• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ দুপুর

জীবন বাঁচিয়েছিল ‘পুসকাস অ্যাওয়ার্ড’!

  • প্রকাশিত ০৭:৪৯ রাত জুলাই ২২, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫২ রাত জুলাই ২২, ২০১৮
lira6-1532266843865.jpg
ওয়েন্ডেল লিরা।ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

একজন মানুষকে ২০১৫ সালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল ফিফার পুসকাস অ্যাওয়ার্ড। শুধু জীবন নয়, তার ক্যারিয়ারও বাঁচিয়েছিল অ্যাওয়ার্ডটি।

হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ফেরেনস পুসকাসের সম্মানে ফিফার চালু করা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে জানেন না বা ধারণা রাখেন না এমন ফুটবল ভক্ত নেই বললেই চলে। কিন্তু, কয়জন জানেন যে, একজন মানুষকে ২০১৫ সালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল ফিফার এই পুসকাস অ্যাওয়ার্ড। শুধু জীবন নয়, তার ক্যারিয়ারও বাঁচিয়েছিল অ্যাওয়ার্ডটি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে সাবেক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ওয়েন্ডেল লিরা’র জীবন ও ক্যারিয়ার বাঁচিয়েছিল পুসকাস অ্যাওয়ার্ড-

লিরা ২০১৫ সালে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন সবচেয়ে সুন্দর গোলের জন্য। ওই বছরের ১১ মার্চ ব্রাজিলের গোইয়াস স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে গোইয়ানেশিয়ার হয়ে অ্যাটলেটিকো গোইয়ানেন্সের বিপক্ষের ম্যাচে দুর্দান্ত ‘স্পিনিং বাইসাইকেল কিক’-এ গোলটি করেছিলেন তিনি। স্বচক্ষে সে গোল দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল মাঠে উপস্থিত মাত্র ২৯৭ জন দর্শকের। তবে এক দর্শকের করা ভিডিও’র কল্যাণে ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছিল লিরার সে দুর্দান্ত স্পিনিং বাইসাইকেল কিক। পরে ওই গোলটির জন্যই ফিফার বর্ষসেরা গোলের মনোনয়ন পান লিরা। 

অথচ তখন খুব খারাপ সময় কাটাচ্ছিলেন লিরা। ব্রাজিলের বেশ নিচু স্তরের ক্লাব গোইয়েনশিয়ার হয়ে খেলতেন তিনি। বছরে মাত্র ছয় মাস খেলা থাকত ক্লাবটির, বাকি ছয় মাস কোনো কাজ পেতেন না ক্লাবটির খেলোয়াড়রা। ওই ছয় মাস খেলে উপার্জিত ২৫০ ডলার এবং অনেক সময় তার চেয়েও কম অর্থে সংসার চালাতে হতো ওয়েন্ডেল লিরাকে। ঘরে স্ত্রী ও নবাগত কন্যাসন্তান। আর্থিক টানাপোড়নে হিমশিম খেতে থাকা ফুটবলার লিরা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিদ্ধান্ত নিলেন আত্নহত্যা করার। গাড়ি নিয়ে বেরও হয়েছিলেন তিনি, উদ্দেশ্য ছিল, ভয়ংকর গতিতে হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়ে বিশাল ট্রাকের সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত আর সাহস করে উঠতে পারেননি লিরা। ওই দিনের স্মুতিচারণ করে লিরা বলেন, “আমার এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বাচ্চার জন্য দুধ কেনার টাকাও ছিল না আমার কাছে। বেকার হয়ে ঘুরছিলাম, আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছিলাম না, পরে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।” 

ওই ঘটনার দুই দিন পরেই শুনলেন, ফিফার বর্ষসেরা গোলের সেরা ১০-এ মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। সেদিনই এক পৃষ্ঠপোষকতা প্রতিষ্ঠান ফোন করে তাকে জানাল, জুরিখে পুরস্কার বিতরনীতে সপরিবারে যাওয়া-আসাসহ লিরার সব ব্যবস্থা করে দেবেন তারা। এরপর জুরিখে গিয়ে লিরার পরিচয় হল লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, মার্সেলো, লুকা মদ্রিচের মতো তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে। সেবার সবাইকে পেছনে ফেলে পুসকাস শিরোপাও জিতে নিলেন তিনি। সঙ্গে ঘটল আরও বড় এক ঘটনা। 

শখের বশে আগে থেকেই ভিডিও গেমস খেলতেন লিরা। আর ফিফা ভিডিও গেমটি চিল তার কাছে নেশার মতো। ফিফা পুরস্কারে সেদিন জুরিখে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন ফিফা গেমের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আবদুল আজিজ আলশেহরি। ওই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গেমারের সঙ্গে নেইমার, মেসি বা রোনালদোর একটি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও, তিন ফুটবলারই তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। শেষে প্রস্তাব দেওয়া হয় লিরাকে। রাজি হলেন লিরা, ৬-১ গোলে হারিয়ে দিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আবদুল আজিজ আলশেহরিকে। সিদ্ধান্ত নিলেন, পাকাপাকিভাবে গেমার হয়ে যাবেন, ইউটিউবের মাধ্যমে শেখাবেন কীভাবে আরও ভালোভাবে ফিফা গেমটি খেলা সম্ভব।

গেমার ও ইউটিউবার হিসেবে এগিয়ে চলল লিরার ক্যারিয়ার। বদলে গেল জীবনটাও। বেশ নামডাক হয়েছে তার। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকার হিসেবে ব্রাজিলিয়ান এক রেডিও’র দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।