্গে বিশেষভাবে তৈরি দুই চেম্বারবিশিষ্ট প্রিন্টহেড যুক্ত। একটি চেম্বারে থাকে বায়োইঙ্ক, অন্যটিতে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড। গবেষকরা ইতোমধ্যে অসংখ্যবার পরীক্ষামূলক প্রিন্ট করেছেন।

প্রিন্ট হওয়া বাইপাসের পুরুত্ব যেন সব জায়গায় একই থাকে তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিমভাবে তৈরি বাইপাস যতটা সম্ভব অপরিবর্তনশীল হতে হবে যেন তা রোগীর শরীরে কয়েক দশক কার্যকর থাকতে পারে। 

প্রিন্ট হওয়ার পর বাইপাসকে কয়েকদিনের জন্য ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার পুষ্টিকর দ্রবণে চুবিয়ে রাখতে হবে। 

সেল বায়োলজিস্ট কারিনা সিট্টা বলেন, ‘‘আমরা সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় প্রিন্ট করি। কিন্তু কোষগুলোকে এই তাপমাত্রায় অনেকদিন রাখলে কোষের ক্ষতি হতে পারে। সে কারণে আমরা প্রিন্ট করার পর বাইপাসকে ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার বায়োরিঅ্যাক্টরে রেখে দিই।”

About

Popular Links