• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

বসে থাকাই যখন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা!

  • প্রকাশিত ১১:২৪ সকাল আগস্ট ৯, ২০১৯
পোল সিটিং
পোল সিটিং খেলা। ছবি: সংগৃহীত

এই প্রতিযোগিতায় অবশ্যই আপনি প্রতি ঘণ্টায় বিরতি এবং টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ পাবেন

বলা হয়ে থাকে, খেলাধুলা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের একটি অঞ্চলের ‘পালজিত্তেন’ বা পোল সিটিং অর্থাৎ খুঁটির ওপর বসে থাকা খেলাকে বিবেচনায় আনা যাবে না। কারণ এই খেলার নিয়মই হলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আপনাকে বসে থাকতে হবে কাঠের খুঁটির ওপর। যতক্ষণ না অসাড়তা বা একঘেয়েমি আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করে।

এই খেলার উৎস বা প্রচলনের সময়কাল কেউ সঠিকভাবে বলতে না পারলেও কেউ কেউ ধারণা করেন, এই খেলার প্রচলন সম্ভবত নেদারল্যান্ডসের ফ্রিয়েসল্যান্ড প্রদেশে। তাদের মতে, সেখানকার স্থানীয়রা একঘেয়েমি থেকে রেহাই পেতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জিনিসগুলোকেই একটু ভিন্নভাবে ব্যবহার করতেন। সেরকমই একটা বস্তু এই কাঠের খুঁটি। তবে ঠিক কী কারণে কাঠের খুঁটির ওপর বসে থাকা কীভাবে একঘেয়েমি দূর করতে পারে কিংবা বিষয়টি কার মস্তিষ্কপ্রসূত, সে বিষয়েও কিছু জানা যায় না। সে যাইহোক, এখনও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ এই খেলার প্রচলন রয়েছে।

১৯৭০-এর দশকে পোল সিটিং। ছবি: সংগৃহীতসাধারণত স্বল্প গভীর জলাশয়ে খুঁটি বসিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি খুঁটি বসানো হয় কয়েক মিটার ফাঁকা রেখে। যাতে করে ওঠানামায় অসুবিধা না হয় বা পড়ে গেলে আহত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আধুনিককালে এসে খুঁটিগুলোর ওপরে সংযুক্ত করা হয়েছে টুল এবং পিঠে হেলান দেওয়ার ব্যবস্থা। তবে হ্যাঁ, এই প্রতিযোগিতায় অবশ্যই আপনি প্রতি ঘণ্টায় বিরতি এবং টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সবসময় এই প্রতিযোগিতার এমন নিয়ম ছিল না। ১৯৭০-এর দশকে প্রতিযোগীরা কোনোক্রমেই তাদের আসন ছাড়তে পারতেন না। উঠলেই তার খেলা শেষ! খুঁটির সঙ্গেই বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো টয়লেটের জন্য। রেকর্ড আছে, ১৯৭২ সালে এক প্রতিযোগী টানা ৯২ ঘণ্টা বসেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে এই খেলা চলে এলেও স্বাভাবিকভাবেই কমতে শুরু করেছে আকর্ষণ। একে খেলা হিসেবে নয় বরং পর্যটকদের আকর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো। কারণ বর্তমান সময়ে এসে দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থাকার মতো সময় খুব কম মানুষের হাতেই আছে।