• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৬ সকাল

রাতের আকাশে মানবসৃষ্ট ‘ফেইক মুন’!

  • প্রকাশিত ১২:২৫ দুপুর ডিসেম্বর ৭, ২০১৯
নকল চাঁদ-fake Moon
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংড়ু শহরে মানবসৃষ্ট চাঁদ স্থাপন করা হবে সংগৃহীত

চীনের বিজ্ঞানীরা বানাবেন কৃত্রিম চাঁদ। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংড়ু শহরে মানবসৃষ্ট চাঁদটি স্থাপন করা হবে

পূর্ণিমার আলোয় সম্পূর্ণ আকাশ থাকে আলোকিত কিন্তু অমাবস্যা হয় ঘুটটুটে অন্ধকার। অমাবস্যার অন্ধকারের থেকে বেশি অন্ধকার আর কি কিছু ভাবা যায়! 

তবে, এখন থেকে অমাবস্যার অন্ধকারেও আলো ছড়াবে চীনের আকাশের চাঁদ। ব্যাপারটা কি হাস্যকর মনে হচ্ছে? না, এটাই সত্যি। চীনের বিজ্ঞানীরা বানাবেন কৃত্রিম চাঁদ। আর এটি আলো ছড়াবে ২০২০ সাল থেকে। চীনের মহাকাশসংস্থা বিশ্বে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম চাঁদ বানাচ্ছে, যা সাহায্য করবে চীনের আলোক ব্যবস্থায়।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংড়ু শহরে মানবসৃষ্ট চাঁদ স্থাপন করা হবে বলে জানা যায়। 

চেংদুর তিয়ান ফু নিউ এরিয়া সায়েন্স সোসাইটির প্রধান উ চুনফেং চীনা সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি’কে বলেন, সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানীতে চেংদুতে একটি কক্ষপথে চাঁদটি বসানো হবে। সিচুয়ানের জিচ্যাং স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে চাঁদটি কক্ষপথে বসানো হবে ২০২০ সালের মধ্যে। প্রথম কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে আরও তিনটি কৃত্রিম চাঁদ বসাবে দেশটি।

কৃত্রিম ওই চাঁদ আসল চাঁদের মতোই সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে রাতের পৃথিবীকে আলোকিত করবে। ওই চাঁদটি মূলত একটি স্যাটেলাইট। বিজ্ঞানীদের মতে সাধারণ মানুষের চোখে মূল চাঁদের চেয়ে ওটি হবে আটগুণ বেশি উজ্জ্বল। আর সড়ক বাতির চেয়ে উজ্জ্বল হবে পাঁচগুণ কম।

কীভাবে কাজ করবে ফেইক মুন?

চায়না ডেইলি বলছে, কৃত্রিম এই চাঁদটি আসলে কাজ করবে যেভাবে একটি আয়না কাজ করে সেভাবে। কৃত্রিম এই উপগ্রহটি সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে পাঠাবে।

বলা হচ্ছে, এই নকল চাঁদ পৃথিবীর ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে এই গ্রহটির চারপাশে ঘুরবে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনও পৃথিবী থেকে প্রায় একই দূরত্বে অবস্থান করছে। তবে, পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ আছে পৃথিবী থেকে তিন লাখ ৮০ হাজার কিলোমিটার ওপরে। যদিও, ফেইক মুনটি দেখতে কিরকম হবে রিপোর্টে তার কোন উল্লেখ নেই। 

উ চুনফেং বলেন, এটি ১০ থেকে ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করবে এবং এর উজ্জ্বলতা হবে আসল চাঁদের আলোর তুলনায় আটগুণ বেশি।তবে তিনি বলেছেন, তাদের নির্মিতব্য এই চাঁদের আলোর উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কিন্তু...কেন? অর্থ বাঁচানোর জন্যে। শুনতে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু চেংডু এরোস্পেসের কর্মকর্তারা বলছেন, রাতের আকাশে একটি ফেইক মুন বসাতে যতো খরচ পড়বে তার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হয় রাস্তায় বাতি বসানোর কাজে।

পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কী?

কৃত্রিম এই চাঁদের আলোটা হবে অনেকটা সন্ধ্যার আলোর মতো। ফলে প্রাণীদের জীবনের ওপর এর তেমন কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।প্রভাব পড়তে পারে রাতে নিশাচর প্রাণীর জীবনের ওপর। 

চীনে সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এটি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বলছেন, এরফলে রাতে চলাচলকারী বা নিশাচর প্রাণীরা বিভ্রান্ত হবে। 

আবার অনেকেই বলছেন, চীনে অনেক শহরে আলোর দূষণ ঘটে গেছে। এখন সেটা আরো তীব্র হবে। ড. সিরিওত্তি বলেছেন, "আলো যদি খুব বেশি উজ্জ্বল হয় তাহলে সেটা প্রকৃতির রাতের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্রাণীরাও।"

আবার কথা হলো, আলোর উজ্জ্বলতা যদি কমই হয় তাহলে আর এটা মহাকাশে বসানোর দরকার কী! 

তবে চীন প্রথম নয় যারা এধরনের কার্যক্রম এর পরিকল্পনা করেছে। এর আগে ১৯৯৯ সালে রাশিয়া সূর্যের আলোকে কৃত্রিমভাবে কাজে লাগানোর জন্য একধরনের পরীক্ষা চালায়। যাতে কক্ষপথে সূর্যের আলো প্রতিফলনের জন্য একধরনের আয়না বসানো হয়। তবে ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।