• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২৭ সন্ধ্যা

জনপ্রিয় ফাস্টফুড ‘বার্গার’!

  • প্রকাশিত ১১:১৭ সকাল ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
বার্গার
ফাইল ছবি। পিক্সাবে

কয়েকশো রকমের বার্গার দেখতে পাবেন আপনি অনায়াসেই। চিজ বার্গার, বিফ বার্গার, বার্গার চিজ ডিলাইট, ডাবল ডেকার বার্গারসহ আরো হরেক রকমের বার্গার। নামের মতো এগুলো খেতেও খুব সুস্বাদু!

বর্তমান প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার ফাস্টফুড। পিৎজ্জা, বার্গার, স্যান্ডউইচ এসব খাবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। এমন কাউকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না যাদের পছন্দের তালিকায় এই খাবারগুলো নেই!

হ্যামবার্গার (ইংরেজি hamburger) (বিফ বার্গার, বার্গার স্যান্ডউইচ, বার্গার বা হ্যামবুর্গ নামেও পরিচিত) বা বার্গার (burger) হচ্ছে একপ্রকার স্যান্ডউইচ সদৃশ খাবার যা দুইপ্রস্থ রুটির মধ্যে রান্না করা কিমা মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়। মাংস হিসেবে সাধারণত গরু ব্যবহার করা হলেও শূকর, টার্কিশ মুরগি বা বিভিন্নরকম মাংসের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে বার্গারে মাংস হিসেবে প্রধানত ব্যবহৃত হয় মুরগি ও গরুর মাংস, এছাড়া কিছু কিছু স্থানে খাসির মাংসের চলও দেখা যায়। বার্গারের রুটি বা বান তৈরিতে প্রধানত গমের আটা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রুটি হিসেবে বানের বদলে সাধারণ দু’প্রস্থ পাউরুটির ব্যবহারও স্বীকৃত। হ্যামবার্গার তৈরি ও পরিবেশনে প্রায়ই সময়ই যে উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে, লেটুস, টমেটো, পেঁয়াজ, শসা, পনির ও সস, যেমন: মাস্টার্ড, মেয়নেজ, টমেটো কেচাপ।

কীভাবে এলো এই খাবারটি?

দুর্ধর্ষ মঙ্গলীয়দের তো চেনেন! ভয়ংকর যুদ্ধবাজ এই মঙ্গলরা তাদের ঘোড়ার জিনের নিচে, গোল করে কাটা গরুর কাচা মাংস রেখে দিতো। ঘোড়ায় চেপে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার পর মাংসের টুকরোগুলো হয়ে পড়তো একদম নরম। চুপসে যাওয়া এই নরম মাংস কাচাই খেতো তারা। ধারণা করা হয় তাদের কাছ থেকেই এই মাংসের খবর পৌঁছায় জার্মানির হামবুর্গে। সেখানেই প্রথম তৈরি হয় গরুর নরম মাংসের রসালো স্টেক। পুরো জার্মানি জুড়েই ছড়িয়ে পড়ে এই স্টেকের সুনাম।ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে এর সুনাম, পায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জার্মান আমেরিকান লাইন কোম্পানি পরিণত হয়।বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানিতে। এই কোম্পানির জাহাজ করে ইউরোপীয় অধিবাসীরা যখন আমেরিকায় যেতেন, তখন এই হামবুর্গ স্টেক দু'টি রুটি দিয়ে চেপে সরবরাহ করা হতো তাদের। এই সময়টাতেই বার্গার পায় এর মূল রূপ। আর হামবুর্গ থেকেই আসে হ্যামবার্গার নামটি। 

১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেইন্ট লুইস ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে প্রথমবারের মতো দর্শনার্থীদের মাঝে পরিবেশন করা হয় এই মজাদার বার্গার। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এর জনপ্রিয়তা। প্রায় একশো বছর আগে ১৯২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে গড়ে উঠে হোয়াইট ক্যাসেল নামের প্রথম বার্গার স্ট্যান্ড। এরপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীজুড়ে। আর এখন তো কয়েকশো রকমের বার্গার দেখতে পাবেন আপনি অনায়াসেই। চিজ বার্গার, বিফ বার্গার, বার্গার চিজ ডিলাইট, ডাবল ডেকার বার্গারসহ আরো হরেক রকমের বার্গার। নামের মতো এরা খেতেও খুব সুস্বাদু!

বাংলাদেশে বার্গারের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশে বার্গারের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। আর সেই বার্গারের ও আবার অনেক রকমের ভিন্নতা। মি.মানিক, বার্গার কিং, আমেরিকান বার্গার, দ্য ব্যাক ইয়ার্ড শেফ, বার্গার এন্ড বুস্ট, ম্যাড শেফ,  টেক আউট,  ওয়াও বার্গারসহ অনেক রেষ্টুরেন্টের বার্গারই খুব জনপ্রিয়। রসালো একটি মাংসের পেটি। ওপরে টমেটো, লেটুস পাতা, চিজ আর দু'পাশে রানের দুটি খণ্ড। প্রথম কামড়েই অকৃত্রিম স্বাদ নিয়ে আসছে আপনার পূর্ণতৃপ্তি!