• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

জাতিসংঘ: ৩ ফুট বেড়ে যাবে সমুদ্রের স্তর

  • প্রকাশিত ০৩:৩৫ বিকেল সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯
জলবায়ু
বরফ গলছে দুই মেরুতে। উত্তরমেরু অঞ্চলে বরফ গলার হার সবথেকে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘সমুদ্রের স্তর বেড়ে গেলে ২১০০ সালের মধ্যে যেসব উপকূলবর্তী এলাকায় আগে একশো বছরে একবার বন্যা হত, সেখানে প্রতিবছরই বন্যা হবে’

উত্তরমেরু ও নিকটবর্তী এলাকার বরফ ইতোমধ্যেই গলতে শুরু করেছে। এরপরে হিমালয় ও দক্ষিণ মেরুতেও হিমবাহ, বরফের স্তর অত্যন্ত দ্রুত হারে গলে যাবে। সমুদ্রের নিচের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মাছের ভাণ্ডার কমবে দ্রুত হারে, ফলে খাদ্যসঙ্কট অবশ্যম্ভাবী। গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনের এধরনেরই প্রত্যক্ষ প্রভাব টের পাওয়া যাবে অদূর ভবিষ্যতেই।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পেশ করা জাতিসংঘের পরিবেশ সংক্রান্ত প্যানেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আশংকাজনক পূর্বাভাস উঠে এসেছে।

গত অক্টোবরে জাতিসংঘের এই প্যানেল প্রকাশিত আরেক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে বড়জোর ২০৩০ পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এরপরই ৩৬টি দেশ থেকে ১শ’ জনেরও বেশি বিজ্ঞানীকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। গত কয়েকমাসে দু’টি প্রতিবেদন পেশ করেছেন তারা। বুধবার জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত শীর্ষবৈঠকে তৃতীয় তথা চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হয়।

পরিবেশ প্যানেলের ভাইস চেয়ারপার্সন কো ব্যারেট জানান, ‘‘এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই প্রথম পরিবেশ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রত্যন্ত প্রান্তে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারা হিমালয়েও গিয়ে কাজ করেছেন, আবার মেরু অঞ্চলেও গিয়েছেন এবং তারা দেখেছেন যে, এইসব প্রত্যন্ত এলাকাতেও জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’’

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানহারেই যদি কার্বন গ্যাস নির্গমন চলতে থাকে, তাহলে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর তিন ফুটেরও বেশি বেড়ে যাবে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায়, যেখানে আগে একশো বছরে একবার বন্যা হত, সেখানে প্রতিবছরই বন্যা হবে, বিপদে পড়বে এই সব উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ৬৮ কোটি মানুষ।

পৃথিবীতে যে কয়েকটি বরফের চাদরে (আইস শিট)ঢাকা অঞ্চল রয়েছে, এরমধ্যে অন্যতম গ্রিনল্যান্ড। যেটি ইতোমধ্যেই গলতে শুরু করেছে। গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর বেশিমাত্রায় গলে গেলে চারপাশের জলস্তর ২০ ফুটেরও বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বরফ গলছে দুই মেরুতেও। উত্তরমেরু অঞ্চলে বরফ গলার হার সবথেকে বেশি।