Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১,৩০০ কেজির মহিষ ‘পাঠান’

খামারিরা বলছেন, দেশে ধীরে ধীরে মহিষের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম

ঢাকার সাভারে কাইয়ুম এগ্রো নামে খামারে থাকা একটি বিশালকায় মহিষের ওজন ১,৩৩০ কেজি। “পাঠান” নামে মহিষটি কোরবানির ঈদে বিক্রি করতে চায় খামারটি। 

উপজেলার শ্রীপুর গণকবাড়ি এলাকার খামারে বেড়ে ওঠা মহিষটি এরই মধ্যে নজর কেড়েছে ক্রেতাদের। “বড় জাত” হিসেবে পরিচিত জাফরাবাদি জাতের অন্তত ৬০টি মহিষ রয়েছে এ খামারে।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ২০০টি মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৭০% মহিষ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। 

সম্প্রতি খামারে গিয়ে দেখা মেলে একটি বিশালাকার মহিষের। খামারিরা যার নাম দিয়েছেন পাঠান। বর্তমানে এটির ওজন ১,৩৩০ কেজি। তাদের আশা, ভালো দামে বিক্রি হবে এই মহিষ।

খামারি জানান, শখ থেকে নয় বছর আগে সাত বিঘা জমিতে কাইয়ুম এগ্রো খামার গড়ে তোলা হয়। শুরুতে এতে শুধু গরু ছাগল থাকলেও এখন পালন করা হচ্ছে মহিষ আর দুম্বাও। তাদের দাবি, উপজেলার সবচেয়ে বেশি মহিষ রয়েছে তাদের খামারে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, দেশের অনেক জায়গায় মহিষ পালন করা হয়। তবে আমাদের এখানে সম্ভবত খামারি হিসেবে সবচেয়ে বেশি মহিষ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের খামারে ২০০-র মতো মহিষ রয়েছে।

তিনি বলেন, মহিষের রোগব্যাধি কম। মহিষের মাংসে গরুর চেয়ে ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান কম আছে। অনেকেই এখন মহিষের মাংসের দিকে ঝুঁকেছে তাই আমিও মহিষ পালন শুরু করেছি। এছাড়া মহিষের খরচের তুলনায় বিক্রিতে লাভ থাকে বেশি।

তিনি আরও বলেন, খামারে ওজন স্কেল বসানো হয়েছে। ক্রেতারা এসে ওজন করে মহিষ কেনেন। ৩০০ থেকে ৬০০ কেজির মহিষগুলো বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৪৩০-৫৫০ টাকায়। তবে এর চেয়ে বড় আকারের মহিষ ওজনে বিক্রি হয়না। সেগুলো দামাদামি করেই বিক্রি হয়।

বড় আকারের মহিষ পাঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, তিন বেলা প্রায় ৩০-৪০ কেজি করে খাবার খায় এটি। দিনে ৫-৬ বার গোসল করানো হয় এটিকে। শরীরে যাতে চামড়া না ফেটে যায় এজন্য একদিন পরপর সরিষার তেল মালিশ করা হয়। একইভাবে প্রত্যেকটি পশুকেই এখানে যত্ন নিয়ে পালন করা হয়।

এই খামারের পশু কেনা যায় অনলাইনেও। আর ঢাকার আশেপাশের এলাকায় দেওয়া হয় ফ্রি ডেলিভারি। গরু বা মহিষের দুধের পাশাপাশি ঘি ও সরিষার তেল বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন স্থানীয় ক্রেতারা এসে দুধ কিনে নিয়ে যান।

২০২৩ সালে বিবিএসের শুমারি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে দেশে মহিষের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৫৭ হাজার। বর্তমানে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ১৬ হাজার। গত দশ বছরে বেড়েছে ৫৯ হাজার। ২০১৭ সালে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার মহিষ ছিল এদেশে। উন্নতি হয়েছে ২০২০ সালে। ২০১৯ সালে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মহিষ, ২০২০ সালে বেড়ে ১৫ লাখ হয়েছে মহিষের সংখ্যা।

খামারিরা বলছেন, ধীরে ধীরে দেশে মহিষের সংখ্যা বাড়ছে। মহিষের রোগব্যাধিও কম হয়, গরুর চেয়ে কম মানের খাবার খেয়েও তারা ভালো থাকে তাই খামারিরাও ঝুঁকছে। গরুর পাশাপাশি আমিষের খুব ভালো একটি উৎস মহিষ।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব বলেন, দেশে মহিষের চাহিদা বেড়েছে। মহিষের মাংসের দাম কম। আবার এটি স্বাস্থ্যকরও। ফলে সবাই মহিষ পালনের দিকেই ঝুঁকছে।

About

Popular Links