Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রিয়জনের অবসাদে আপনার করণীয়

  • অবসাদ থেকে হতে পারে জটিল মানসিক রোগ
  • এমনকি অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে আত্মহত্যাপ্রবণও
আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ১১:১২ এএম

মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা আমাদের সার্বিক সুস্থতার অন্যতম শর্ত। তবে দৈনন্দিন জীবনে নানা চাপ প্রভাব ফেলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে। যার ফলে শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ-সবল থাকলেও কাউকে পূর্ণ সুস্থ বলা যায় না।

পেশাগত কিংবা পারিবারিক জীবনে দিন দিন প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌড়ে মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। মানসিক অবসাদ গ্রাস করছে অনেককেই। সেইসঙ্গে মানসিক চাপও বাড়ছে। হয়ত দেখবেন, আপনার খুব কাছের কেউ বলছে যে; মন ভালো নেই বা তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও অবসাদে ভুগছেন।

এই বিষয়টিকে মোটেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, অবসাদ থেকে হতে পারে জটিল মানসিক রোগ। এমনকি অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে আত্মহত্যাপ্রবণও।

তবে, এমন পরিস্থিতিতে আপনি হয়ত তাকে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু দেখা গেল, তাতেও তার অবস্থার তেনম কোনো বদল হচ্ছে না। আবার আপনি বিরক্ত হলে বা বিরক্তিভাব দেখালে সেই মানুষটির উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি আসলে আপনার কী করণীয়? চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মনের চাপ কমাতে বেশ কার্যকরী। তাই কাছের কেউ অবসাদে ভুগলে তার সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটান। মন খুলে কথা বলুন, ছোটবেরার মতো খেলাধুলায় মেতে উঠুন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়লে মন ভালো থাকে। তাই অবসাদে ভোগা মানুষটির ভালো লাগা জেনে তাকে তেমন বই উপহার দিন। বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনাও করুন। দেখবেন তিনি অনেকটা হালকা বোধ করছেন।

মন ভালো রাখতে পেশাগত কাজ ছাড়াও নানা রকম সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা খুব জরুরি। ছোটবেলায় আমাদের যে শখগুলো থাকে, তা পেশা-সংসার-পারিবারিক নানা দায়িত্বের চাপে একসময় হারিয়ে যায়। সেই সব শখ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি কেউ ছবি আঁকতে ভালবাসেন, তা হলে সেটা নতুন করে শুরু করলে ভালো। কবিতা লেখার অভ্যাস থাকলে আবার কলম ধরাই যায়। গান শোনা, ছবি তোলা, ডাকটিকিট জমানো, বাগান করা— যা ভালো লাগে করা উচিত। নিজের মতো সময় কাটালে মনের উপর চাপ কমতে থাকবে ধীরে ধীরে।

বাড়ির বয়স্কদের ক্ষেত্রে অবসাদ দূরে রাখতে সামাজিক গঠনমূলক নানা কাজে মন দিতে বলছেন বিশেষজ্ঞেরা। দরকার হলে বয়স্কদের বেড়াতে নিয়ে যান, তাদের ভালো লাগার স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

অবসাদে ভোগা মানুষটিকে কখনোই একা থাকতে দেবেন না। দরকার হলে প্রতিদিনই আড্ডার আসর বসান। তার পছন্দের খাবারগুলো সাজিয়ে দিন। পুরনো দিনের আনন্দের মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলুন।

তার সমস্যাগুলো শুনুন, খারাপ লাগার জায়গাগুলো বুঝুন। নিজের মতামত না দিয়ে তাকে বলতে দিন। তাহলে তিনি বুঝবেন কেউ পাশে আছে। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায়, মনের কথা খোলাখুলি বলতে না পারলে আরও বেশি মানসিক চাপ তৈরি হয়। যিনি অবসাদগ্রস্ত তিনি ভরসার জায়গাটাই হারিয়ে ফেলেন। তাই আপনাকেই সেই ভরসা ও বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি করতে হবে।

মন ভালো রাখার জন্য শরীরচর্চা ও প্রকৃতির সান্নিধ্যের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে হাঁটাহাঁটি করা বেশ ভালো মাধ্যম হতে পারে। এতে শরীর তো ভাল থাকেই, মনও থাকে ফুরফুরে। তবে যেমন-তেমন ভাবে হাঁটা নয়। ভোরবেলা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারলে খুব ভালোহয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মাটির সঙ্গে সরাসরি মনের যোগাযোগ তৈরি হয়। সবুজ প্রকৃতির সংস্পর্শে মন ভাল থাকে, অবসাদ কাছে ঘেঁষে না।

তবে সর্বোপরি এটা মনে রাখতে হবে যে, মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতায় চিকিৎসকের পরমার্শের চেয়ে ভালো বিকল্প কোনোটিই হতে পারে না। তাই, কেউ “ভালো লাগছে” না বললেই সেটিকে গুরুত্ব দিন। নিজের কিংবা কাছের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় সাইক্রিয়াটিস্টের শরণাপন্ন হোন।

About

Popular Links