• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫ সিরিয়াল কিলারের রোমহর্ষক কাহিনী!

  • প্রকাশিত ০২:২৭ দুপুর নভেম্বর ৩০, ২০১৯
সিরিয়াল কিলার
প্রতীকী ছবি পিক্সাবে

মার্কিন নারী সিরিয়াল কিলার ক্লিমেনটিন বার্নাবেট কিশোর বয়সে চার্চ অফ দ্য স্যাক্রিফাইস নামে একটি ভুডু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। এই সংগঠনের অনুসারীরা প্রায় ৪০জন ঘুমন্ত মানুষকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে

ক্লিমেনটিন বার্নাবেট

অবাক ব্যাপার হলেও সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সিরিয়াল কিলারের তালিকায় একজন নারীও রয়েছে। তার নাম ক্লিমেনটিন বার্নাবেট। ১৯০০ সালের প্রথম দিকে লুইজিয়ানার লাফায়েতে কৃষ্ণাঙ্গ নারীর পক্ষে জীবনযাপন করা ছিলো খুবই কঠিন। বার্নাবেট ভুডু ধর্ম গ্রহণ করেন এবং কিশোর বয়সে চার্চ অফ দ্য স্যাক্রিফাইস নামে একটি ভুডু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। 

এই সংগঠনের অনুসারীরা প্রায় ৪০জন ঘুমন্ত মানুষকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এভাবে মানুষ হত্যা করে তারা তাদের ধর্ম যাজকদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করতো এবং তারা বিশ্বাস করতো মানুষ উৎসর্গর মধ্যদিয়ে অমরত্ব লাভ করা যায়। এর আগে পৃথিবীতে কোথাও হত্যার এমন নির্মমতার নজির দেখা যায়নি। বার্নাবেট প্রায় ১৭টি হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পৃথিবীর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিরিয়াল কিলার হিসেবে বার্নাবেটকে অভিযুক্ত করা হয়।

ক্লিমেনটিন বার্নাবেট

আর্ল নেলসন

আর্ল লিওনার্ড নেলসন গরিলা কিলার নামেও পরিচিত। ১০ বছর বয়সে নেলসন সাইকেল চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে এবং প্রায় ছয়দিন পর তার জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফেরার পর তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং তার স্মৃতিশিক্তি নষ্ট হয়ে যায়। সে খুব অল্পবয়সেই অপরাধমূলক কাজ শুরু করে এবং দুইবছর জেল খেটে বের হওয়ার পর ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এবার তাকে এক মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বের হয়ে সে মানুষ খুন করা শুরু করে। নেলসনের ভুক্তভোগীদের বেশিরিভাগই নারী ও বাড়ির মালিক। সে তাদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিতো এবং কয়েকদিন সেখানে থাকার পর তাদেরকে হত্যা করতো। সে এভাবে ২০জনেরও বেশি মানুষ হত্যা করেছে। ১৯২৮ সালে সে ধরা পড়ে এবং পরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।

আর্ল নেলসন

প্যাট্রিক কার্নি

কার্নি উইলিয়াম বনিনের দলের একজন সদস্য ছিলো। সে অন্তত ৪৩ জনকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এরমধ্যে ২১জনের হত্যার প্রমাণ মিলেছে। কার্নি এতটাই নিষ্ঠুর ছিলো যে সে ভুক্তভোগীর মৃতদেহকেও লাঠি দিয়ে পেটাতো। মৃতদেহগুলোকে ছোট ছোট টুকরা করে হাইওয়েতে ফেলে রাখতো। কার্নি তার প্রেমিকার কারণে ধরা পড়ে। তবে কার্নিকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে ক্যালফোর্নিয়া কারাগারে আমৃত্যু বন্দি করে রাখা হয়েছিলো।

উইলিয়াম বনিন

উইলিয়াম বনিন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। তাকে ফ্রিওয়ে কিলার নামেও ডাকা হয়। বনিন ভিক্টিমদেরকে অপহরণ করে লজ এঞ্জেলস অথবা অরেঞ্জ কাউন্টিতে নিয়ে আসতো, তারপর সেখানে তাদেরকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করতো। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে বনিন অন্তত ২১ জন লোককে হত্যা করে। ১৫বছর বয়সী ডোনাল্ড রে হিডেনের মৃতদেহ থেকে বনিনের নির্মম নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ডোনাল্ড জীবিত থাকা অবস্থায় তার অন্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছিল এবং তার গলা কাটার চেষ্টা করা হয়েছিলো।

উইলিয়াম বনিন

পল জন নোলেস

তালিকার পঞ্চমস্থানে থাকা এই সিরিয়াল কিলার অন্তত ৩৫ জন নারীকে হত্যা করেছে। এরমধ্যে ১৮টি হত্যার প্রমাণ মিলেছে। ১৯৭৪ সালে জেলের ভেতরে জেল পরিদর্শকের পিস্তল ছিনতাই করতে গিয়ে নোলেস গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

পল জন নোলেস