• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

জলপরি বা মারমেইড কি সত্যিই আছে?

  • প্রকাশিত ০৪:৫১ বিকেল ডিসেম্বর ২, ২০১৯
জলপরি/mermaid
জলপরি বা মারমেইডের স্থাপনা সংগৃহীত

শব্দের ওপর গবেষণা করে আশ্চর্যজনক একটি তথ্য বের হয়। আর সেই অবাক করা তথ্যটি হলো এই শব্দগুলো আসলে প্রায় ১০০ থেকে ১০০০ প্রাণীর সমুদ্রের নিচে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার শব্দ!

মারমেইড অর্থাৎ জলপরি সম্পর্কে হয়তো আমরা ইতোমধ্যেই অনেক শুনেছি। এরমধ্যে কিছু খবর ছিল মিথ্যে আবার কোন কোনটিকে সত্য বলে দাবি করা হয়েছে। আর আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মারমেইড সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। 

তিনজন বিজ্ঞানী ডা. রেবিকা ডেভিস, পল রবার্টসন ও ব্রায়েন মারমেইড বা জলপরির ওপর গবেষণা করেছিলেন। এরপর সেই গবেষণা অনুযায়ী একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করা হয়েছিলো। সেই তথ্যচিত্রর হিসেব অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে সমুদ্র সৈকতে রহস্যজনকভাবে মৃত তিমি মাছেরা ভেসে আসতে শুরু করেছিল। আর এই রহস্যজনক ঘটনার তদন্তের ভার এই তিন বিজ্ঞানীকে দেওয়া হয়। 

পরবর্তীতে তারা তদন্ত করে বের করেছিলেন যে সেইসব মাছেরা আঘাতপ্রাপ্ত ছিলো ও তাদের শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছিলো। এর কারণ অনুসন্ধান করার জন্য তারা সমুদ্রের নিচে একটি সুপারসনিক মাইক্রোফোন নামিয়ে দেন এবং সেখানে একটি রহস্যময় শব্দ শোনেন। এই ধরনের কিছু শব্দ ১৯৯৭ সালেও শোনা গিয়েছিল। তবে এবার অনেক দীর্ঘ সময় ধরেই এই শব্দটি বিজ্ঞানীরা শুনেছেন। এই তিন বিজ্ঞানী রহস্যময় এই শব্দের ওপরে গবেষণা চালু রাখেন। আর এদিকে সেই সময়ে প্রায়শই সমুদ্র সৈকতে মৃত তিমি মাছ ভেসে আসতে থাকলো আর আগের মতোই তাদের শরীর ছিল আঘাতপ্রাপ্ত। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই ধরণের অদ্ভুত ভাবে ভেসে আসা এবং একই সময়ে তিমি মাছদের এরকম আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যাওয়ার কারণে একটি ব্যাপার তো ধারণা করাই যাচ্ছিল, আর সেটা হল সমুদ্রের নিচে রহস্যময় কোন কিছু একটা অবশ্যই ঘটছে।  

আর এই কারণে গবেষণাটি আরো জোরেশোরে চালু করা হলো এবং সমুদ্র থেকে অন্যান্য শব্দ ধারণ করে সেগুলোও শোনা হতে থাকলো। কিন্তু আগের ধারণ করা সেই শব্দটির সাথে নতুন ধারণ করা শব্দগুলোর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না এমনকি সমুদ্রের কোন প্রাণীও ওই ধরনের কোনও রহস্যময় শব্দ করে না। পরবর্তীতে এই রহস্য সমাধানের জন্য তারা আরেকজনের বিজ্ঞানীর সাহায্য গ্রহণ করেন। সেই বিজ্ঞানী ছিলেন প্রাণীদের তৈরি শব্দের ওপরে বিশেষজ্ঞ। তিনি এই শব্দের ওপর গবেষণা করে আশ্চর্যজনক একটি তথ্য বের করেন। আর সেই অবাক করা তথ্যটি হলো এই শব্দগুলো আসলে প্রায় ১০০ থেকে ১০০০ প্রাণীর নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার শব্দ।

এরমধ্যে সমুদ্র থেকে তিমি মাছের সাথে ভেসে আসতে শুরু করলো হাঙ্গর আর সেই হাঙ্গরগুলো তিমি মাছের মতোই আঘাতপ্রাপ্ত ছিল এবং এই হাঙ্গরগুলোর শরীরের অনেক অংশ কোনও প্রাণী খেয়ে ফেলেছে। তবে হাঙরের পেটের মধ্যে বেশকিছু রহস্যজনক টিস্যু ও হাড় খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেগুলো ল্যাবে পাঠিয়ে দেখা যায় যে, এগুলো হাঙর অথবা অন্য কোন প্রাণীর শরীরের টিস্যু নয়। এরপর একজন ইভল্যুশন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীকে নিয়ে আসা হয় তিনি সেই হাড়গুলো থেকে গবেষণা করে বলেন এই প্রাণীটি একসময় মাটিতে দুই পায়ে হাঁটতে পারত।

এছাড়াও হাঙ্গরের পেটের মধ্যে পাওয়া হাড়গুলো একসাথে জোড়া লাগিয়ে যা খুঁজে পাওয়া যায় সেটা শুনে আপনারা চমকে উঠবেন। কারণ সেটা ছিল একটা মানুষের খুলির আকৃতি! তবে সেই খুলিতে চোখের অংশটুকু অনেক বড় ছিল। আর তখনই এই প্রশ্ন ভেসে আসে যে এই কি সেই প্রাণী যা কিনা এত বছর ধরে খোঁজা হচ্ছিলো অর্থাৎ এটাই কি জলপরি? 

এই পর্যন্ত এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর ওপরে বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট খুশি ছিলেন এবং তারা এই গবেষণাটি আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। আর এইজন্য তারা ওয়াশিংটন যাওয়ার জন্য ভাবছিলেন। তবে তারা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই পুলিশ হঠাৎ করে এসেই তাদের যাবতীয় সরঞ্জাম ও মৃত প্রাণীর শরীরের অংশসহ সবকিছুই জব্দ করে। অর্থাৎ এই গবেষণা সম্পর্কে তারা জেনে গিয়েছিলেন এবং সেটি আরো সামনে এগিয়ে যাক তারা এটা চাচ্ছিলেন না। বিজ্ঞানীরা ডিএনএ স্যাম্পলগুলো পরীক্ষা করতে পাঠিয়েছিলেন সেগুলোও পুলিশ জব্দ করে নেয়। 

এরপর তারা সাময়িকভাবে গবেষণাটি থামিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তারা এক অদ্ভুত ঘটনা শুনতে পান। কিছু বাচ্চা সমুদ্র সৈকতে খেলার সময় অদ্ভুত একটা জিনিস দেখতে পায়। কী সেই অদ্ভুত জিনিস এটা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা সেই শিশুদের বাসায় যান এবং তাদেরকে জানান যে কীভাবে তাদের গবেষণার সমস্ত তথ্য ও সরঞ্জামাদি পুলিশের জব্দ করেছিল। তাদের কথা শুনে শিশুদের মায়েরা শিশুদের আঁকা একটি ড্রইং দেখান। আর ড্রইংয়ে একটি জলপরি অর্থাৎ মারমেইডের ছবি আঁকা ছিল! 

শুধু তাই নয় সেই শিশুরা বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিডিও দিয়েছিলো। সেখানে একটি অদ্ভুত প্রাণীকে দেখা যায়। আর এই অদ্ভুত প্রাণীটির খুলির সাথে ল্যাবের সেই হাড় জোড়া লাগিয়ে পাওয়া আকৃতি একদমই মিলে গিয়েছিলো। এরপর সেই শিশু ও তাদের পরিবার বিশ্বাস করে শুরু করেছিলো যে মারমেইড আসলে আছে এবং এটা তারা পুরো বিশ্বকে জানাতে চাচ্ছিলো। তবে তখনই সেই শিশুদের বাসায় নৌসেনারা আসে এবং তাদেরকে বোঝাতে শুরু করে যাতে তারা সবাইকে বলে আদতে শিশুরা একটা সিল মাছকেই দেখেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ভিডিওটিও নিয়ে নেওয়া হয়। 

এরপর বিজ্ঞানীরা আরো কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য সমুদ্রে আবারও গবেষণা শুরু করেন। সে ধরণের আরো শব্দ শোনার জন্য তারা আর সমুদ্রে গিয়েছিলেন কিন্তু নৌসেনারা আবরও তাদের থামিয়ে দেন। 

এই ঘটনার পর বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন যে মারমেইডদের বেঁচে থাকার জন্য তাদের অস্তিত্বের খবরটি গোপন থাকাই জরুরি।