• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড!

  • প্রকাশিত ০৯:২৫ রাত ডিসেম্বর ২, ২০১৯
ফুকেট
ফুকেটপিক্সেল

পুরো থাইল্যান্ড জুড়েই দর্শনীয় স্থানের কোনও অভাব নেই আর তার সাথে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রকমের ও নানান ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট

থাইল্যান্ড দেশটি পর্যটকদের প্রচুর আকর্ষণ করার একটি অন্যতম কারণ হল, খুব কম খরচেই আপনি থাইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসতে পারেন। সমুদ্র-সৈকত, নয়নাভিরাম পাহাড়ের সৌন্দর্য, গাছ-গাছালিসহ প্রাণী জগতের ছোঁয়ার সাথে পেয়ে যাবেন অত্যাধুনিক শহর। এই চমৎকার দেশ থাইল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার আগে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান আপনার লিস্টে টুকে রাখতে হবে, তেমনই কিছু পর্যটন এলাকা নিয়ে আমরা আজ আপনাদের জানাবো।

যেভাবে যাবেন

এই দেশটি মূলত পর্যটক দিয়ে ঘেরা আর তাই এই দেশে ঘুরতে যেতে হলে ভিসা প্রসেসিং নিয়ে খুব একটা জটিলতায় ভুগতে হবে না আপনাকে। ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে যেতে হবে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত স্টার সেন্টারের দ্বিতীয় তলায়। উল্লেখ্য যে ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য জনপ্রতি চার হাজার টাকা গুণতে হবে আপনাকে।

একটি ব্যাপার সবসময় মনে রাখবেন আর সেটা হল, কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় সেখানে অগ্রিম হোটেল বুকিং করে গেলে অনেক ধরনের জটিলতা থেকেই বেঁচে যাওয়া যায়। কেননা, এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েই আপনি ট্যাক্সি করে চলে যেতে পারেন আপনার নির্দিষ্ট হোটেলে। ইন্টারনেট চালানো যায় এমন একটি স্মার্ট-ফোন ও গুগল ম্যাপ এখানে আপনাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে অনেক সাহায্য করবে। তবে হোটেল অগ্রিম বুকিং করা না থাকলেও আপনি ব্যাংককে হাতের নাগালের মধ্যেই অনেকগুলো টুরিস্ট হোটেল খুঁজে পাবেন।

পুরো থাইল্যান্ড জুড়েই দর্শনীয় স্থানের কোনও অভাব নেই আর তার সাথে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রকমের ও নানান ধরনের খাবার রেস্টুরেন্ট। এছাড়া এখানকার ব্যাংকক শহরের স্ট্রিট ফুডের কথা আগেই বলেছি। চিংড়ি, চিকেন, হাঁস, বিফসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের সমাহার থাকে এখানকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়।

১) ব্যাংকক

পর্যটন ব্যবস্থার জন্য যে সব শহরের খ্যাতি পুরো বিশ্বজুড়ে, সেগুলোর মধ্যে ব্যাংকক শহরটি বেশ অন্যতম। পর্যটকরা প্রতিনিয়তই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে তাদের অবকাশ জ্ঞাপন করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। 

ব্যাংকক নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এই শহরের ব্যস্ততার কথা। নানা কাজে নানা মানুষ ঘুরে চলছেন এই শহরজুড়ে, একটু খানি অবসরও যেন নেই কারো। তবে এই ব্যাংককে বেশকিছু দর্শনীয় স্থান থাকলেও কেবল মাত্র যদি এই শহরের খাবারের জন্যই আপনি সেখানে যান তবে কথা দিচ্ছি আপনাকে হতাশ হতে হবে না। বিলাসবহুল অনেক খাবারের রেস্তোরাঁ থাকলেও পর্যটকদের মূলত এখানের স্ট্রিট ফুড একটু বেশিই আকর্ষণ করে থাকে।

রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা এই শহর ঘিরে থাকে উৎসবের আমেজ, কেননা এখানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি রয়েছে নাইট ক্লাব, বার ও লাইভ মিউজিকের সমাহার। এছাড়া যদি শহরটির পরিবহন ব্যবস্থার কথাও বলতে হয় তখনও এখানকার চমৎকার ব্যবস্থা আপনাকে হতাশ করবে না।

ব্যাংকক শহরটিতে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক আসতে থাকার কারণে এখানে রয়েছে বিভিন্ন বাজেটের অসংখ্য থাকার ব্যবস্থা।

ব্যাংকক শহর। ছবি: সংগৃহীত

২) ফুকেট

থাইল্যান্ড জুড়ে যে চমৎকার পর্যটন ব্যবস্থাটি কার্যকর রয়েছে তার অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ হচ্ছে ফুকেট দ্বীপটি। একইসাথে বিভিন্ন আমেজের জন্য এই দ্বীপটি বেশ বিখ্যাত, কেননা শুধুমাত্র স্ফূর্তি করতে চাইলেও ফুকেট জায়গাটি আপনাকে এক রঙিন জীবনের সন্ধান দেবে। অপরদিকে ভ্রমণ ও পানির সাথে যদি আপনার যৌথ সখ্য থাকে তাহলে এখানকার বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস ও সমুদ্র-সৈকত আপনার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে আয়োজন করে রেখেছে। এখানকার প্রমথেপ কেইপ জায়গাটি সূর্যাস্ত দেখার জন্য বেশ বিখ্যাত।

হাইকিং থেকে মাছ ধরা ও জেট স্কিং কি নেই এই ফুকেটে! এই সমুদ্র-সৈকতজুড়ে সবসময় বিরাজ করছে এক অন্য আমেজ। এছাড়া এখানকার মুয়া ফাইটক্লাবে আপনি একদম লাইভ রেস্লিং দেখতে পাবেন, যেটা আপনাকে সত্যিই অবাক করে তুলবে। তবে কেবলমাত্র সমুদ্রের সাথেই সন্ধি করে নিলেই হবে না আপনাকে এই ফুকেট শহরটির চমৎকার সব স্থাপনাগুলোও ঘুরে দেখতে হবে।

ফুকেট। ছবি: পিক্সেল

৩) পাতায়া

ব্যাংকক থেকে প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি শহর পাতায়া। এই শহরের পাতায়া সমুদ্র সৈকতটি পর্যটকদের কাছে অনেক বিখ্যাত। সমুদ্রের হাতছানি আর রঙিন রাতের স্পর্শ আপনার ভ্রমণে নিয়ে আসবে অন্য রকমের আমেজ। প্রতিবছর প্রায় লক্ষাধিক পর্যটককে আকর্ষণ করে এই পাতায়া শহরটি। কেননা এই শহরে রয়েছে বিনোদনের সবরকম আয়োজন।

পাতায়া। ছবি: সংগৃহীত

৪) চিয়াং মাই

উত্তর থাইল্যান্ডের রাজধানীও বলা হয়ে থাকে এই শহরটিকে। এই শহরজুড়ে আপনি এক চমৎকার সংস্কৃতি ও প্রকৃতির দ্বৈরথ খুঁজে পাবেন যেটা আপনি আর কোথায় নাও পেতে পারেন। কোন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে এই শহরটি আপনাকে উপহার দিবে প্রায় পাঁচশটিরও বেশি মন্দির। এছাড়া চিয়াংমাইয়ের রাত্রিকালীন চিড়িয়াখানা আপনার ও আপনার শিশু উভয়ের জন্যই হয়ে উঠতে পারে এক চমৎকার বিনোদনকেন্দ্র।

এই শহরের রাতগুলো ব্যাংককের মত অতটা বর্ণচ্ছটায় রঙিন না হলেও আপনাকে একদম পুরোপুরি হতাশ করবে না। এখানে অসংখ্যবার ও বিভিন্ন মার্কেট আপনি প্রায় সবসময়ই খোলা পাবেন। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জিনিষপত্র যদি আপনি কিনতে চান তাহলে এই শহরটি আপনাকে দেবে ঐতিহ্যের এক বিপুল সমাহার।

চিয়াং মাই। ছবি: সংগৃহীত

৫) ক্রাবি

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ভূখণ্ড ও দ্বীপ উভয়ের ছোঁয়া আপনি এখানে পেয়ে যাবেন, যা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে খুবই উপভোগ্য। এই এলাকাতেই রয়েছে থাইল্যান্ডের সবচাইতে সুন্দর দ্বীপ “কোহ ফিফি”, তবে কেন এই দ্বীপকে সবচাইতে সুন্দর বলা হয়ে থাকে সেটা পরিপূর্ণভাবে বুঝতে হলে আপনাকে যেতে হবে সেখানকার “মায়া বে” ও “ফি ফি ভিউ” নামক দুইটি পয়েন্টে। বিশাল সমুদ্র-সৈকত এর সাথে আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমিক হয়ে থাকেন তাহলে এই অঞ্চলটি আপনাকে উপহার দিবে এক চমৎকার ম্যানগ্রোভ জঙ্গল।

এছাড়া আপনি যদি কোলাহল থেকে একটু দূরে প্রকৃতি এবং নিজের সাথে একটু সময় কাটাতে চান তাহলে আপনি চলে যেতে পারেন এখানকার কোহ জুম ও কোহ রক নামক দু’টি দ্বীপে।

ক্রাবি। ছবি: রয়টার্স