• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০ রাত

বাড়িতে কোন পাত্রে পানি রাখবেন, পান করবেন

  • প্রকাশিত ০১:২১ দুপুর ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
পানি
পানির অপর নাম জীবন। তাই তা ধরে রাখার পাত্রও নির্বাচন করুন সচেতনভাবে সংগৃহীত

অনেকে আবার কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল ধুয়ে তাতে পানি ভরে মাসের পর মাস খেয়ে যান। কখনও ভেবে দেখেছেন এগুলো আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কিনা?

অধিকাংশ বাড়িতেই পানি রাখা হয় কোন পাত্রে? এর উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক, প্লাস্টিকের বোতল। এমনকি অফিসে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা ঘুরতে যাওয়ার সময়ে পানি খাওয়ার জন্যও ব্যাগে ভরে নেওয়া হয় প্লাস্টিকের বোতল। অনেকে আবার কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল ধুয়ে তাতে পানি ভরে মাসের পর মাস খেয়ে যান। কখনও ভেবে দেখেছেন এগুলো আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কিনা?

প্লাস্টিকের বোতল নয় কেন?

উত্তরটার অনেকটাই সকলের জানা। প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশদূষণ এড়াতেই বোতল পালটে ফেলা দরকার। তাছাড়া সবরকমের প্লাস্টিকে পানি খাওয়াও ঠিক নয়। বিশেষ করে বাজারচলতি ঠাণ্ডা পানীয় বা পানির বোতল কিন্তু একবার ব্যবহারযোগ্য। সেগুলির পুনর্ব্যবহার কখনও নয়। তাই এই ধরনের বোতল একবার ব্যবহারের পরেই হাতের চাপে ভেঙে রিসাইকল বিনে ফেলে দিন।

বিকল্প কী হতে পারে? 

প্লাস্টিক যখন নয়, এবার প্রশ্ন বিকল্প কী হতে পারে? বাড়িতে রাখার জন্য বা অফিস-কলেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেমন বোতল কেনা যায়?

স্টিল 

আমাদের ছোটবেলায় বেশিরভাগ বাড়িতেই কিন্তু স্টিলের জগ ব্যবহার করা হত। সেই ব্যবস্থাই অনায়াসে ফিরিয়ে আনা যায়। জগ থেকে গ্লাসে ঢেলে পানি খাওয়ার অভ্যেস নতুন করে শুরু করা যায়। এতে পানি খাওয়ার সময়ে বায়ুও প্রবেশ করবে না। ফলে যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। স্টিলের জিনিসের যত্নও সহজ। হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে না। স্টিলের আবার অনেকভাগ আছে। স্টেনলেস স্টিলের বোতল এখন বেশি পাওয়া যায়। এগুলি দেখতে ভাল হয়। ক্যারি করাও সহজ। 

কাচ

একান্তই বোতলে পানি খাওয়ার অভ্যেস হয়ে গেলে কাচের বোতল কিনে রাখতে পারেন। এখন অনেক রকমের ডিজ়াইন করা সুন্দর কাচের বোতল কিনতে পাওয়া যায়। সস, স্কোয়াশ জাতীয় অনেক কিছুই কাচের বোতলে কেনা হয়। সেগুলি না ফেলে, ধুয়ে তাতেই পানি রাখা যেতে পারে। স্টিলের জগ পছন্দ না হলে শৌখিন কাচের জগ রাখুন, তা আপনার অন্দরের শোভাও বাড়াবে। তবে কাচের জিনিস পড়ে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই কাচের বোতল নিয়ে যাতায়াত না করে এর ব্যবহার বাড়িতে করাই শ্রেয়।

মাটি 

কথায় আছে, মাটিই খাঁটি। আগে পানি ঠাণ্ডা রাখতে মাটির জালা বা কুঁজো ব্যবহার করা হত। সে ভাবেই বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যায় মাটির পাত্র। এখন তো মাটির বোতল ও গ্লাসও কিনতে পাওয়া যায়। তার উপরে এঁকে নিলে দেখতেও লাগবে সুন্দর। এই পাত্রে পানি ভরে সাজিয়েও রাখা যায়। তবে ছ’মাস বাদে তা পাল্টে ফেলাই ভালো।

সিরামিক 

সিরামিকের বোতল বা পাত্রও কিনে নিতে পারেন। এতে যেমন জল রাখার সমস্যাও মিটবে। অন্যদিকে সুন্দর নকশা করা সিরামিকের বোতল ডাইনিং টেবিল বা ঘরের তাকে সাজিয়ে রাখলে দেখতেও ভাল লাগবে। সেরামিকের কাপ, গ্লাসও কিনে নিতে পারেন বোতল বা জগের জুড়ি হিসেবে।

লক্ষ্যনীয় বিষয়সমূহ

১. বোতলে পানি খেলেই হল না। তা নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। বিশেষত সরু গলা বোতলের নীচ পর্যন্ত হাত পৌঁছায় না। সেক্ষেত্রে বটল ক্লিনার ব্রাশ দিয়ে ভাল করে বোতল পরিষ্কার করতে হবে।

২. বোতলের ছিপি লাগানোর খাঁজেও কিন্তু ময়লা জমে। তাই সেখানেও ভাল করে ঘষে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। 

৩. বোতল পরিষ্কার করেই তাতে পানি ভরে ফেলবেন না। বোতলের জল শুকিয়ে তাতে পানি ভরবেন।

৪. বাচ্চাদের দুধের বোতল কেনার সময়েও খেয়াল রাখবেন, তা যেন বিপিএ ফ্রি হয়। প্লাস্টিকের বোতলের জায়গায় স্টিলের বা কাচের দুধের বোতল কেনাই শ্রেয়। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য গরম জলে দুধ মেশানো হয়। নিয়মিত প্লাস্টিকে তা না করাই ভাল।

৫. একান্তই যদি প্লাস্টিকের বোতলে পানি খান, তাহলে বেশি মাইক্রনের প্লাস্টিকের বোতল কেনা উচিত। সেই বোতল ৪-৫ মাস অন্তর বদলে নিন। একই বোতলে বছরের পরে বছর পানি খাওয়া উচিত নয়।

পানির অপর নাম জীবন। কথাটা ক্লিশে হলেও সত্যি। তাই তা ধরে রাখার পাত্রও নির্বাচন করুন সচেতনভাবে।