• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৩ দুপুর

মোবাইল ফোনে অতি আসক্তিতে বাড়ছে অসামাজিকতা

  • প্রকাশিত ১০:০৪ সকাল ডিসেম্বর ৭, ২০১৯
মোবাইল ফোন
সংগৃহীত

সপ্তাহে অন্তত একবেলা টেকনোলজিকে যথাসম্ভব বর্জন করে যা করতে মন চায় তাই করুন। কানে এয়ারফোন না গুঁজে শুনুন পাখির ডাক

মোবাইল ফোনের ব্যবহারের জন্য মানুষ আজকাল মানুষ থেকেই অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। এমনকি বাবা মার সাথে কথা বলার সুযোগও পায় না আজকাল কার ছেলে-মেয়েরা।

মোবাইলের এই নেশার কবলে শিশু বা বাড়ির সবচেয়ে প্রৌঢ় সদস্য সহজেই মোবাইল-সর্বস্ব হয়ে উঠছেন। মোবাইলে বুঁদ দুনিয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মুখোমুখি আলাপ-আড্ডার অবসর। আবার এই অমোঘ নেশার দুনিয়ায় যার টেকনোলজি ফোবিয়া আছে, তিনি এতকিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছেন না বলে তার স্ট্রেস ও উদ্বেগ বাড়ছে৷ কাছের সম্পর্কে কখনও তার আঁচ এসে পড়ে৷ কখনও সেই চাপ এত বেশি হয়ে পড়ছে যে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ডি টক্সিং বা আসক্তি নিরাময়ের প্রয়োজন হয়।

মনোবিদদের মতে, প্রথম প্রথম বাড়িতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরু করা যেতে পারে এই কাজ। খুব সহজ ক’টা উপায় অবলম্বন করলে বাড়িতেও ডি টক্সিংয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো শুরু করতেই পারেন।

ডি টক্সিংয়ের উপায়

১. টেকনোলজির জন্য যদি স্ট্রেস বাড়ে, অশান্তি শুরু হয়, বুঝতে হবে আপনি ব্যাপারটা সামলাতে পারছেন না। তখন কাজের ও ব্যক্তিগত সময়কে আলাদা করে নিন ৷ বন্ধু ও সহকর্মীদের জানান যে একটা সময়ের পর আর আপনাকে ফোনে, মেইলে বা চ্যাটে পাওয়া যাবে না৷

২. সব যোগাযোগ ছিন্ন করতে অসুবিধা হলে আলাদা ফোন রাখুন। জরুরি দরকারে যেখানে যোগাযোগ করা যাবে।

৩. অবসর সময়ে মেইল বা টেক্সট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলে চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে চেক করতে।

৪. ই-বুকের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনা-সামনি করার চেষ্টা করুন৷ কম সময়ে, ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে সমাধানে পৌঁছাতে পারবেন।

৬. ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও টেক্সটিং বা মেলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সামনে বসে কথা বলা। এতে স্ট্রেস অনেক কম থাকে। তাই খুব দরকার না পড়লে টেক্সট বা হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ছেড়ে সামনা-সামনি দেখা করে বলুন।

৭. ডিজিটাল স্ট্রেসের সবচেয়ে বড় কারণ টেকনোলজি ফোবিয়া। সবাই শিখে নিলো আর আপনি পিছিয়ে রইলেন এই দুঃখ থেকে চাপের জন্ম। টেকনোলজি ফোবিয়া কাটাতে চাইলে প্রথমে বুঝে নিন, যে ব্যাপারগুলো কঠিন কিছু নয়। চাইলেই শিখতে পারবেন। কিন্তু কতটুকু চাইবেন বা আদৌ চাইবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার৷ কাজের বা আনন্দের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু শেখাই যথেষ্ট৷ ট্রেন্ডি হওয়ার লোভে এরচেয়ে বেশি কিছু করলে স্ট্রেসই বাড়বে কেবল৷

৮. পরিবার ও নিজের জন্য রাখা সময়ে যেন টান না পড়ে৷ একঘণ্টা, দু’ঘণ্টা, যতটুকু সময়ই রাখছেন তা যেন যথাসম্ভব কম্পিউটার বা মোবাইল ফ্রি থাকে।

৯. নেটে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বই পড়াও বজায় রাখুন।

১০. বিছানায় যাওয়ার অন্তত দু’এক ঘণ্টা আগে থেকে নেট, মোবাইল সব বন্ধ করে দিন। অনিদ্রার প্রকোপ কমবে।

১১. সপ্তাহে অন্তত একবেলা টেকনোলজিকে যথাসম্ভব বর্জন করে যা করতে মন চায় তাই করুন। কানে আইপডের তার না গুঁজে শুনুন পাখির ডাক।