• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেটিং: সাঁতারুরা সাবধান!

  • প্রকাশিত ১২:১৪ দুপুর ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
সাঁতার
সাঁতার রয়টার্স

যারা পারকিনসন রোগে ভুগছেন তাদের ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন হোক বা না হোক, পানিতে নামা উচিৎ না। কারণ পারকিনসন রোগটি নিয়ন্ত্রণহীন, তাই রোগী নিজেও জানতে পারবে না কখন সে পানিতে ডুবে যাবে’

পারকিনসন রোগটি হল মস্তিষ্কের ক্ষয়িষ্ণুতা। অর্থাৎ আস্তে আস্তে মস্তিষ্কের ক্ষয় হওয়া। এরফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাত-পা কাঁপতে থাকে। মারাত্নক এই রোগের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বর্তমানে ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেটিং করা হয়। এপদ্ধতিতে রোগীর মস্তিষ্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করা হয়।

সম্প্রতি জুড়িখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ভয়াবহ এক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের গবেষণা নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন পেশাদার সাঁতারু কিছুদিন আগে তার বাড়ির পাশের লেকে হঠাৎ করে ঝাঁপ দেন। পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তিনি আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করেন, তিনি সাঁতার কাটতে পারছেন না। এমনকি তিনি শত চেষ্টা করেও উপরে ভেসে থাকতে পারছিলেন না। সেসময় যদি তার স্ত্রী সেখান উপস্থিত না থাকতেন তাহলে হয়ত তিনি পানিতে তলিয়েই যেতেন।

আর সেই সাঁতারু ভদ্রলোক বেশ কিছুদিন আগে থেকে পারকিনসন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইলেকট্রনিক ব্রেইন ব্যবহার করছিলেন। পানিতে থাকাকালীন তিনি কোনভাবেই তার হাত-পা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না।

গবেষণাপত্রটি বলছে তারা ৯জন পেশাদার সাঁতারুর ওপর এই গবেষণা চালান, যাদের সবাই পারকিনসন সমস্যায় ভুগছেন। এই ৯জনের মধ্যে ওই সাঁতারু ব্যক্তিও একজন।

৯জনের তিনজন পানিতে নেমে কৃত্রিম স্টিমুলেটর বন্ধ করে দেখেন তারা সঙ্গে সঙ্গে সাঁতারের ক্ষমতা ফিরে পান। অথচ যেই স্টিমুলেটরটি অন করেন তখনই তারা আবার সাঁতার কাটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক দলের একজন গবেষক ড. ক্রিশ্চিয়ান আর বোওম্যান এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু যখন দেখেন একই সমস্যা আরো একজন সাঁতারু প্রতিযোগীর হয়েছে তখনই তারা এবিষয়ে সজাগ হন এবং ২৫০ জন পারকিনসন রোগীর মধ্য থেকে সাতজনকে খুঁজে পান, তাদের সবার একই সমস্যা ধরা পড়েছে। 

তবে ড. বোওম্যান বলেন, "আমি মনে করি খুব অল্পসংখ্যক রোগীর সাথেই এমনটি ঘটেছে। কারণ অন্য অনেক রোগীকেও মস্তিষ্কের ঠিক একই স্থানে উদ্দীপনা দিয়ে দেখা গেছে তারা খুব ভালোভাবেই সাঁতার কাটছেন, যেমনটা আগে কাটতেন। আমরা জানি না কেন এমন হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আমাদেরকে বিষয়টাতে আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।"

ড. বোওম্যান যেসব রোগীর মস্তিষ্কে কৃত্রিম উদ্দীপনা গ্রহণ করছেন তাদেরকে গভীরজলে নামতে মানা করেছেন।

শুধু জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, এর আগে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়াতেও এমন সমস্যা দেখা গিয়েছিল। সেখানেও একজন পারকিনসন রোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকাকালীন সাঁতার কাটতে পারছিলেন না। এমনকি তিনি ভেসে থাকার পদ্ধতিও ভুলে গিয়েছিলেন। তার হাত পা এলোমেলোভাবে নড়ছিল। কিন্তু স্টিমুলেশন বন্ধ করা মাত্রই সাঁতার কাটতে পারেন।

পারকিনসন ফাউন্ডেশনের মেডিকেল ডিরেক্টর ড. মিখাইল এস ওকুন মনে করেন, এই রোগ নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, যারা পারকিনসন রোগে ভুগছেন তাদের ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন হোক বা না হোক, কেউ যেন পানিতে না নামেন। কারণ পারকিনসন রোগটিও নিয়ন্ত্রণহীন। তাই রোগী নিজেও জানতে পারবে না কখন সে পানিতে ডুবে যাবে।