• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

ক্যান্সার থেকে বাঁচতে পান-সুপাড়িকে না বলুন

  • প্রকাশিত ০১:৩৫ দুপুর অক্টোবর ২৫, ২০১৮
পান-সুপারি
পান-সুপারি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সার গবেষণায় আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি-এর মতে, যারা পানের সাথে তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ করেন তাদের সাধারণের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ওরাল ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে

অতিথি পরায়ন বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম অনুসঙ্গ পান-সুপারি। আর সিলেটবাসীর প্রতিটি পরিবারে পান-সুপারি না হলে যেন চলে না। বিশেষ করে অতিথি আপ্যায়নের পর পান-সুপারি উপস্থাপন করা না হলে যেন জাত-মান-দুটিই যায়।

সময়ের বিবর্তনেও সিলেট অঞ্চলে পান-সুপারির কদর একদম কমেনি। বরং বনেদি ছোঁয়ায় নিজ আভিজাত্যে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে রসালো এই পণ্য।

পানে যেমন মজাদার উপাদান ব্যবহার করা হয়, তেমনই পানের নামেও আছে নতুনত্ব। এখানকার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণেও পান না হলে চলেই না। পানের সাথে মিল রেখে তাই দিনটির নামকরণ হয়েছে পান-চিনি অনুষ্ঠান।

পান একটি গাছের নাম। যার পাতাকে পান হিসেবে ডাকা হয়। এটি চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। শহরে, গ্রামে সর্বত্রই প্রচুর পান দোকান ও পান খাদক দেখা যায়। পান খাওয়ার প্রভাবে দাঁত লাল হয়ে যায়। অনেকে নেশার মত পান খান। পানের সাথে আর যেসব মিশিয়ে খাওয়া হয়- যেমন সুপারি, জর্দা ও চুনে ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়ার মুখে ক্যান্সার রোগ ধরা পড়ে অতিরিক্ত পান খাওয়ার কারণে। ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অধ্যাপক কিবরিয়াকে সে কথাই জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমি ১৯৭৮ সাল থেকে পান খাওয়া শুরু করি। তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। এখন অবশ্য পান খাওয়া বাদ দিয়েছি।

সিলেটের ঘরে-ঘরে পান একটি অতি পরিচিত খাবার। সাধারণত অতিথি আপ্যায়নে কিংবা কোনো বৈঠকে আলোচনা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে পানের ব্যবহার দেখা যায়। পান বলতে মুলত পানের সাথে সুপারি, চুন ও নানান রকমের জর্দা (তামাক জাতীয় দ্রব্য), খয়ের ইত্যাদি একসাথে বোঝায়। পানের সাথে সবসময় সুপারি দেয়া হয়। সুপারি ছাড়া পান খেলে রস পাওয়া যায়না।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সী'র মতে, সুপারি ও পান এক ধরনের কার্সিনোজেন (বিষ), যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সুপারিসহ পান খেলে মুখের ক্যন্সার হতে পারে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, পান-সুপারি খাওয়ার কারণে মুখে আলসার, ক্যান্সারসহ নানা রোগ হতে পারে। তবে কতটুকু পান-সুপারি খেলে এ রোগ হতে পারে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, যে খাবার রোগ সৃষ্টি করে তা বর্জন করা শ্রেয়।   

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারি দিয়ে পান খেলে মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৯.৯ গুন (জর্দাসহ) এবং ৮.৪ গুন ( জর্দা ছাড়া)। পানে রয়েছে টারফেনলস। পান খাওয়ার কারণে ঠোঁট ও জিহ্বাতে দাগ পড়ে যায়। চুনে রয়েছে প্যারা অ্যালোন ফেনল যা মুখে আলসার সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ঘা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। সুপারিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার সাইকোএকটিভ এলকালয়েড। এ কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কাঁচা সুপারি চিবালে শরীরে গরম অনুভূত হয়, এমনকি শরীর ঘামিয়ে যেতে পারে। সুপারি খেলে তাৎক্ষণিক যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলো হল-অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে। হাইপারটেনশন বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

ক্যান্সার গবেষণায় আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি-এর মতে, যারা পানের সাথে তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ করেন তাদের সাধারণের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ওরাল ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আবার পানের উপকারীতাও আছে। পান পাচন শক্তি বৃদ্ধি করে, আওয়াজ পরিস্কার করতে পান সাহায্য করে, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে, পানের সাথে গোলমরিচ, লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়৷