• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

শীতের খোঁজে উত্তরে!

  • প্রকাশিত ০৭:০২ রাত জানুয়ারী ২২, ২০১৯
কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট
কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট ছবি: সংগ্রহীত

পঞ্চগড় থেকে আমাদের গন্তব্য রওশনপুর এর কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট। এই চা বাগানের বৈশিষ্ট্য হল এখানে সমতলভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে চা বাগান।

উত্তরের শীত নাকি ভয়াবহ! শীতের খোঁজ নিতেই উত্তরের ট্রেন ধরলাম। ‘দ্রুতযান’-এ চেপে বসলাম, গন্তব্য পঞ্চগড়। রাতের ট্রেনযাত্রার এক মোহগ্রস্ততা আছে। জনপদ পেরিয়ে ছুটে চলে ট্রেন। একেক জনপদের একেক আমেজ, কোথাও শীত বেশি, কোথাও কম। কোথাও শূণ্য স্টেশন, কোথাও কোলাহল। 

বাংলাদেশের ট্রেনের নামগুলো এত সুন্দর বাংলায়, নাম পড়লেই মনে ভালো হয়ে যায়। ধুমকেতু, সোনার বাংলা, পারাবত, তিস্তা, মহানগর, নীলসাগর, অগ্নিবীণা, একতা, জয়ন্তিকা, সুবর্ণ, চিত্রা, দ্রুতযান, মহানগর, উপবন, তূর্ণা। 

রাতের দীর্ঘযাত্রা শেষে ভোর সাড়ে ৯টায় পৌঁছালাম পঞ্চগড় রেলস্টেশনে। শুক্রবার শীতের সকাল। ছিমছাম শহর, রেলস্টেশনে পাতলা ভিড়। ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা যে যার গন্তব্যে চলে যাচ্ছে, স্টেশন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ভ্রমণে কিছুটা বোধ হয় ক্লান্ত ‘দ্রুতযান’, একা একা ট্রেন জিরিয়ে নিচ্ছে প্ল্যাটফর্মে। 

পঞ্চগড় থেকে আমাদের গন্তব্য রওশনপুর এর কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট। এই চা বাগানের বৈশিষ্ট্য হল এখানে সমতলভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে চা বাগান। পঞ্চগড় শহর থেকে রওশনপুরের চা-বাগানের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটারের মত। যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। স্টেশন থেকেই একটা অটোরিকশা নিয়ে নিলাম সারাদিনের জন্য। হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে রওনা হয়ে গেলাম রওশনপুরের পথে। 

রওশনপুর যাওয়ার আগে তেঁতুলিয়া বাজার, ডাকবাংলোতে থামলাম। ডাকবাংলোর সাথে মহানন্দা নদী্ আর মহানন্দা নদীর ওপারেই ভারতের সীমানা। এই নদী যেন দুই দেশের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে সীমানারেখা হয়ে। 

মহানন্দা নদীর পাড়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার রওশনপুরের পথ ধরলাম। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। চা বাগানে পরিচিত কেউ থাকলে অনুমতি পাওয়া যায়। ঘোরার জন্য অনেক মানুষ সেখানে যান। 

বিশাল জায়গাজুড়ে সুন্দর এই চা বাগান। বাগানের ভেতরটা নির্জন এবং থাকার জন্য রিসোর্টও রয়েছে তবে সেখানে থাকার জন্যও অনুমতি প্রয়োজন হয়। সুযোগ থাকলে চা বাগানে এক রাত কাটিয়ে আসতে পারেন। সেখানকার নির্জনতা উপভোগ করবেন। 

বিকেলটা ঘুরে দেখে এবার ফেরার পালা। পঞ্চগড় রেলস্টেশন থেকে রাত ঠিক ৯টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে একতা/দ্রুতযান এক্সপ্রেস। ৯ টা মানে ঠিক ৯ টাই। রাতের ট্রেনে করে আমরা ফিরে আসি পার্বতীপুর। 

আপনার যদি শুধু চা বাগানটাই দেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে একদিনেই ভালো ট্যুর দিতে পারবেন। আর যদি হাতে সময় থাকে তাহলে পঞ্চগড় শহরটা ঘুরে দেখতে পারেন। সুন্দর, গোছানো ছিমছাম শহর। এছাড়াও আরেকদিন সময় নিয়ে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, রামসাগর দীঘি দেখে আসতে পারেন।

হাতে দুদিন সময় রাখলে দিনাজপুর-পঞ্চগড় ভালোভাবেই ঘুরে আসতে পারবেন। ঢাকায় শীত তেমন না থাকলেও উত্তরে ভালোই শীত। তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করে। সন্ধ্যার পর থেকেই শীত বাড়তে থাকে। শীতের রাতের রেলস্টেশনের এক অন্যরকম মায়া আছে। ট্রেন থেকে নেমে দেখতে পারেন!