• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণ

  • প্রকাশিত ০৫:০১ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩১, ২০১৯
বাবর আলী
প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণে নেমেছেন বাবর আলী সৌজন্য

প্লাস্টিকের ব্যবহার যতো বেশি হবে, বর্জ্য আর দূষণও হবে ততো বেশি। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে সাধ্যমতো বাঁচাতে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন একজন পদব্রাজক

চলতি বছর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী দিয়ে বছরে ২০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে এসে পড়ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচারের (ডব্লিউব্লিউএফ) এক গবেষণার বরাত দিয়ে গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে ৩৩,৮০০টি প্লাস্টিকের বোতল এবং ব্যাগ সাগরে গিয়ে পড়ছে। বছরে যার পরিমাণ ৮০ লাখ টন। ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে গিয়ে মিশবে।

দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াচ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ‘‘২০০৮ সালে পুরো পৃথিবীতে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয় ২৬ কোটি টন। বিশ্বে প্রতিবছর মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয় ৬০ কেজি। উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোতে প্রতিবছর মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ১শ’ কেজিরও বেশি।’’

প্লাস্টিকের ব্যবহার যতো বেশি হবে, বর্জ্য আর দূষণও হবে ততো বেশি। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে সাধ্যমতো বাঁচাতে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন বাবর আলী নামে একজন পদব্রাজক।

বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে কর্মরত ছিলেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের (আইওএম) মেডিকেল অফিসার হিসেবে। তবে ভ্রমণের নেশা তাকে কর্মস্থলে থিতু হতে দেয়নি। চলতি বছরই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, অফিসের চেয়ার নয় পাহাড়ের উঁচু-নিচু রাস্তাই তাকে বেশি টানে।

প্লাস্টিক দূষণ। ছবি: এএফপিএবার তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হেঁটে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করার। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করবেন যাত্রাপথের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারগুলোতে গিয়ে স্থানীয় জনগণকে ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের’ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝাতে।

অক্টোবরের ২৫ তারিখে ঠাকুরগাঁও থেকে যাত্রা শুরু করেছেন বাবর। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা বা ৭ টা থেকে হাঁটা শুরু করে সন্ধ্যা নাগাদ থামেন তিনি। মাঝে দেড়-দুই ঘণ্টা পরপর নেন খাওয়ার চা পানের বিরতি। আর দুপুরে খেয়ে নেন স্থানীয় কোনো এক বাজারে। এভাবে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করতে আনুমানিক ৭০-৮০ দিন লেগে যেতে পারে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান তিনি। তবে বিষয়টি শারীরিক সুস্থতা ও আবহাওয়ার ওপরও নির্ভর করে।

বাবর বলেন, “আমি চেষ্টা করবো যাত্রাপথে স্কুল-কলেজ এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে গিয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে।”

ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা এলেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাবর বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ সাগর-মহাসাগরের মাছের মোট ওজনের তুলনায় প্লাস্টিকের ওজন হবে বেশি।

রংপুরের সাত মাথা এলাকায় এক ভ্রমণসঙ্গীর সঙ্গে বাবর আলী। ছবি: সৌজন্যইতোমধ্যে ৭ টি জেলা পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেছেন এই পদব্রাজক। মাঝে মাঝে একদিনের জন্য তার চলার সঙ্গী হচ্ছেন আগ্রহী কেউ কেউ।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি জায়গায় প্লাস্টিক বিষয়ে সচেতনতার কথা বলেছেন মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে সহজভাবে। রংপুরের তারাগঞ্জ বাজারের একজন চা-বিক্রেতা যিনি কিনা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের কাপে চা বিক্রি করেন, এখন থেকে ওয়ান-টাইম কাপ ব্যবহার করবেন না বলে কথা দিয়েছেন।

প্রতিরাতে বাবর থাকছেন কোনো আত্মীয়-বন্ধু বা পূর্ব পরিচিতদের বাড়িতে। ওইসব বাড়ির লোকজনকেও প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

পরিবেশ সচেতন মানুষটি মনে করেন, একদিনে পরিবর্তন বা মানুষকে প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।