• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

১৩০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন যে অন্ধ, বধির পর্যটক!

  • প্রকাশিত ০৫:০৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
পর্যটক
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্ত্বেও ভ্রমণের নেশায় ১৩০টির বেশি দেশ এরইমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন টনি জাইলস। ছবি: বিবিসি

অনেকসময় মানুষ তার ভ্রমণের নেশা দেখে হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘একজন অন্ধ ও বধির ব্যক্তি কেন পৃথিবী ঘুরে দেখতে চাইবে?’ জাইলসের উত্তরটা কিন্তু খুবই সহজ, ‘কেন নয়?’

"বিশ্বের সবকটি মহাদেশ আমি ঘুরেছি, এমনকি অ্যান্টার্কটিকাও। আমার লক্ষ্য হলো বিশ্বের সবকয়টা দেশ ভ্রমণ করা।"

অন্ধ ও বধির টনি জাইলস বলছিলেন তার স্বপ্নের কথা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্ত্বেও ভ্রমণের নেশায় ১৩০টির বেশি দেশ এরইমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। এক বিশেষ প্রতিবেদনে তার কথা জানিয়েছে বিবিসি।

"কেউ কেউ হয়তো বলবেন আমি ভ্রমণের চূড়ান্ত ধাপের উদাহরণ। তাদেরকে আমি দেখাতে চাই যে, আপনি বিকল্প পন্থায়ও বিশ্বকে দেখতে পারেন," ইথিওপিয়া সফরের সময় বিবিসি'র ট্র্যাভেল শো'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ ভ্রমণকারী।

স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব

জাইলস গত ২০ বছর ধরে নতুন নতুন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেরকমই একটি সফরের সময় তিনি তার গ্রিক বান্ধবীর সাথে পরিচিত হন যিনি নিজেও অন্ধ। গতবছর বান্ধবীর সাথে রাশিয়া গিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের বৃহত্তম দেশটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ট্রেন দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। তবে অধিকাংশ ভ্রমণে জাইলস একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, "আমি মানুষের কথা শুনি, পাহাড়ে উঠি, সবকিছু আমি আমার স্পর্শ ও পায়ের মাধ্যমে অনুভব করি। এভাবেই আমি একটি সব দেশ দেখি।"

নতুনকে জানার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

জাইলসের ভ্রমণের অর্থ জোগাড় হয় তার বাবার পেনশনের টাকা থেকে। কাজেই আগে থেকেই যথেষ্ট পরিকল্পনা করে ভ্রমণসূচি ঠিক করেন তিনি।

প্লেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে তার মা তাকে সাহায্য করেন,। জাইলসের মতে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স কোম্পানিতেই অন্ধদের জন্য যথেষ্ট সুবিধা নেই।

কোনো দেশে থাকার সময় যারা তাকে সাহায্য করেন, তাদের সাথে আগেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নেন তিনি।

জাইলস বলেন, "ভ্রমণ শুরু করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল নিজের আবেগ থেকে পালানো। তবে, নতুন নতুন জায়গায় ভ্রমণের ফলে তার মধ্যে অনেক ইতিবাচক চিন্তারও তৈরি হয়েছে।”

সাধারণভাবে চলাচল

জাইলস খুবই কম খরচের মধ্যে ঘোরাঘুরি সারেন। যেকোন জায়গায় তিনি গণপরিবহন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। থাকার ক্ষেত্রেও একদমই সাদামাটা আবাসস্থল পছন্দ করেন তিনি।

"একদম সাদামাটা পরিবেশে থাকতে পছন্দ করি আমি - এরফলে আমার সব ইন্দ্রিয় জাগ্রত থাকে।"

সবকিছু স্পর্শের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করেন জাইলস। অনুভবের মাধ্যমে পরিচয় পেতে চান বিভিন্ন বস্তুর। কখনো কখনো স্থানীয় মানুষ ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গাইড ভাড়া করেন জাইলস। মানুষের সাথে কথা বলে ও অন্যদের কথা শুনে নিজের মনে সবকিছুর একটি চিত্র তৈরি করেন তিনি।

দর্শনীয় জায়গার অনেক জায়গার ছবিও তুলেছেন। সেসব ছবি জাইলস নিজে উপভোগ করতে না পারলেও তার ওয়েবসাইটগুলোতে দর্শকরা সেসব ছবি দেখে বিশ্বের নানা জায়গা সম্পর্কে জানতে পারেন।

অনেকসময় মানুষ তার ভ্রমণের নেশা দেখে হতবাক হয়ে যায়। তারা জিজ্ঞেস করে, "একজন অন্ধ ব্যক্তি কেন পৃথিবী ঘুরে দেখতে চাইবে?" জাইলসের উত্তরটা কিন্তু খুবই সহজ, "কেন নয়?"

"আমি কোনো বই বা ট্র্যাভেল গাইড দেখে ঠিক করতে পারি না যে একটি দেশের কোথায় কোথায় আমি যাবো। ঐ তথ্যগুলো ভ্রমণের আগেই জানতে হয় আমার। তাই আমি আগে থেকেই আমার সূচি ঠিক করে নেই। মাঝেমধ্যে আমি জানি না যে কারসাথে আমার পরিচয় হবে বা কী হতে যাচ্ছে এবং আমার কাছে সেটিই আসল অ্যাডভেঞ্চার।"