• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৪ দুপুর

কী হয়েছিলো হিটলারের প্রেমিকাদের পরিণতি?

  • প্রকাশিত ০১:৩৭ দুপুর ডিসেম্বর ১, ২০১৯
হিটলার
প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের সাথে এডলফ হিটলার সংগৃহীত

হিটলারের প্রেমের ফাঁদে পড়ে ৮জন নারী আত্মহত্যা করেছিলেন!

একজন তরুণী যার বয়স মাত্র ১৭বছর, সে কেন একজন ৪০ বছর বয়সী পুরুষের প্রেমে পড়েছিলো আর কেনইবা তার জন্য নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করে দিলো? এর সঠিক উত্তর আসলে পাওয়া যায়নি তবে তারা একজন অপরজনের প্রেমে পড়েছিলো এটা সত্যি।

বলছিলাম হিটলারের প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের কথা । ১৯৩০ সালে যখন ইভা ব্রাউনের সাথে হিটলারের যখন প্রথম দেখা হয় ইভা তখন হিটলারের আসল পরিচয় জানতো না। ইভাকে বলা হয়েছিলো তার নাম হের ওলফ। প্রথম সাক্ষাতে হিটলার ইভার চোখের প্রশংসা করেছিলেন এবং ইভাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেও ইভা এতে রাজি হয়নি। তবে পরেরদিন ইভা আবার হিটলারের সাথে দেখা করে। সে নিয়মিতভাবে হিটলারের সাথে থিয়েটার ও ডিনারে যাওয়া শুরু করে। তখনও কি ইভা জানতো যে এই ব্যক্তিই ভবিষ্যতে স্বৈরাশাসক হিসেবে পরিচিতি পাবে? ইভা তার এক বান্ধবীকে বলেছিলো তার ব্যবহার, তার কথা বলার ধরন সবকিছুই যেকোনও নারীকে দুর্বল করে দেবে এবং আদোতে হয়েছিলোও তাই। ইভা ব্রাউন ও হিটলার কিছুদিন বাদেই গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

অবশ্য তাদের প্রেম শুরু হওয়ার আগে থেকেই হিটলারের গিলি রাউবেল নামে এক নারীর সাথে সম্পর্ক ছিলো এবং তারা একসাথেই থাকতো। এই নারী সম্পর্কে হিটলারের ভাতিজি হয়। হিটলার গিলিকে পৃথিবীর অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় কিন্ত গিলি ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য এক ব্যাক্তিকে বিয়ে করতে ভিয়েনাতে চলে যেতে চায়। এতে হিটলার রেগে যান এবং পরেরদিন গিলিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

হিটলারের প্রেমের ফাঁদে পড়ে ৮জন নারীই আত্মহত্যা করেছিলো । এরমধ্যে ৭জন ছিলো ইভা ব্রাউনের আগে ও ইভা ব্রাউনের সাথে সম্পর্কের পর আরো একজনের সাথে হিটলার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, তার নাম ছিলো রেনাটে মুলার। রেনেটা তৎকালীন এক জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। হিটলারের অন্য সব প্রেমিকার মত রেনেটাও আত্মহত্যা করেন। ইভা সবকিছুই জানতো কিন্তু তারপরও সে তার ভালোবাসার জন্য সব সহ্য করতো। এটাই হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসা।

একসময় ইভা ভাবলো অনেক হয়েছে এবার তাকে একটা কিছু করতে হবে। ইভা আত্মহত্যার জন্য তার বাবার পিস্তল নিয়ে বুকের বা পাশে হৃদপিণ্ড বরাবর গুলি করলেও গুলিটি তার বুকে লাগে । হিটলার ইভাকে দেখতে ফুল নিয়ে হাসপাতালে যায় এবং ইভাকে কথা দেয় যে সে এখন থেকে ইভাকে সময় দেবে।

সত্যিকার অর্থে ইভা হিটলারকে ভালোবাসলেও হিটলার কখনোই একজন ভালো প্রেমিক হতে পারেনি। হিটলার ও ইভার সম্পর্কটিকে হিটলার কখনোইন প্রকাশ্যে আনতে দেয়নি। হিটলার ইভাকে তার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে তার পার্সোনাল সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতো। কখনো কখনো হিটলারের বাসায় তার কোন বন্ধু আসলে হিটলার ইভাকে একটি গোপন কক্ষে লুকিয়ে রাখতো। এই গোপন কক্ষটির হিটলারের বেডরুমের পিছনে ছিলো।

১৯৩৫ সালে হিটলার ইভার সাথে প্রায় ৩মাস যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিলো। ইভা রাগে আবার আত্মহত্যা করতে চাইলো। সে প্রায় ৩৫টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলো। কিন্ত এবারো ইভা বেঁচে যায়। এবারো হিটলার ফুল নিয়ে ইভাকে দেখতে আসে এবং কথা দেন তাকে একটি বাড়ি গিফট করবেন। এসবকিছুই ইভার ডায়রি থেকে পাওয়া যায়।

হিটলারের পরিবারের লোকজন ইভা ব্রাউনকে কখনোই পছন্দ করেনি। হিটলারের সাবেক প্রেমিকা গিলির মা হিটলারের বাড়িতেই থাকতেন। তার নাম এঞ্জেলা রাউবেন। এঞ্জেলা রাউবেন ইভাকে একদমই সহ্য করতে পারতো না । হিটলারের বাড়িতে ইভা বই পড়ে, মুভি দেখে সময় কাটাতো। হিটলার যখন বাড়িতে থাকতো ইভা তখন হিটলারের ছবি তুলে রাখতো । হিটলার না থাকলে ইভা ছবিগুলো দেখতো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে মিত্রবাহিনী যখন জার্মানির দিকে এগুচ্ছিলো তখন সবাই জানতো জার্মানি হেরে যাবে এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনী হিটলারকে মেরে ফেলবে । ১৯৪৩ সালে হেনরিয়েট ভন শিযার্চ, হিটলারকে ভুলে গিয়ে জার্মানি ছেড়ে পালাতে বলেছিল কিন্তু ইভা তা নাকচ করে দেয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে বাঙ্কারের সবাই মৃত্যু প্রহর গুণছে । হিটলারের সাথে শুধু কয়েকজন বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। হিটলারের প্রেমিকা ইভা ব্রাউন ও হিটলারের পোষা কুকুর ব্লন্ডিও তার সাথে আছে। বলা হয়ে থাকে ব্লন্ডি ছিলো ইভার শত্রু । ইভার অভিযোগ অনুযায়ী ব্লন্ডির প্রতি হিটলারের ভালোবাসা ইভার চেয়েও বেশি ছিলো। একবার রাতের খাবারের টেবিলের নিচে কুকুরটি ঢুকে পড়ে ইভা তখন ব্লন্ডিকে জোরে একটি লাথি মারে এতে হিটলার ইভার প্রতি ক্ষুদ্ধ হন।

যুদ্ধক্ষেত্রের বাঙ্কারের অবস্থান করা এক নার্সের বিবৃতি অনুযায়ী বাঙ্কারের সবাই যখন বুঝতে পারে সবকিছু শেষ, বাঁচার আর কোনও উপায় নেই তখন হিটলার ব্লন্ডিকে সায়ানাইড ক্যাপসুল খাইয়েছিলেন । ক্যাপসুলটি কার্যকর কিনা তা দেখতে আগে ব্লন্ডিকে খাওয়ানো হয়। কুকুরটি মারা যাওয়ার পর হিটলার কাঁদতে লাগলো, হিটলারের মত আরো অনেকেই কাঁদলো। 

তবে, এরপর যখন ইভা সায়ানাইড ক্যাপসুল খায় ও মারা যায় তখন কারো মুখেই মন খারাপের কোন চিহ্ন দেখা যায়নি। এভাবেই মৃত্যু হয় একজন অবহেলিত প্রেমিকার যে সত্যি সত্যি ভালোবাসতো একজন স্বৈরাশাসককে যে ছিলো প্রেমিক হিসেবে প্রকৃত অর্থে একজন ধোঁকাবাজ ।