• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মরণে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘সেই আমি’

  • প্রকাশিত ১২:৩০ দুপুর ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জীবনী নিয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘সেই আমি’ সংগৃহীত

টেলিফিল্মটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ড. মইনুল খাঁন আর এটি পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অবদানের কথা স্মরণ করে তার জীবনী নিয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ টেলিফিল্ম “সেই আমি”। টেলিফিল্মটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ড. মইনুল খাঁন আর এটা পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা। অভিনয় করেছেন আরমান পারভেজ মুরাদ, নাজনীন হাসান চুমকী, রুনা খাঁন, সম্পাতি মাসুক, সায়েম সামাদ, আজম খান, অরিত্রাসহ আরও অনেক গুণী শিল্পী।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে টেলিফিল্মটি চ্যানেল আই’তে বিজয় দিবয়ের বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় প্রচারিত হয়।

সেখানে দেখা যায়, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাকিস্তান আর্মিদের থেকে পালিয়ে আসেন এবং তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি মিলিটারি তাকে খুঁজতে তার গ্রামের বাড়ি আসে। সেখানে তাকে খুঁজে না পেয়ে পাকিস্তানি সেনারা এক রাজাকারের সহযোগিতায় হাজির হয় তার নানা বাড়িতে। তাদের ধারণা ছিলো যে হয়তো নানাবাড়িতেই পাওয়া যেতে পারে জাহাঙ্গীরকে। তবে বিষয়টি তেমন হয়নি কারণ তিনি এর আগেই জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে চাঁপাইনাবাবগঞ্জে যুদ্ধ শুরু করেন।

আর্মিরা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে না পেয়ে তার নানা-নানিকে ঘরের ভেতর রেখে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয় এবং পুরো ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় আর সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। পাশের বাড়ির আত্মীয় কালুমীর ও বেগম বিবি বিষয়টি জানার পর তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এবং মিলিটারিরা কালুমীরের বড় মেয়ে ছিনুর সামনেই বেগম বিবিকে গুলি করে হত্যা করে।

ছিনুর বয়স তখন মাত্র ৭ বছর, তার মনে বেশ দাগ কাটে। চোখের সামনে তার মায়ের এই মৃত্যুকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। ছিনুর বয়স এখন ৫৮ বছর, বিয়ে করে স্বামীকে নিয়ে ঢাকাতেই থাকে। ডিসেম্বর এলেই সেই দুর্বিসহ স্মৃতি গুলো তাকে নাড়া দেয়। কিছুতেই রাতে ঘুমাতে পারে না সে।

একদিন স্বামীকে না বলে রাতের আধাঁরে বেরিয়ে পরে রাতের ঢাকা শহর দেখতে। হাঁটছে ছিনু কিন্তু হঠাৎ পথরোধ করে দুই উত্যক্তকারী, ভাবলেশহীনভাবে দেখে তাদেরকে। দু’জনে দৌড়ে পালায়। রিক্সা নিয়ে ঘুরতে থাকে পুরো শহর, গুলশান ২ নম্বর চত্ত্বরে এসে নামে। নিজের চোখে দেখে কীকরে মাদক ও অস্ত্র কেনা-বেচা হচ্ছে। বিষয়টি ছিনু দেখে ফেলায় সেসব সন্ত্রাসীরা তাকে পিছু ধাওয়া করে। কোনমতে এই যাত্রায় বেঁচে যায় ছিনু। আবার রিক্সায়। রিক্সা চলছে দ্রুতগতিতে। 

রাত ২টায় মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখে, এক নারীর লাশ পড়ে আছে আর পাশে নারীটির ছোট মেয়েটি কাঁদছে। ছিনু জানতে পারে কিছুক্ষণ আগে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন নারীটি। গুলি করে মারা হয়েছে  তাকে। এভাবেই এগিয়ে যায় কাহিনী..।