• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৭ রাত

আইনস্টাইন সম্পর্কে অবাক করা ১০ তথ্য

  • প্রকাশিত ০৭:৩৭ রাত নভেম্বর ৩০, ২০১৯
আইনস্টাইন
বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। সংগৃহীত

আইনস্টাইনের জীবনে বলা প্রথম কথা ছিল, 'এই স্যুপ এতো গরম কেন?'

“জিনিয়াস” শব্দটি উচ্চারণ করলে সবার প্রথমে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের নামটিই আমাদের মাথায় আসে। বিশ্বের সবচেয়ে জিনিয়াস ব্যক্তি হিসেবেও তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আইনস্টাইনের জন্মদিন ১৪ মার্চ-কে “জিনিয়াস ডে” হিসেবে উদযাপন করা হয়। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে জিনিয়াস এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে অবাক করার মতো ১০টি অজানা তথ্য। 

১. যে বছর বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি মৃত্যুবরণ করেন, একই বছর স্যার আইজ্যাক নিউটনের জন্ম হয়। আর বিখ্যাত বিজ্ঞানী জেমস ম্যাক্সওয়েল যে বছর মারা যান, সে বছরই পৃথিবীতে আসেন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। 

২. শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে আইনস্টাইন জার্মান ভাষায় কিছু শব্দ বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই সময় তার পাশে থাকা ব্যক্তিটি জার্মান ভাষা জানতেন না। এজন্য আইনস্টাইনের শেষ কথা আজ পর্যন্ত রহস্যই রয়ে গেছে। 

৩. আইনস্টাইনের কাছে অনেক তরুণ উপদেশ নেওয়ার জন্য আসতেন। তারা তার বিরাট সব সাফল্যের কারণ সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক ছিলেন। এমনই একজন তার কাছে এসে বললেন, “স্যার গোটা বিশ্বের লোক আপনাকে এক নামে চেনে এবং আপনাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। দয়া করে আমাকে বলুন মহান হওয়ার মূলমন্ত্র কী?” উত্তরে আইনস্টাইন মাত্র একটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, “সময়”। 

৪. পৃথিবীর সবচেয়ে জিনিয়াস মানুষ হওয়ার পরও আইনস্টাইনের স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল ছিলো। তিনি মানুষের নাম, তারিখ ও টেলিফোন নম্বর মনে রাখতে পারতেন না। এমনকি নিজের টেলিফোন নম্বরটি বহুবার মুখস্ত করার পরেও মনে রাখতে পারতেন না তিনি। একবার আইনস্টাইনের এক সহকর্মী তার কাছে টেলিফোন নম্বর চাইলে তিনি ডাইরেক্টরিতে নিজের নম্বর খুঁজতে শুরু করলেন। সেই সহকর্মী তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “স্যার আপনি নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে রাখতে পারেন না?” জবাবে আইনস্টাইন বলেছিলেন, “এমন জিনিস মনে রাখার কি দরকার যা আমি বইয়ে খুঁজলে পেয়ে যাবো?” 

৫. আইনস্টাইন তার “General & Special Theory of Relativity”-এর কারণে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, ১৯২১ সালে আইনস্টাইনকে “General & Special Theory of Relativity”-এর জন্য নয় বরং ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট খুঁজে বের করার জন্যই নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিলো। 

৬. পৃথিবী বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী জীবদ্দশায় কখনো কার চালাননি। কারণ, তিনি কার চালাতে জানতেন না। আর সমুদ্রে ভ্রমণপ্রিয় হওয়া স্বত্ত্বেও সাঁতার জানতেন না তিনি।

৭. বাল্যকালে আইনস্টাইনকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে করা হতো। আইনস্টাইনের স্কুলের এক শিক্ষক তো বলেও দিয়েছিলেন, "এই ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না।" তার বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু এই ছেলেটিই একদিন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হয়েছিলো। 

৮. ছোটোবেলায় আইনস্টাইন পড়াশুনায় খুব একটা সুবিধার ছিলেন না। তবে গণিত ছিলো তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। তিনি অন্য সব বিষয় বাদ দিয়ে সারাদিন গণিত নিয়েই পড়ে থাকতেন। ফলে পরীক্ষার খাতায় গণিত ছাড়া অন্য বিষয়গুলোরে খুবই বাজে নাম্বার আসতো। 

৯. জন্মের সময় আইনস্টাইনের মাথা সাধারণ সদ্যজাত শিশুদের তুলনায় অনেকটা বড় ছিলো। চিকিৎসকরা ধরেই নিয়েছিলো যে, শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মেছে। চারবছর বয়স পর্যন্ত আইনস্টাইন কথা বলতে পারতেন না। চারবছর বয়সে আইনস্টাইন খাবার টেবিলে বসে প্রথম কথা বলেছিলেন। তার বলা প্রথম বাক্যটি ছিলো এরকম, “এই স্যুপ এতো গরম কেন?” 

১০. আইনস্টাইন মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এর পেছনে অবশ্য আরেকটা গল্প আছে। আইনস্টাইনের বাবা সুন্দর করে বৃত্ত আঁকার জন্য তাকে একটি কম্পাস এনে দিয়েছিলেন। কম্পাস পাওয়ার পর আইনস্টাইন সারাদিন ভাবতে থাকলেন, কোন শক্তির ফলে কম্পাসের একটি কাটা স্থির থেকে অন্যটি চারপাশে ঘোরে। ব্যাস, তখন থেকেই বিজ্ঞানের পোকা বনে যান।