Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার ‘মাঙ্কি মাইন্ড’

এক ডাল থেকে আরেক ডালে ছুটে বেড়ায় মন

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৫:৪০ পিএম

আপনি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করছেন, কিন্তু তার মধ্যেও আরও অন্য অনেক বিষয় একটার পর একটা আপনার মাথায় আসছে। যার ফলে কোনোকিছুতে একাগ্রভাবে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আপনার মন যেন ভীষণ অস্থির, এক ডাল থেকে আরেক ডালে ছুটে বেড়ায়। ঠিক যেন বানরের মতো। আর এ কারণেই এই ধরেনর অস্থির মানসিকতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “মাঙ্কি মাইন্ড”।

তবে এই ধরনের মানসিকতা যে খুব একটা সুখকর নয়, তা সহজেই বলে দেওয়া যায়। মন স্থির না থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, কোনো সিদ্ধান্তই সঠিকভাবে নেওয়া যায় না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনে।

আবার ক্রমাগত এই চিন্তা ও বিভ্রান্তি থেকে উদ্বেগজনিত বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও বিষাদগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে। তবে মাঙ্কি মাইন্ডের এই সমস্যা কিন্তু নিরাময়যোগ্য। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মাঙ্কি মাইন্ডের লক্ষণ ও সমাধান সম্পর্কে-

লক্ষণ

  • মাঙ্কি মাইন্ড থাকলে মাথার মধ্যে একটার পর একটা চিন্তা বিরামহীন চিন্তা চলতে থাকে। বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনার ফলে কোনো বিষয়ে মনযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একটি কাজ করতে বসে অন্যমনস্কতা ও মনোযোগের ঘাটতির কারণে কাজটি ঠিকঠাক শেষ করা সম্ভব হয় না। সেইসঙ্গে ভুগতে হয় সিদ্ধান্তহীনতায়।
  • মাঙ্কি মাইন্ডের অন্যতম লক্ষণ উদ্বিগ্নতা আর অস্থিরতা। অতিরিক্ত ভাবনাচিন্তা ও নেতিবাচক চিন্তার ফলে অস্থিরতা বাড়ে। যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত হয়।
  • অতিচিন্তার ফলে মানসিক ক্লান্তি বা অবসাদ জেঁকে বসে। এতে বিষণ্ণতা ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • জীবনে অনেক কিছু করতে হবে এবং অর্জন করতে হবে- মাঙ্কি মাইন্ডের ফলে এমন চিন্তা কাজ করে। এ কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারা থেকে হতাশা কাজ করে।
  • অতীতে কী হয়েছিল, ভবিষ্যতে কী হবে- এমন অতিরিক্ত চিন্তা মাথার মধ্যে চলতে থাকে।
  • অস্থিরতার বা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেই রাত পার হয়ে যায়।

সমাধান

  • অস্থির এই মানসিকতা থেকে মুক্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মেডিটেশন। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে মনকে প্রশান্তি দেয়, এমন কিছু কাজ দৈনিক চর্চা করতে পারেন। বুকভরে শ্বাস নেওয়া, মাংসপেশিকে বিশ্রাম দেওয়ার মতো বিষয় মনকে প্রশান্তি দিতে পারে।
  • অনমস্কতা থেকে বাঁচতে দিনের কোন কোন কাজে প্রাধান্য দেবেন, তা দিনের শুরুতেই ঠিক করে ফেলুন। পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করার জন্য সময় বরাদ্দ রাখুন। পারলে মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন সাইলেন্ট করে রাখুন, এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে।
  • পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পুষ্টিকর খাবার মন চাঙা রাখে। আপনাকে আনন্দ দেয়, এমন কিছু করুন। নিজের জন্য কিছু একান্ত সময় রাখুন।
  • ঘুমের সমস্যা থেকে বাঁচতে ঘুমের রুটিন তৈরি করে মেনে চলুন। রাতে ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার রাখুন, মোবাইল ফোন কাছে রাখবেন। তবে প্রশান্তিদায়ক মিউজিক শুনতে পারেন। ঘুমানোর সময় মাঙ্কি মাইন্ড দূরে রাখতে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে অতিউদ্দীপক কিছু, যেমন মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা কফি খাওয়ার মতো কাজ থেকে বিরত থাকুন।
  • মাঙ্কিমাইন্ড থেকে রেহাই পেতেকোনো কাজ ফেলে রাখা চলবে না। দিনে কী কী কাজ করবেন, সেসবের ডেডলাইন ঠিক করে কাজ সারুন। পারলে ঘণ্টাপ্রতি ডেডলাইন ঠিক করে নিন।
  • প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। পার্কে হাঁটুন বা একাকী নদীর ধারে বসুন। যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ শারীরিক কাজ আপনার মন ও শরীরকে ক্লান্ত করে দিতে পারে ও স্থির করতে পারে মন।
  • সর্বোপরি মানসিকভাবে অস্থিরতার এই সমস্যা যদি নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠে সেক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হোন। এক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি খুব কার্যকর।

About

Popular Links