Tuesday, June 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই দেখে নেবেন

হাটে পশু বাছাইয়ের সময় কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স হয়েছে কি-না কিংবা পশুটি দেশি নাকি কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা, নাকি অসুস্থ- তা জানা যাবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০৩:২৫ পিএম

বছরে একবার আসে ঈদ-উল-আজহা। কিনতে হয় কোরবানির পশু। অনভিজ্ঞতার কারণে হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কিনে ঠকে আসেন অনেকেই। অসাধু বিক্রেতা বা দালালরা কখনও কখনও ধরিয়ে দেয় কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু। আবার পছন্দের পশু পাওয়া গেলেও পশুটির কোরবানি দেওয়ার মতো বয়স হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। কোরবানির পশুটি রোগমুক্ত কি-না, নিয়েও ঝামেলায় পড়েন কেউ কেউ। 

হাটে পশু বাছাইয়ের সময় কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স হয়েছে কি-না কিংবা পশুটি দেশি নাকি কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা, নাকি অসুস্থ- তা জানা যাবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে।

কৃত্রিম মোটাতাজা গরুর শরীরে চাপ দিলে মাংস দেবে যায়

গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি খামারিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে অসাধু খামারিরা স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার জন্য স্টেরয়েড ও বিভিন্ন ক্ষতিকর হরমোনের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজা করে থাকে। এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করা হয় গরুর ওপর। এসব পশুর মাংস খেলে শরীরে হতে পারে ভয়ঙ্কর নানা রোগ।

গরুর আচরণ, হাঁটাচলা, খাবারে অনাগ্রহ, শ্বাস-প্রশ্বাস, লালা ফেলার মাত্রা, নাকের ওপরের অংশের শুষ্কতাসহ কিছু বিষয় দেখে জানা যাবে গরুর ধরন। তবে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় শরীরে আঙুলের চাপ দেওয়া। এসব গরুর দেহের মাংসাল অংশে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেবে যায়, তা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে বেশ কিছুক্ষণ। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু ক্লান্ত ও নির্জীব থাকে, নড়াচাড়া কিংবা হাঁটাচলাও করে কম। এসব গরুর সামনে খাবার রাখলেও খেতে আগ্রহ দেখায় না, শ্বাস-প্রশ্বাস থাকে অপেক্ষাকৃত দ্রুত। স্বাভাবিক পশুর তুলনায় কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মুখ দিয়ে লালা পড়ে বেশি, নাকের ওপরের অংশ বা মাজেল থাকে শুষ্ক।

দেশি গরু আকারে ছোট হয়

দেশি জাতের গরু সাধারণত কম মাংসল ও আকারে ছোট হয়। দেশে সাধারণত পাঁচটি জাতের গরু পাওয়া যায়। এর মধ্যে চিটাগাং ক্যাটেল, পাবনা ক্যাটেল ও নর্থ বেঙ্গল গ্রেড সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। চিটাগাং ক্যাটেল গরু তুলনামূলক ছোট হয়, উচ্চতা সাড়ে তিন ফুটের মতো এবং দৈর্ঘ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের মতো হয়। লিঙ্গভেদে একটি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর ওজন হয় আশি থেকে আড়াইশ কেজি পর্যন্ত। আর পাবনা ক্যাটেল জাতের গরুর গায়ের রঙ সাধারণত লাল, ধূসর বা এই দুই রঙের মিশ্রণ হয়। এই জাতের পুরুষ গরু সাধারণত গাঢ় ধূসর আর সাদা রঙের মাঝামাঝি হয়ে থাকে। চোখের পাতা, শিং এবং লেজের প্রান্ত কালো রঙের হয়। উচ্চতা কমবেশি চার ফুট এবং দৈর্ঘ্যে পাঁচ ফুটের মতো হয়। আর ওজন আড়াইশ থেকে চারশ কেজি পর্যন্ত হয়।

গরুর সুস্থতা বোঝা যায় খেয়াল করলেই

এই সময়ে গরু লাম্পি ও ক্ষুরা রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। লাম্পি রোগ হলে গরুর গায়ে গুটি গুটি দানার মতো থাকে, যা খেয়াল করলেই বোঝা যায়। আর ক্ষুরা রোগ হলে গরুর ক্ষুরায় ক্ষত বা ঘা। মুখের বিভিন্ন স্থানেও ঘা হয়, এতে মুখ দিয়ে লালা ঝরে। তাছাড়া কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর অনেক বৈশিষ্ট্যও অসুস্থ গরুর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

দাঁত দেখে বয়স বোঝা যায়

নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির গরুর বয়স অন্তত দুই বছর হতে হয়। বয়স নিয়ে সংশয় থাকলে দাঁত দেখে গরুর বয়স নিশ্চিত হওয়া যায়। সাধারণত জন্মের মাসখানেক পর গরুর মুখে নিচের পাটিতে আটটি অস্থায়ী দাঁত গজায়। এক বছর বয়সে মাঝের দুটি দাঁত পড়ে গিয়ে গজায় স্থায়ী দাঁত। এই দুটি দাঁত অন্য দাঁতগুলোর চেয়ে বেশ বড় ও দেখতে অনেকটা কোদালের মতো হয়। এ কারণে এদের কোদাল দাঁতও বলা হয়ে থাকে। দুই-আড়াই বছরের মধ্যে স্থায়ী দুই দাঁতের পাশে আরও দুটি স্থায়ী দাঁত গজায়, যা অস্থায়ী দাঁতের চেয়ে আকারে বড় হয়। এভাবে চার বছরে সব অস্থায়ী দাঁত পড়ে গিয়ে আটটি স্থায়ী দাঁত গজায়। এসব দাঁত দেখে গরুর বয়স অনুমান করা যায়।

About

Popular Links