• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪০ সকাল

বিশ্বকাপ ডায়েরি: মহাকাশের বিজয়ীরা

  • প্রকাশিত ০৬:৫৬ সন্ধ্যা জুন ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৭ রাত জুন ১৫, ২০১৮
unnamed-1529002264897-1529067350116.jpg

যাদুঘরে ঢুকতেই আপনাকে সবার আগে স্বাগত জানাবে ইউরি গ্যাগারিনের এক বিশাল ধাতব ভাস্কর্য

আপনি মস্কো জুড়ে একাধিক বিজ্ঞান জাদুঘর পাবেন যেগুলোতে রাশিয়ার অনেক মহৎ কীর্তির নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে যেগুলো পৃথিবীতে অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে মস্কোর Memorial Museum of Cosmonautics বা মহাকাশ বিষয়ক যাদুঘরটি একেবারেই আলাদা। এটি খুব অনন্য একটি জায়গা যেখানে আপনি মহাকাশ বিজয়ে রাশিয়ার অর্জন ও মানবজাতির অন্যতম সেরা সাফল্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

বৃহস্পতিবারের সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমি বিশাল প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম যখন বাংলাদেশ থেকে আসা এক বন্ধুর সাথে আমার দেখা হয়; যিনি ২০১৮’র বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ দেখার জন্য এখানে এসেছেন।

যাদুঘরটি একটি স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে অবস্থিত যেখানে লেখা, ‘মহাকাশের বিজয়ীরা’। টাইটেনিয়ামের তৈরি রকেট আকৃতির এই স্মৃতিস্তম্ভের উচ্চতা হবে ১০০ মিটারের মতো। ১৯৬৪ সনে স্থাপিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত এক ল্যান্ডমার্ক।

জায়গাটি রেড স্কয়ার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই প্রস্পেক্ট মিরায় অবস্থিত, যা ভিডিএনকেএইচ মেট্রো স্টেশনের পাশেই। যাদুঘরটিকে রাশিয়ার মহাকাশচারীদের স্মৃতি যাদুঘরও বলা হয়, অথবা সাধারণত শুধু ‘মস্কোর মহাকাশ যাদুঘর’।

যাদুঘরে ঢুকতেই আপনাকে সবার আগে স্বাগত জানাবে ইউরি গ্যাগারিনের এক বিশাল ধাতব ভাস্কর্য -যিনি মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি- সাথে ১৯৬০ এর আরও কিছু কিংবদন্তিতুল্য নিদর্শন। উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হবার মুহূর্তে গ্যাগারিনের চেহারার আনন্দ যেন আপনাকেও স্পর্শ করবে। 

তাঁর প্রশস্ত হাসি আপনার মন ভাল করে দেবে। এই মিশন যে সফল হবে তা কেউই, এমনকি গ্যাগারিনও ভাবতে পারেন নি। এই সাহসি মানুষ্টি যখন উড্ডয়ন শুরু করে সেই মুহুর্তের অসাধারণ অনেক স্মৃতিচিহ্ন আপনি দেখতে পাবেন। খুব সুন্দরভাবে সাজানো রয়েছে এসব স্মৃতিচিহ্ন। 

আপনার হাতের কাছেই দেখতে পাবেন গ্যাগারিনের ব্যবহৃত স্পেসস্যুট এবং ভস্টকের খোলা ও বন্ধ করা যায় এমন কেবিন। যাদুঘরে সোভিয়ের ও রাশিয়ানদের মহাকাশ বিজয়ের প্রত্যেকটি সফলতা ও বিফলতা বিস্তারিতভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে। সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির অনেক মহাকাশযান একদম মূল আকৃতিতেই দেখা যায় এখানে। 

বহুকাল আগে থেকেই মানুষ মহাকাশ জয় করতে চায়। রাশিয়ার কালুগা শহরের এক অখ্যাত, পদার্থবিদ্যা ও গণিতের শিক্ষক কনস্টান্টিন সিওল্কভস্কির নিবিড় অধ্যয়ন, হাজারবারের পরীক্ষা এবং হাজারখানেক মডেল তৈরির পর তিনি প্রমাণ করেন যে রকেট মহাকাশে যেতে সক্ষম। নভোচারী তত্ত্বের ক্ষেত্রে তার জেট পরিচালনার সূত্র এই শাখায় তাকে পথপ্রদর্শকের মর্যাদা দিয়েছে। 

জিনিসগুলো তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই সাজানো আছে। তবে তারপরও সব বর্ণনাই রুশ ভাষায় লেখার কারণে বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়। 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানের মডেল ও ডায়াগ্রাম দেখার জন্যও এই জায়গাটি অসাধারণ। প্রচুর গবেষণা ও অধ্যয়ন লব্ধ ফলাফল আপনাকে বিজ্ঞান সম্পর্কিত কিছু মজাদার অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারে।

৮৫০০ বর্গমিটারের এই যাদুঘরে বিচরণ করে আপনি সারা জীবনের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।