• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

অফিসে যেতে দেরি: বসকে জানান বুদ্ধি খাটিয়ে!

  • প্রকাশিত ০৬:১৩ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২, ২০১৯
অফিস-office
কোনও কারণে অফিসে পৌঁছাতে দেরি হতেই পারে। প্রতীকী ছবিসংগৃহীত

আপনার কোনও দোষের কারণে হোক অথবা একদমই দোষ না থাকুক, আপনি বুঝতে পারছেন অফিসে পৌঁছাতে আজ আপনার দেরি হবেই। ঠিক এমন সময়ে আপনার করণীয় সম্পর্কে জানা জরুরি

ঠিক সকাল ৮টায় অফিসে আপনার মিটিং থাকুক বা নাই থাকুক আপনি এটা ঠিকই জানেন যে অফিসে দেরি করে যাওয়া মানেই বসের কিছু কড়া কথা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনার কোনও দোষের কারণে হোক অথবা একদমই দোষ না থাকুক, আপনি বুঝতে পারছেন অফিসে পৌঁছাতে আজ আপনার দেরি হবেই। ঠিক এমন সময়ে আপনার করণীয় কী? আসুন একটু জেনে নেই। 

যতটা সম্ভব দ্রুত হওয়ার চেষ্টা করুন 

আপনি অফিসে বেলা ১১টায় ঢুকছেন আর আপনার বস সেটা কোনভাবেই জানতে পারছে না, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর আপনিও চাইবেন না যে অফিসে ঢুকেই দেরী করার কারণে বসের সামনা-সামনি হতে। যদি দেরি হয়েও যায় তবুও সেটা আপনি চাইলে বসকে জানিয়ে দিতেই পারেন। মোবাইল ফোন আমরা সবাই ব্যবহার করি, এটা দিয়েই কিন্তু বসকে জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। এছাড়া আপনি যেহেতু বুঝতেই পারছেন যে আজকে দেরি হচ্ছে, তাই সেটা অফিসে ঢোকার আগেই বসকে জানিয়ে দেওয়া ভালো। 

হয়ত আপনি ট্রেনে করেই অফিসে যাচ্ছেন আর এদিকে স্টেশনে এসে জানতে পারলেন আপনার ট্রেন আজকে বেশ খানিকটা দেরি করবে। সাথে সাথেই আপনার বসের সাথে যোগাযোগ করে সেটা জানিয়ে দিতে পারেন। আবার এমনটা হতে পারে আপনি কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন আর আজকেই আপনার ছুটির শেষ দিন, এদিকে আপনি রাতেরবেলায় জানতে পারলেন আগামীকাল আপনার ফ্লাইট একটু লেট হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই সেটা বসকে জানিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া হুট করে যদি আপনার সন্তান অসুস্থ হয়ে যায়, আপনাকে তো তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেই হবে। সাথে সাথে বিষয়টা বসকে জানিয়ে দিলে পরবর্তীতে অনেক বিড়ম্বনা থেকে আপনি বেঁচে যেতে পারবেন। 

বিখ্যাত দ্য মিউজ কোম্পানির চিফ টেকনোলোজি অফিসার (সিটিও) ম্যাথিউ ব্রোচস্টেইন এসম্পর্কে বলেন, “আমি সবসময়ই চাই আমার টিমের সদস্যরা আমাকে যেকোনও সমস্যা আগে থেকেই জানিয়ে দেয়। এতে করে আমি কাজের বিষয়ে অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। কেননা, যদি মিটিং শুরু হওয়ার দুই মিনিট আগে কেউ আমাকে জানায় যে তার দেরি হবে তখন আমার পক্ষে সেটা সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

দেরির ব্যাপারে কখনো মিথ্যা বলবেন না

ছোটবেলায় আমরা সবাই পড়েছি যে একটা মিথ্যা ঢাকতে অনেকগুলো মিথ্যার দরকার হয় আর সেটা কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না। আর মিথ্যা বলতে গিয়ে নিজের মিথ্যার জালে নিজেই আটকে যাওয়ার থেকে সত্যটাই বলে দেওয়া ভালো। প্রয়োজনে কোনও ধরনের সাফাই দিতে যাবেন না তবুও জেনে রাখুন মিথ্যের আশ্রয় সুফল বয়ে আনবে না। কেননা, মিথ্যা বলতে যেয়ে ধরা খাওয়ার ঝুঁকি আপনি কখনই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। এছাড়া মিথ্যা বলে ধরা পড়ার পর যখন আপনার কোনও প্রয়োজনে সত্যটাই বলবেন, তখন দেখবেন আপনার সেই সত্যকেও কেউ আর বিশ্বাস করতে পারছে না। আপনার অবস্থা তখন ছোটবেলার পড়া গল্পের সেই মিথ্যেবাদী রাখাল বালকের মতই হবে!   

এলার্ম বাজার পরেও ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে অথবা গাড়িতে তেল ভরতে ভুলে গিয়েছিলেন এমন সব সাদামাটা সত্য বলতে কিছুটা অস্বস্তি লাগলেও সবসময় সত্য বলার অভ্যাস করুন। তাৎক্ষণিকভাবে আপনার সত্যটি একটু সাদামাটা শোনালেও আর আপনার বস সাময়িক অখুশি হলেও পরে যখন দেখা যাবে আপনি অন্যান্য দিন একদম সঠিক সময়ে অফিসে ঢুকছেন তখন এগুলো আর কারো মনেই থাকবে না। 

স্বীকার করুন ও দুঃখ প্রকাশ করুন 

মিউজ কোম্পানির ম্যাথিউ ব্রোচস্টেইন এসম্পর্কে বলেন, “আপনি সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারছেন না আর এদিকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হয়ে গেল। এধরনের ঘটনায় আপনাকে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে নিতে হবে।” 

শুধুমাত্র “আজকে একটু দেরি হয়ে গেল” ধরনের কথা আপনার ভুল শুধরে দেবে না এবং আপনার বসও এই ব্যাপারটা খুব সহজে ভুলে যাবে না। এমনকি একটু বেশি ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে আপনি যদি মন থেকে দুঃখিত নাও হন তবুও দুঃখ প্রকাশ করুন। কেননা যে কোন একজনের দেরি হলে সেটা সহকর্মীদের কাজের মধ্যেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।  

ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য সচেষ্ট হন

অফিসে যেতে আজকে আপনার দেরি হয়েই যাচ্ছে, এব্যাপারে আপনার হয়ত কিছুই করার নেই। তবে আপনি যেটা করতে পারবেন সেটা হল, এই ব্যাপারে সঠিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারবেন। আপনার বসকে এবিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ফোন অথবা ম্যাসেজ করার সাথে সাথে এটাও জানিয়ে দিন আপনি পরবর্তীতে এটা পুষিয়ে দেবেন। 

আপনার কাজগুলো খুব ভালোভাবে করলেই কিন্তু আপনার ভুল শুধরে যাচ্ছে। যেমন আপনি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন, এর ফাঁকে অফিসের মেইলগুলোর উত্তর দিয়ে দিতে পারেন অথবা কাজগুলো শেষ করে অফিস থেকে একটু দেরি করেই বের হলেন। এছাড়া সকালে যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনও মিটিংয়ে যোগ দিতে না পারেন তাহলে কীভাবে সেটা পুষিয়ে দিতে পারবেন সেই সমাধানের ব্যাপারে সচেষ্ট হন। সে যাইহোক, আপনার এই ছোট ভুলটি যাতে বস মনে না রাখে সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজের মাধ্যমে বসকে একটু খুশি রাখার চেষ্টা করুন। 

এছাড়া যখন দেরির ব্যাপারে বসের সাথে যোগাযোগ করবেন, তখন তাকে জানিয়ে দিন যে আপনার হাতে যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে আপনি যথেষ্ট মনযোগী এবং সঠিক সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দেওয়ার সর্বোচ্চ ষ্টা করবেন। 

বেলা শেষে বসকে ধন্যবাদ দিন 

অফিস শেষ হয়ে গেলে, দেরি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য বসকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়াটা আপনার বিচক্ষণতারই পরিচয় দেয়। তবে বস যদি বিষয়টি ইতোমধ্যেই ভুলে গিয়ে থাকে তাহলে পুনরায় সেটা মনে করিয়ে দিতে ইচ্ছে না করলেও, দেরি হওয়ার জন্য অফিসের কাজে যদি একটু সমস্যা হয় তাহলে সে ব্যাপারে বিবেচনা করার জন্য বসকে ধন্যবাদ জানাতে কখনই ভুলবেন না।

আপনার কি প্রায়ই দেরি হচ্ছে কিনা সেবিষয়ে অবগত হন 

মাঝেমধ্যে অফিসে যেতে দেরি হতেই পারে। এমনটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে, আর মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা তেমন কোন বড় বিষয় নয়। 

তবে এমনটা যদি প্রায় সময়েই ঘটতে দেখা যায় তাহলে আপনার উচিৎ সেব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিশেষ করে, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে বস কিন্তু আপনাকে আর সুনজরে দেখবে না। 

মনে রাখবেন, আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আর সবাই কিন্তু প্রত্যাশা করবে যে আপনি সময়ের ব্যাপারে বিচক্ষণ হবেন। তাই আপনার এলার্ম এর শব্দ একদম বাড়িয়ে রাখুন এবং বাসা থেকে প্রয়োজনে ১০ মিনিট আগে বের হয়ে যান। এছাড়া যদি খুবই অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনে অফিসের সময়ের ব্যাপারে বসের সাথে কথা বলে নিন। 

তবে মূল কথা হল, যেকোনও কারণেই হোক অফিসে দেরি করা কখনই কাম্য নয়। তাই অফিসে পৌঁছাতে যেন দেরি না হয় সেদিকে প্রত্যেককেই যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।