• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ক্রিকেট : টেস্ট থেকে টি২০

  • প্রকাশিত ০২:৪৩ দুপুর ডিসেম্বর ১, ২০১৯
লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অভিজাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লন্ডন সংগৃহীত

এই খেলাটি বেশিরভাগ সময় গ্রেট ব্রিটেনে খেলা হয়েছিল এবং ব্রিটিশরাই ১৯ শতাব্দীতে কমনওয়েলথ দেশগুলিতে এটা প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়

ইতিহাসের পাতায় ১৭২৫ সালে ক্রিকেট খেলাটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে এই খেলাটি বেশিরভাগ গ্রেট ব্রিটেনে খেলা হয়েছিল এবং তারা ১৯ শতাব্দীতে কমনওয়েলথ দেশগুলিতে এটা প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়। তবে বিশ্বের কেবল ১১টি দেশ টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি- তিনটি ফর্ম্যাটেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে থাকে। আসুন আমরা এই ভদ্রলোকদের খেলাটির শিকড় থেকে আধুনিক যুগে বিবর্তনের গভীরে ডুব দেই!

টেস্ট

আধুনিক সময়ে ক্রিকেটের এই ফরম্যাটটি ৫দিন ধরে চলে, উভয়দলই ম্যাচে দু'বার ব্যাটিং ও বল করার সুযোগ পায়। এই সুযোগের প্রতিটি একটি ইনিংস হিসাবে পরিচিত। অর্থাৎ, টেস্ট ম্যাচগুলি চারটি ইনিংসের।

তবে অতীতে এটি ছয়দিনের ব্যাপার ছিল। তৃতীয় ও চতুর্থদিনের মধ্যে একদিনের বিশ্রাম ছিল। অর্থাৎ ছয়দিন ধরে চললেও অবশেষে এটা পাঁচদিনেরই খেলা ছিল। যাইহোক, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ফিটনেস লেভেলের পরিবর্তন হয়েছে। এখন একটানা পাঁচদিন ধারাবাহিকভাবে খেলে বিশ্রামের দিনটা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস অনুসারে, আন্তর্জাতিক স্তরে এই খেলাটি ১৯ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে খেলা হয়েছিল। এটি ছিল ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটের, যার নাম টেস্ট। তবে আধুনিক যুগে এসে তারা এখন আর এই টেষ্ট খেলায় আধিপত্য করা দূরে থাক, এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরে তার টেষ্ট ক্রিকেটে অংশই নিতে পারে না। এখন টেস্ট ক্রিকেট খেলায় আধিপত্য করছে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদির মতো কমনওয়েলথ দেশগুলি।

ওডিআই

ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট সংক্ষিপ্ত নাম ওডিআই দ্বারা সুপরিচিত। সীমিত ওভারের এই ফরম্যাটে প্রতিটি দল একবার করে বোলিং ও ব্যাট করার সুযোগ পায়। সুতরাং, এটি একটি দুই ইনিংসের খেলা। প্রতিটি ইনিংসে ৫০ ওভার থাকে। অর্থাৎ প্রতি ইনিংসে ৩০০টি আইনসম্মত (ওয়াইড বল এবং নো-বল বাদে) বল করতে হয়। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে একদিনে এক ইনিংসে প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা করে ও দুই ইনিংসের মধ্যে ৪৫মিনিটের বিরতি নিয়ে খেলা হয়। অর্থাৎ এটি একদিনে প্রায় এক ৮ ঘণ্টার একটি খেলা।

অন্যান্য জনপ্রিয় খেলাগুলির মতো প্রতি চারবছরে একবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করার জন্য সমসাময়িক ক্রিকেটে এই ফরম্যাটটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

টি২০

টুয়েন্টি-২০ ক্রিকেট বা টি-টোয়েন্টি নামে সুপরিচিত এটি আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রিকেটের স্বল্পতম স্বীকৃত ফরম্যাট। ফরম্যাটটি প্রায় ওডিআইর মতই, ব্যতিক্রম প্রতিটি ইনিংসে ৫০ ওভারের পরিবর্তে ৫০ ওভার। তাতে করে এটি কেবল মাত্র ৩ঘন্টা ৩০মিনিটের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

এই ফরম্যাটটির বিবর্তন ক্রিকেটে গ্ল্যামার এনেছে। এই ফরম্যাটে দর্শক শ্রোতাদেরকে গেমের মূল মানগুলির চেয়ে বিনোদন বেশি আকর্ষণ করে। যাইহোক এটি জনসাধারণের মধ্যে জনপ্রিয় ফরম্যাট। এর সময় সংক্ষিপ্ততা ও বিনোদনের উপাদানের কারণে বিশ্বজুড়ে গেমটি ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে।

চারবছর অন্তর ওডিআই চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী ওডিআই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মত দু্ইবছর অন্তর টি২০ বিশ্বকাপের প্রচলনও শুরু গেছে।

এখানে লক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টেস্ট ফরম্যাটটি এর কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, একাগ্রতা ও দলের নৈতিকতার মতো গেমের মূল মানগুলির জন্য এখনও ক্রিকেটের সেরা ফর্ম্যাটেই আছে।